গোলাম মোস্তফা তানিম:
দেশের গবেষণা ও একাডেমিক প্রযুক্তি খাতে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে দেশীয় স্টার্টআপ ‘রিসার্চবাডি এআই’। আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ডিওআই (ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেন্টিফায়ার) প্রদানকারী সংস্থা ‘ক্রসরেফ’ এর (ক্রস রেফারেন্স) সদস্যপদ অর্জনকারী বাংলাদেশের প্রথম গবেষণা সংস্থা হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
২০২৫ সালের ১৫ মার্চ আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘রিসার্চবাডি এআই’। প্রতিষ্ঠানটির পেছনে রয়েছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট পাঁচজন তরুণ উদ্যোক্তা।
চুয়েটের তড়িৎকৌশল বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মোহাম্মদ ফাহিম উদ্দীন ও জহিরুল ইসলাম, একই বিভাগের ২০১৪-১৫ শিক্ষাবর্ষের নাহিয়ন বিন নূর, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের জেরিন সুলতানা শাওন এবং ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগের ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষের ইশমাম আহমেদ সোলাইমান মিলে গড়ে তুলেছেন এই উদ্যোগটি।
দলের সদস্য মোহাম্মদ ফাহিম উদ্দীন বলেন, “অনেক শিক্ষার্থী গবেষণায় আগ্রহী হলেও উপযুক্ত সুপারভাইজার খুঁজে পাওয়া বা সঠিক দিকনির্দেশনা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধার মুখে পড়েন। আমাদের লক্ষ্য এই সমস্যার সমাধান করে দেশের গবেষণা ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী করা।”
এই লক্ষ্য পূরণে প্ল্যাটফর্মটিতে রাখা হয়েছে ভার্চুয়াল ল্যাব ব্যবস্থা, যেখানে শিক্ষার্থীরা একজন তত্ত্বাবধায়কের অধীনে গবেষণার শুরু থেকে প্রকাশনা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারেন। নিয়মিত অনলাইন সেশন, আলোচনা, রিসোর্স শেয়ার ও গবেষণাকাজ সুশৃঙ্খলভাবে পরিচালনার পাশাপাশি রয়েছে নিজস্ব এআই সহায়ক ও গবেষণাপত্র অনুসন্ধান ব্যবস্থা।
সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটি তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে একটি উদ্ভাবন অনুদান লাভ করেছে, যা তাদের কার্যক্রমকে আরও এগিয়ে নিতে সহায়তা করবে ।
বর্তমানে প্ল্যাটফর্মটিতে দুই হাজারের বেশি গবেষক যুক্ত রয়েছেন। বিভিন্ন ক্ষেত্রে সত্তরটির এর অধিক ভার্চুয়াল ল্যাব পরিচালিত হচ্ছে। এখান থেকে ইতিমধ্যে বিশটির বেশি গবেষণাপত্র প্রকাশিত হয়েছে এবং আরও অনেক গবেষণাপত্র পর্যালোচনা পর্যায়ে রয়েছে। চীন, ঘানা, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের গবেষকরা এই প্ল্যাটফর্মের সঙ্গে যুক্ত আছেন।
উল্লেখ্য, ক্রসরেফ একটি আন্তর্জাতিক অলাভজনক সংস্থা, যা গবেষণাপত্র, জার্নাল ও বইয়ের জন্য ডিজিটাল অবজেক্ট আইডেন্টিফায়ার প্রদান করে। এই শনাক্তকারী প্রতিটি গবেষণাপত্রকে একটি স্থায়ী ডিজিটাল পরিচয় দেয়, যার মাধ্যমে তা অনলাইনে সহজে খুঁজে পাওয়া যায়। একই সঙ্গে সংস্থাটি গবেষণাপত্রের তথ্য সংরক্ষণ, বিভিন্ন জার্নাল ও প্রকাশনার মধ্যে সংযোগ স্থাপন এবং উদ্ধৃতি বা সাইটেশন ট্র্যাক করার কাজ করে। এর ফলে গবেষণার গ্রহণযোগ্যতা ও আন্তর্জাতিক দৃশ্যমানতা বৃদ্ধি পায়। স্প্রিংগার, ন্যাচার, এলজেভিয়ার এর মতো আন্তর্জাতিক জার্নাল ‘ক্রসরেফ’ এর মাধ্যমে ডিওআই প্রদান করে থাকে।