চুয়েটে হাতে–কলমে ড্রোন প্রযুক্তি শেখার কর্মশালা ‘এসরো ড্রোনএক্স’ অনুষ্ঠিত

ইবাদ হোসেন:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বইকেন্দ্রিক পড়াশোনার বাইরে গিয়ে হাতে–কলমে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি শেখানোর উদ্দেশ্যে “এসরো ড্রোনএক্স” কর্মশালা আয়োজিত হয়েছে। চুয়েটের মহাকাশ ও রোবোটিকস গবেষণাধর্মী সংগঠন এন্ড্রোমিডা স্পেস এন্ড রোবোটিকস রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এসরো) এই কর্মশালার আয়োজন করে।

১১ জানুয়ারি (রবিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং (পিএমই) বিভাগের সম্মেলন কক্ষে বিকাল ৫ টায় এই কর্মশালা শুরু হয়। শুরু থেকেই উক্ত কক্ষে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভীড় লক্ষ করা যায়। প্রথমদিনে উক্ত কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদের ড্রোন বিষয়ক প্রাথমিক ধারণা দেন অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ তরফদার।

পাঁচ দিনব্যাপী এই কর্মশালায় ড্রোনের মৌলিক ধারণা থেকে শুরু করে ইলেকট্রনিক্স ও পাওয়ার সিস্টেম, কন্ট্রোল সিস্টেম, ফ্লাইট কন্ট্রোলার, অটোপাইলট ও মিশন প্ল্যানিং—সবকিছু ধাপে ধাপে শেখানো হবে। অনলাইন ও অফলাইন উভয় পদ্ধতিতে পরিচালিত এই কর্মশালার শেষ দিনে অংশগ্রহণকারীরা নিজের হাতে একটি কার্যকর ড্রোন তৈরি করার সুযোগ পাবেন। সব ক্লাসের রেকর্ডিং, নোট ও আপডেট সংরক্ষিত থাকবে গুগল ক্লাসরুমে।

উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত থেকে এসরোর উপদেষ্টা,মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. হুমায়ুন কবির বলেন,”বর্তমানে বাংলাদেশে চতুর্থ শিল্পবিপ্লব বাস্তবায়নে ড্রোন প্রযুক্তি একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। কৃষি, অবকাঠামো, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও শিল্পখাতে ড্রোনের ব্যবহার দ্রুত বাড়ছে। এই কর্মশালার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাস্তব ড্রোন সিস্টেমের সঙ্গে সরাসরি কাজ করার সুযোগ পেয়েছে, যা একাডেমিক জ্ঞান ও শিল্পক্ষেত্রের বাস্তব প্রয়োগের মধ্যে কার্যকর সংযোগ তৈরি করেছে। ড্রোন উড়ানোর মাধ্যমে ফ্লাইট কন্ট্রোল ও সিস্টেম ইন্টিগ্রেশনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা সম্ভব হবে,যা ভবিষ্যতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরিতে সহায়ক হবে।”

অংশগ্রহণকারীদের মধ্য থেকে তড়িৎ ও ইলেক্ট্রনিক কৌশল বিভাগের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী সানজানা ইসলাম অবনী জানান,”বর্তমানে ড্রোন খুবই দ্রুত নানা ক্ষেত্রে তার কার্যপরিধি বাড়াচ্ছে। সিনেম্যাটিক শুট থেকে যুদ্ধ ক্ষেত্রে প্রতিটি ধাপেই ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে।এসরোর কল্যাণে আজকে সরাসরি ড্রোন সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারলাম।পাশাপাশি হাতে কলমে ড্রোন বানানোর সুযোগও থাকছে,তাই সেই আগ্রহ থেকেই উক্ত কর্মশালায় অংশ নিয়েছি।”

উক্ত আয়োজন সম্পর্কে এসরোর সভাপতি, যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সজীব কুমার কর চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, “এসরো কর্তৃক আয়োজিত পাঁচদিনব্যাপী এই কর্মশালার প্রথম দিনেই বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ থেকে দুই শতাধিক শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণ কারগরি কর্মশালার ক্ষেত্রে ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। আমরা কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারীদের নিজের হাতে ড্রোন তৈরির সুযোগ প্রদান করছি, যা খুবই ব্যতিক্রম। অংশগ্রহণকারীদের আগ্রহ, নিষ্ঠা ও উদ্যম প্রমাণ করে যে শেখার এই মনোভাব একদিন শুধু চুয়েট নয়, পুরো দেশকে ড্রোন প্রযুক্তিতে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।”

উল্লেখ্য, আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানা যায়, কর্মশালা শেষে বাছাইকৃত শিক্ষার্থীদের নিয়ে একটি দল গঠন করা হবে যার মূল দায়িত্ব হবে বিশ্বমানের ড্রোন প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করা।