চুয়েট শিক্ষার্থীদের মালয়েশিয়া জয়, আন্তর্জাতিক পুরকৌশল প্রতিযোগিতায় চতুর্থ স্থান অর্জন

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ-

কুয়ালালামপুরের আকাশ তখন ধীরে ধীরে সন্ধ্যার দিকে ঝুঁকছে। আন্তর্জাতিক পুরকৌশল প্রতিযোগিতার বিশাল হলঘরে একে একে ঘোষণা হচ্ছে বিভিন্ন দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের নাম। চারপাশে শত শত শিক্ষার্থী, কেউ উৎকণ্ঠায় হাত মুঠো করে আছে, কেউ আবার টেবিলে চোখ নামিয়ে করছে নিঃশব্দ অপেক্ষা!

বাংলাদেশের একটি ছোট দলও ছিলো তাদের সেই ভিড়ের মাঝেই—নীরব, কিন্তু ভেতরে ভেতরে অদ্ভুত এক টানটান উত্তেজনা।

ঘোষণার শেষ মুহূর্তে এসে যখন সঞ্চালক উচ্চারণ করলেন—“গ্রীনকোর বাংলাদেশ”। তখন যেন সময়টা এক সেকেন্ডের জন্য থেমে গেল। গভীর, চাপা, কিন্তু অদম্য এক আনন্দের মিশেলে আত্মহারা হয়ে উঠলেন চুয়েটের চার শিক্ষার্থী।

প্রতিযোগিতায় শেষ পর্যন্ত তাদের অবস্থান ছিলো চতুর্থ। হংকং, তাইওয়ান, তুরস্ক, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ডসহ এশিয়ার ২৭টি শক্তিশালী দলের সঙ্গে প্রতিযোগিতার পর এই অর্জন— শত বাঁধা পেরিয়ে এ যেন কোনো সাহসী কাব্য!

কিন্তু এই গল্পের সবচেয়ে কঠিন অংশটা মঞ্চে ঘটেনি। ঘটেছিল তার অনেক আগে, প্রস্তুতির দিনগুলোতে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার সুযোগ পাওয়ার পরই সামনে আসে বাস্তবতার দেয়াল। বিদেশে যাওয়া, থাকা, রেজিস্ট্রেশন—সব মিলিয়ে বড় অঙ্কের খরচ। বিশ্ববিদ্যালয়ের সহায়তা নেই। শুরুতে তাই অংশগ্রহণটাই অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।

তবু তারা থেমে যায়নি।

নিজেদের সঞ্চয়, পরিবারের সহায়তা, আর শুভাকাঙ্ক্ষীদের ছোট ছোট অবদান—সব মিলিয়ে ধীরে ধীরে তৈরি হয় যাত্রার পথ। সেই পথটাও সহজ ছিল না। ক্লাস, ল্যাব আর পরীক্ষার চাপের মাঝেও চলেছে কংক্রিট নিয়ে নিরন্তর পরীক্ষা। কখনো রাত গভীর পর্যন্ত মিশ্রণের অনুপাত বদলানো, কখনো একেবারে শুরু থেকে নতুন করে ট্রায়াল।

আর উপস্থাপনার অনুশীলন! সেটা যেন আরেক যুদ্ধ। বারবার একই কথা, একই স্লাইড, একই যুক্তি! যতক্ষণ না প্রতিটি শব্দ আত্মবিশ্বাস হয়ে দাঁড়ায়।

প্রতিযোগিতার মূল চ্যালেঞ্জ ছিল পরিবেশবান্ধব কংক্রিট ও পুনর্ব্যবহারযোগ্য উপকরণ ব্যবহার করে টেকসই সমাধান তৈরি করা। শুধু বানানোই নয়, বরং, চাপ সহনশীলতা পরীক্ষা, প্রযুক্তিগত উপস্থাপনা, এবং বিচারকদের সামনে বাস্তবসম্মত বিশ্লেষণ—সবকিছুই ছিল জটিল। কিন্তু তাদের বুকে ছিল আত্মবিশ্বাস। সেই আত্মবিশ্বাসের তাড়ণাতেই শেষ পর্যন্ত সেই পরীক্ষা তারা উতরে গেছে।

এ বিষয়ে দলের সদস্য নাজমুস সাকিব নাবিল চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, “আন্তর্জাতিক মঞ্চে দেশের প্রতিনিধিত্ব করাটা আমাদের জন্য গর্বের। কিন্তু সবচেয়ে কঠিন ছিল এখানে আসাটাই। নিজেদের চেষ্টায়, অনেক কষ্ট করে আমরা এসেছি। তারপরও দেশের জন্য কিছু করার ইচ্ছাটাই আমাদের এগিয়ে নিয়েছে।”

তিনি আরও বলেন, “ অনেক বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের এমন প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে ফান্ড দেয়। আমাদের দেশেও যদি সেই সুযোগ বাড়ে, তাহলে আমাদের শিক্ষার্থীরা আরও বড় কিছু করতে পারবে।”

শিক্ষকদের চোখেও এই অর্জন অন্যরকম এক স্বস্তি এনে দিয়েছে। অধ্যাপক ড. জি.এম. সাদিকুল ইসলাম বলেন, “শিক্ষার্থীদের এই অর্জন আমাদের জন্য খুবই গর্বের ও আনন্দের। সীমিত সুযোগ-সুবিধার মধ্যেও শিক্ষার্থীদের এই পরিশ্রম সত্যিই প্রশংসনীয়। যথাযথ সহায়তা পেলে তারা আরও অনেক দূর যেতে পারবে।”