আসহাব লাবিব:
সবুজ ও টেকসই স্থাপত্যের ভবিষ্যৎ কেমন হবে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) মিলিত হয়েছিলেন দেশ-বিদেশের শতাধিক স্থপতি, গবেষক ও শিক্ষাবিদ। চুয়েটে দুই দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত “3rd International Conference on Green Architecture” এ ঘটে এই মিলনমেলা। চুয়েট ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) স্থাপত্য বিভাগের Green Architecture Cell এর যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই আন্তর্জাতিক সম্মেলন যা অনুষ্ঠিত হয় গত ৪ ও ৫ ডিসেম্বর।
চুয়েটের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ৪ ডিসেম্বর সকালে সম্মেলনের উদ্বোধন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, তরুণরাই টেকসই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ নির্মাতা। তাঁদের সৃজনশীলতা, গবেষণা ও উদ্ভাবনী দৃষ্টিভঙ্গিই আগামী দিনের বাসযোগ্য পৃথিবী গড়ার চাবিকাঠি। আজকের বিশ্ববিদ্যালয় শুধু জ্ঞানদান নয়, বরং উদ্ভাবন, নীতি প্রভাব ও শিল্পখাতকে রূপান্তরের চালিকাশক্তি।
উক্ত অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান মো. খালেকুজ্জামান চৌধুরী, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, বুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. এস. এম. নাজমুল ইমাম, সম্মেলনের সভাপতি অধ্যাপক ড. আশিকুর রহমান জোয়ার্দার, বুয়েটের অধ্যাপক ড. জেবুন নাসরিন আহমেদ, সহ-সভাপতি চুয়েটের সহযোগী অধ্যাপক কানু কুমার দাশ এবং সম্মেলনের সেক্রেটারি ও চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চৌধুরী সহ আরো অনেকে।
উদ্বোধনের পর মূল আলোচনায় বক্তব্য রাখেন অস্ট্রেলিয়ার ইউনিভার্সিটি অব মেলবোর্নের সহযোগী অধ্যাপক ড. মাসা নোগুচি এবং আরবানা বাংলাদেশের প্রধান স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরী। তাঁরা টেকসই নির্মাণপ্রযুক্তি ও নকশার নানান দিক তুলে ধরেন।
সম্মেলনে দুটি টেকনিক্যাল সেশন ছাড়াও ছিল স্থাপত্য শৈলী প্রদর্শনী যেখানে চুয়েটের স্থাপত্য বিভাগের শিক্ষার্থীরা প্রদর্শন করেন তাঁদের নকশা ও সৃজনশীল ভাবনা। প্রথম দিনের আনুষ্ঠানিকতা শেষ হয় সাংস্কৃতিক পরিবেশনায়।
সম্মেলন সেক্রেটারি ও স্থাপত্য বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ড. সজল চৌধুরী বলেন, এ আয়োজনের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষার্থীদের গবেষণায় উদ্বুদ্ধ করা এবং পরিবেশবান্ধব অবকাঠামো নির্মাণে তাঁদের সচেতনতা বৃদ্ধি। একই সঙ্গে দেশি-বিদেশি গবেষকদের সঙ্গে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের সুযোগ তৈরি করাই ছিল আমাদের লক্ষ্য।
দুই দিনব্যাপী এ সম্মেলনে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডসসহ বিভিন্ন দেশের শীর্ষস্থানীয় একাডেমিশিয়ান, গবেষক ও পেশাজীবীরা অংশ নেন। মোট ১৬টি টেকনিক্যাল সেশন ছাড়াও ছিল পোস্টার প্রদর্শনী, আন্তর্জাতিক পিএইচডি রিসার্চ সেমিনার ও পরিবেশবান্ধব স্থাপত্য নিয়ে পাঁচটি প্যারালেল কর্মশালা। ১৫০টি প্রবন্ধের মধ্যে ৮০টির বেশি প্রবন্ধ উপস্থাপন ও ৪০টিরও বেশি পোস্টার প্রদর্শিত হয়।
সম্মেলনের একজন মূল প্রবন্ধ উপস্থাপক ড. মাসা নোগুচি বলেন, প্রথমবার বাংলাদেশে আসতে পেরে আমি খুবই আনন্দিত। এতো জাঁকজমকপূর্ণ পরিবেশের কোনো সম্মেলন আমি খুব কমই দেখেছি। এজন্যে আয়োজকদের ধন্যবাদ। এমন আয়োজনে আমি আরো বেশিবার অংশগ্রহণ করতে চাই। কারণ এখানকার পরিবেশ আমার খুব ভালো লাগেছে।
উল্লেখ্য, সম্মেলনের পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল নিপ্পন পেইন্ট, বিএসআরএম, সেভেন রিংস সিমেন্ট, ডিবিএল, বাংলাদেশ ইনফ্রাস্ট্রাকচার ফাইন্যান্স ফান্ড লিমিটেড, স্টেলা লাক্সারি স্যানিটারি ওয়ার, টেকনো আর্ট সফটওয়ার ও নেসলে।