এলইডি স্ক্রিনে বিশ্বকাপ, ব্রাজিলের শেষ মুহূর্তের গোলে উচ্ছ্বাসে ভাসল চুয়েট ক্যাম্পাস

ফাইয়াজ কৌশিকঃ-

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) কেন্দ্রীয় ফুটবল মাঠ যেন গতকাল রাতে রূপ নিয়েছিল আন্তর্জাতিক স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে। খোলা আকাশের নিচে স্থাপিত বিশাল এলইডি স্ক্রিনে ভেসে উঠছিল ব্রাজিল ও জাপানের বিশ্বকাপ নকআউট লড়াই। আর সেই খেলা ঘিরেই ক্যাম্পাসজুড়ে তৈরি হয়েছিল উত্তেজনা, আবেগ আর উচ্ছ্বাসের এক ব্যতিক্রমী আবহ।

মাঠের এক পাশে ঘাসের ওপর বসে, কেউ দাঁড়িয়ে, আবার কেউবা বন্ধুদের সঙ্গে গোল হয়ে বসে মনোযোগ দিয়ে খেলা দেখছিলেন শিক্ষার্থী, শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও স্থানীয় ফুটবলপ্রেমীরা। হলুদ-সবুজ জার্সিতে ব্রাজিল সমর্থকদের উপস্থিতি যেমন চোখে পড়ছিল, তেমনি প্রতিটি আক্রমণে জমে উঠছিল পুরো পরিবেশ।

সোমবার রাতে রাউন্ড অব ৩২–এর এই ম্যাচে শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ছিল ব্রাজিল। বল দখল ও আক্রমণে আধিপত্য থাকলেও প্রথমার্ধে গোলের দেখা পায়নি তারা। বরং ২৯ মিনিটে দানিলোর ভুল পাস থেকে সুযোগ পেয়ে জাপান এগিয়ে যায়। মাঝমাঠ থেকে বল কেটে নিয়ে সানো প্রায় একক প্রচেষ্টায় দূরপাল্লার শটে গোল করলে ব্রাজিল শিবিরে নেমে আসে চাপ।

এরপর প্রথমার্ধে একাধিক আক্রমণ করেও সমতা ফেরাতে পারেনি পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। জাপানের সংগঠিত রক্ষণভাগও বারবার তাদের আটকে দেয়।

তবে বিরতির পর দৃশ্যপট বদলাতে শুরু করে। চাপ বাড়িয়ে খেলতে থাকে ব্রাজিল। একের পর এক আক্রমণের ধারায় অবশেষে সফলতা আসে। গ্যাব্রিয়েল মাগালাইয়েসের ক্রস থেকে কাসেমিরোর হেডে সমতায় ফেরে দলটি। এরপর ম্যাচে উত্তেজনা আরও বাড়ে।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মাঠের পরিবেশও বদলে যাচ্ছিল ক্যাম্পাসে। প্রতিটি আক্রমণে এক মুহূর্তের জন্য থমকে যাচ্ছিল দর্শকের শ্বাস, আর সুযোগ মিস হলে ছড়িয়ে পড়ছিল হতাশার দীর্ঘশ্বাস। এলইডি স্ক্রিনের আলোয় স্পষ্ট দেখা যাচ্ছিল দর্শকদের মুখ—উৎকণ্ঠা আর আশায় স্থির।

নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা সময়েও যখন ম্যাচ ড্রয়ের দিকে এগোচ্ছিল, তখনই আসে নাটকীয় মুহূর্ত। যোগ করা সময়ের ষষ্ঠ মিনিটে গিমারাইজের পাস থেকে মার্তিনেল্লির কোনাকুনি শট পোস্টে লেগে জালে জড়ায়। মুহূর্তেই ফেটে পড়ে চুয়েটের কেন্দ্রীয় মাঠে থাকা দর্শকরা।

কেউ লাফিয়ে ওঠেন, কেউ চিৎকার করেন, কেউ আবার পাশে থাকা সহপাঠীকে জড়িয়ে ধরেন। মোবাইল ফোনের ফ্ল্যাশলাইট জ্বলে ওঠে পুরো মাঠজুড়ে। মনে হচ্ছিল, হাজার মাইল দূরের কোনো স্টেডিয়ামের আবেগ এসে মিশেছে চুয়েটের রাতের আকাশে।

ম্যাচ দেখতে আসা ব্রাজিল সমর্থক স্থাপত্য বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী অর্ঘ্য দাস অঙ্কুর উচ্ছ্বসিত হয়ে চুয়েটনিউজ২৪কে বলেন,”ব্রাজিল সমর্থক হিসেবে আমরা সবসময়ই জানি, শেষ মুহূর্তে ম্যাচ ঘুরিয়ে দেওয়ার এক আলাদা শক্তি এই দলের আছে—আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি। পুরো মাঠজুড়ে যে উল্লাস ছড়িয়ে পড়ে, তা সত্যিই ভাষায় প্রকাশ করার মতো নয়। এটি শুধু একটি জয় নয়, বরং ব্রাজিল ফুটবলের চিরচেনা লড়াকু মানসিকতার আরেকটি উজ্জ্বল উদাহরণ। এই জয় আমাদের মতো সমর্থকদের জন্য এক অবিস্মরণীয় আবেগের মুহূর্ত হয়ে থাকবে।”

খেলা দেখতে এসেছিলেন আর্জেন্টিনার সমর্থকেরাও। জাপানের খেলোয়াড়দের পায়ে বল গেলেই তাঁরা গলা ফাটাচ্ছিলেন। আর্জেন্টিনার সমর্থক পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী তুসার আহম্মেদ বলেন, ‘আমরা জাপানের সমর্থনে খেলা দেখতে এসেছিলাম। জাপান খুবই সুন্দর খেলা উপহার দিয়েছে। ব্রাজিলের উদ্দেশে একটাই কথা, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে সম্ভাব্য ম্যাচের জন্য প্রস্তুত থাকো। এবারের বিশ্বকাপও আমরাই নেব।’

এদিকে খেলা দেখার সময় অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে কি ধরনের ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম চুয়েটনিউজ২৪কে বলেন,” রাতে চুয়েট ক্যাম্পাসে প্রবেশের ক্ষেত্রে আমরা আইডিকার্ড বাধ্যতামূলক করছি। এছাড়া, আরো কোনো ব্যবস্থা নেয়ার প্রয়োজন হলে আমরা সেটিও নিব।”