চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাংস্কৃতিক সংগঠন জয়ধ্বনি প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত দুই দিনব্যাপী রজতজয়ন্তী উৎসব ‘পঁচিশে জয়ধ্বনি’ এর আজ দ্বিতীয় দিন। এর আগে গতকাল ৪ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) প্রথম) দিনটি ছিল ব্যস্ত ও আনন্দমুখর।
গতকাল সন্ধ্যা ৫টার দিকে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশনার মধ্য দিয়ে এ অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর ধারাবাহিকভাবে ইউএসটিসি, ইউআইইউ এবং কুয়েট নিজ নিজ পরিবেশনা উপস্থাপন করে। পরবর্তীতে অতিথি ও অংশগ্রহণকারী দলগুলোর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে আয়োজকদের পক্ষ থেকে কৃতজ্ঞতার স্মারক প্রদান করা হয়। এশার নামাজের বিরতির পর রাত ৯টায় দ্বিতীয় পর্বের পরিবেশনা শুরু হয়, যেখানে অংশ নেয় আহসানউল্লাহ, বুয়েট এবং শেষ পর্যায়ে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়। এসব পরিবেশনা ও অতিথি সম্মাননা প্রথম দিনের রজতজয়ন্তী উৎসবকে আরও রঙিন ও প্রাণবন্ত করে তোলে।
আজ ৫ ডিসেম্বর(শুক্রবার) উৎসবের দ্বিতীয় দিন মূল আয়োজন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। দুপুরের মধ্যাহ্ন ভোজের পর সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের অংশগ্রহণে ‘জয়ধ্বনি আড্ডা’ শুরু হয়। বিকেলে র্যালি ও কেক কাটার আয়োজন করা হয়। সন্ধ্যার পর শুরু হয় বর্তমান ও সাবেক সদস্যদের যৌথ সাংস্কৃতিক পরিবেশনা। এরপর এশার বিরতির পর প্রদর্শন করা হয় পূর্বে আয়োজিত সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার সেরা ভিডিও কন্টেন্ট। এরপর শিক্ষকদের বক্তব্যের পর রাত সাড়ে নয়টায় থেকে মঞ্চে গান পরিবেশনা করে জনপ্রিয় ব্যান্ডদল ওয়ারফেজ।
এ উৎসবের ব্যাপারে জয়ধ্বনি’র সাধারণ সম্পাদক কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাশফি তাবাসসুম চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, “জয়ধ্বনির এ দীর্ঘ যাত্রায় অসংখ্য শিক্ষার্থী, স্বেচ্ছাসেবী সদস্য ও শুভানুধ্যায়ী তাঁদের সৃজনশীলতা ও পরিশ্রম দিয়ে এ সংগঠনকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন। রজতজয়ন্তী উৎসব তাই আমাদের কাছে শুধু স্মৃতির ফিরে দেখা নয়; এটি নতুন স্বপ্ন দেখার, নতুন পথচলার অনুপ্রেরণা। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের আন্তরিক অংশগ্রহণ আমাদের এই বিশ্বাস আরও দৃঢ় করেছে যে, সংস্কৃতি মানুষের মাঝে সংযোগ তৈরি করে, মননকে প্রসারিত করে। জয়ধ্বনির সামনে এগিয়ে যাওয়ার শক্তি এখানেই।”
জয়ধ্বনির সভাপতি বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী সাদমান সাকিব বলেন, “জয়ধ্বনির ২৫ বছরের এই যাত্রা আসলে আমাদের একসঙ্গে বেড়ে ওঠার ইতিহাস—সংস্কৃতি, বন্ধুত্ব গড়া। রজতজয়ন্তী উৎসব আমাদের কাছে শুধু একটি অনুষ্ঠান নয়; এটি আমাদের স্মৃতি, আত্মপরিচয় ও ভবিষ্যতের স্বপ্নকে এক মঞ্চে তুলে আনার মুহূর্ত। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, সাবেক ও বর্তমান সদস্যদের এমন উৎসবমুখর অংশগ্রহণ আমাদের গভীরভাবে সম্মানিত করেছে। আমরা বিশ্বাস করি, সংস্কৃতির আলো যত ছড়িয়ে পড়বে, ক্যাম্পাস তত প্রাণবন্ত ও প্রগতিশীল হবে। এই উৎসব সেই আলোরই উদযাপন।”
এই উৎসবে আগত বিশ্ববিদ্যালয়ের ২২ আবর্তের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী নুশরাত খানম বলেন, “গতকাল স্টেজ আর সাজসজ্জা দেখে সত্যিই ভালো লেগেছে। সবকিছু খুব সুন্দর ছিল। আজকের অনুষ্ঠানটা নিয়েও বেশ আশাবাদী -মিলনমেলা, র্যালি আর সাংস্কৃতিক আয়োজন মিলিয়ে আজকের দিনটাও ভালো যাবে মনে হচ্ছে।”
বুয়েট থেকে আগত ‘মূর্ছনা’র সভাপতি অনুরাগ দেব বলেন, “এটা সত্যি বলতে আমার জীবনের অন্যতম সেরা পারফরম্যান্সের মতো মনে হয়েছে! আর এর পুরো কৃতিত্ব যায় দর্শকদের কাছে। আয়োজক দলও দারুণ সহায়ক ছিল—চুয়েটে এসে সত্যিই আপন জায়গার মতোই লাগছিল। আমরা আশা করি, ভবিষ্যতে এ ধরনের আরও অনেক সহযোগী পরিবেশনায় একসাথে কাজ করতে পারবো।”