ইবাদ হোসেন:-
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) দুই দিনব্যাপী এইচভিএসি ডিজাইন কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের ইএমই ভবনে আমেরিকান সোসাইটি অফ হিটিং, রেফ্রিজারেটিং এবং এয়ার-কন্ডিশনিং ইঞ্জিনিয়ার্স (অ্যাশরে) চুয়েট চ্যাপ্টার আয়োজিত সর্বমোট ১০ ঘণ্টার এই প্রশিক্ষণ কর্মসূচি গত ৫ ও ৬ ডিসেম্বর অনুষ্ঠিত হয়। এতে চুয়েটের বিভিন্ন বর্ষের শতাধিক শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। কর্মশালাটি পরিচালনা করেন অ্যাশরে বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের সভাপতি আল–ইমরান হোসেন এবং সিটিটিসি চেয়ার মো. মনিরুজ্জামান বেপারি।
এইচভিএসি এমন একটি প্রযুক্তি যা কোনো ভবনের ভেতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ (গরম ও ঠান্ডা করা), বাতাসের গুণগত মান (পরিষ্কার ও তাজা রাখা) এবং বাতাসের প্রবাহ (ভেন্টিলেশন) বজায় রাখে। আয়োজিত এ কর্মশালায় প্রতিটি সেশন আড়াই ঘণ্টা ধরে পরিচালিত হয়। প্রথম দিনে এইচভিএসি এর মৌলিক ধারণা, ব্যবহৃত উপাদান, ভবনের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা এবং হিটিং ও কুলিং লোড নির্ণয়ের বিভিন্ন ধাপ ব্যাখ্যা করা হয়। সূর্যালোকজনিত তাপমাত্রা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ তাপলোড, বায়ু পরিবর্তনজনিত লোডসহ নানা উপাদান কীভাবে ভবনের তাপমাত্রাকে প্রভাবিত করে, তা হাতে-কলমে শেখানো হয়।
দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনে সাইকোমেট্রিক্স (বায়ুর আর্দ্রতা ও তাপমাত্রা সম্পর্কিত চার্ট) বোঝার পদ্ধতি এবং বিভিন্ন বায়ু–পরিবর্তন প্রক্রিয়া তুলে ধরা হয়। শেষ সেশনে এইচভিএসি ডিজাইন প্রসেস অর্থাৎ সম্পূর্ণ নকশার প্রক্রিয়াটি ধাপে ধাপে ব্যাখ্যা করা হয়। যন্ত্রপাতি নির্বাচন, বায়ুনালী (ডাক্ট) নকশা এবং বাস্তব ভবন–প্রকল্পে ডিজাইনের সময় যে বিষয়গুলো বিবেচনা করতে হয়—সেগুলোও বিস্তারিতভাবে শেখানো হয়।
আয়োজকদের পক্ষ থেকে অ্যাশরে চুয়েট চ্যাপ্টারের সাধারণ সম্পাদক অনীষ দেব তূর্য চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, “দুই দিনব্যাপী এইচভিএসি কর্মশালাটি ছিল শিক্ষার্থীদের পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে এই বিশেষায়িত বিষয়ের বাস্তবমুখী অভিজ্ঞতা সীমিত হওয়ায় শিক্ষার্থীদের প্রস্তুতিতে ঘাটতি থেকে যায়। সেই ঘাটতি পূরণ ও শিক্ষার্থীদের শিল্পক্ষেত্র উপযোগী করে গড়ে তোলার লক্ষ্যেই আমরা এই সেশনটি আয়োজন করি।যারা সার্বিকভাবে আমাদের সহযোগিতা করেছেন,তাদের প্রতি আমরা আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই।শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধি ও শিল্প-প্রস্তুত ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে গড়ে তুলতে আমরা ভবিষ্যতেও এমন প্রযুক্তিনির্ভর ও বাস্তবভিত্তিক কর্মশালা আয়োজন অব্যাহত রাখবো।”
উল্লেখ্য, কর্মশালা শেষে অংশগ্রহণকারী শিক্ষার্থীদের সার্টিফিকেট প্রদান করা হয়, যা ভবিষ্যতে পেশাগত জীবনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে বলে জানা যায়।