চুয়েটে জাতীয় পর্যায়ের প্রযুক্তি ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ‘ট্রাইসেন্ড ১.০’ আয়োজিত

অনুরাশা রাফানাঃ-

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অনুষ্ঠিত হলো জাতীয় পর্যায়ের বহুমাত্রিক প্রযুক্তি ও সৃজনশীল প্রতিযোগিতা ট্রাইসেন্ড ১.০। গত ৯ জানুয়ারি (শুক্রবার) সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে শুরু হওয়া আইইইই চুয়েট উইই অ্যাফিনিটি গ্রুপ স্টুডেন্ট ব্রাঞ্চ কর্তৃক আয়োজিত এ প্রতিযোগিতার সমাপ্তি ঘটে সন্ধ্যায় বর্ণিল আয়োজন ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে।

জাতীয় পর্যায়ের এ আয়োজনে দেশের শীর্ষস্থানীয় মোট ২০টির মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও সংগঠনের প্রায় ২০ টিরও বেশি ক্লাব সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল। এ আয়োজনে মোট ১ লক্ষ ৩৫ হাজার টাকা প্রাইজপুলের আওতায় তিনটি ভিন্ন সেগমেন্টে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। সেগমেন্টগুলো হলো “সচেতন ভবিষ্যৎ, নীতিনির্ধারণী প্রতিযোগিতা, আগামী দিনের স্বপ্ন-ভবিষ্যৎমুখী শিল্পকলা প্রতিযোগিতা”।

প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান সেগমেন্ট ছিল- ‘সচেতন ভবিষ্যৎ’। এ স্টেমভিত্তিক কেস প্রতিযোগিতায় ২০০টিরও বেশি নিবন্ধন থেকে চূড়ান্ত পর্বে অংশ নেয় ১২টি দল। এতে চ্যাম্পিয়ন হওয়ার গৌরব অর্জন করে ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটির টিম র‍্যাম, প্রথম রানারআপ হয় বুয়েটের টিম ইনসাইট্রিক্স এবং দ্বিতীয় রানারআপ হয় চুয়েটে টিম ফুলকপি। ‘নীতিনির্ধারণী প্রতিযোগিতা’ এ চ্যাম্পিয়ন হন মো. জোনায়দুল ইসলাম, প্রথম রানারআপ চুয়েটের মো. আসিফ হাসান এবং দ্বিতীয় রানারআপ রাফিউল হক অয়ন। অন্যদিকে ‘আগামী দিনের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎমুখী শিল্পকলা প্রতিযোগিতা’ এ চ্যাম্পিয়ন নির্বাচিত হন ইবশা রহমান। প্রথম রানারআপ হন চুয়েটের হাসিবুর রহমান তালহা এবং দ্বিতীয় রানারআপ হন অপূর্ব দাস রাজ।

অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রতিযোগিতার বিচারক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিএসআরএম-এর সিনিয়র ম্যানেজার মোহাম্মদ জুয়েল রানা, লাইট ক্যাসলে পার্টনারস এর সিনিয়র ব্যবসায়িক পরামর্শক ও প্রকল্প ব্যবস্থাপনা প্রধান ওমর ফারহান খান, চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের অধ্যাপক সম্পদ ঘোষ এবং পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক আয়শা আখতার।
এছাড়া প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএসআরএম-এর সহকারী ব্যবস্থাপক নুসরাত হক চৌধুরী এবং SIEMENS-এর উপব্যবস্থাপক মুহাম্মদ ইমতিয়াজ হোসেন।

অনুষ্ঠান সম্পর্কে সংগঠনটির সভাপতি মাবরুরা উমামা চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন,“ট্রাইসেন্ড ১.০ র যাত্রা অবশেষে সাফল্যের সাথে শেষ হয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি প্রতিযোগিতার তিনটি সেগমেন্টে বৈচিত্র‍্য রাখার, এবং পাশাপাশি স্টেম ফিল্ডের নারী শিক্ষার্থীদের অগ্রাধিকার দেয়ার। কারণ আমরা মূলত সেই লক্ষ্যেই কাজ করে থাকি।”
অত্র সংগঠনের এর সাধারণ সম্পাদক ফাইরোজ তাসনিম রুহি বলেন, “আমাদের কমিটির যাত্রার শুরু থেকেই ইচ্ছে ছিলো একটি ন্যাশনাল লেভেলের কম্পিটিশন আয়োজন করা। পরিকল্পনার একদম প্রথম ধাপ থেকেই কাজটা আমাদের জন্যে সহজ ছিলো না। নির্বাচনকে সামনে রেখে, নানা প্রতিকুলতা পেড়িয়ে অবশেষে আমাদের ন্যাশনাল ইভেন্ট ট্রাইসেন্ড ১.০ পুর্ণতা পেয়েছে। আশা রাখি পরবর্তী সময়েও এই ধারা অব্যাহত থাকবে।”

চুয়েট মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ‘আগামী দিনের স্বপ্ন, ভবিষ্যৎমুখী শিল্পকলা প্রতিযোগিতা’ এর দ্বিতীয় স্থান অধিকারী হাসিবুর রহমান তালহা নিজের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, “ট্রাইসেন্ড ১.০-এর আয়োজনটি সত্যিই অন্যরকম ছিল। এখানে কিছু ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিল যা সাধারণত চুয়েটে সচরাচর দেখা যায় না। পুরো আয়োজনে অংশগ্রহণ করাটা অত্যন্ত আনন্দদায়ক ছিল। আমার মনে হয় শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধিতে এ ধরণের সৃজনশীল আয়োজন আরও বেশি হওয়া প্রয়োজন।”

এছাড়া অংশগ্রহণকারীরা মনে করেন, সমগ্র আয়োজনটি তরুণদের উদ্ভাবনী চিন্তা, নীতি প্রণয়ন দক্ষতা ও সৃজনশীলতাকে উৎসাহিত করার মাধ্যমে দেশের প্রযুক্তিখাতে একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে ।

উল্লেখ্য আয়োজনটির পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল শীস্টেম, বিএসআরএম, এবং সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেড।