তিন লাখ টাকা ব্যয়ে সংস্কার, নয় মাসেই খেলার অনুপযোগী চুয়েটের বাস্কেটবল কোর্ট

ফাহিম রেজা ও আসাদুল্লাহ গালিব:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) স্বাধীনতা চত্বরের পাশে অবস্থিত বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল কোর্ট। ১৯৬৮ সালে নির্মিত এই কোর্টটি দীর্ঘ ৫৮ বছরে আর পুনর্নির্মাণ করা হয়নি।

দীর্ঘদিন জরাজীর্ণ থাকার পর প্রায় নয় মাস আগে সংস্কার করা হয় এটি। তবে সংস্কারের অল্প সময়ের মধ্যেই কোর্টটির বিভিন্ন অংশে ফাটল আসা শুরু করে। বর্তমানে উপরের স্তর ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় কোর্টটি কার্যত খেলার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, কোর্টটি গত বছরের সেপ্টেম্বর মাসে ৩ লাখ ১ হাজার ৬৪০ টাকা ব্যয়ে সংস্কার করা হয়। তবে সংস্কারকাজ শেষ হওয়ার এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে কোর্টের বিভিন্ন স্থানে উপরিভাগের সিমেন্ট এর স্তর উঠে যেতে থাকে।

এটি বিশ্ববিদ্যালয়ের একমাত্র বাস্কেটবল মাঠ হওয়ায় শিক্ষার্থীদের খেলাধুলা এবং নিয়মিত অনুশীলন বন্ধ হয়ে গেছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মোস্তফা খালিদ বিন শামস বলেন, “সাদামাটা সংস্কারের পর আমরা কিছুটা খুশি হয়েছিলাম। কিন্তু কয়েক মাসের মধ্যেই দেখা যাচ্ছে ফ্লোর উঠে যাচ্ছে। এতে খেলার সময় পড়ে গিয়ে আহত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়। তবে বর্তমানে পুরো মাঠের আস্তরনে যে অবস্থা সেখানের খেলার মতো পরিবেশ নেই। উল্টো সংস্কারের পূর্বেই মাঠটি খেলার উপযোগী ছিলো।”

এই বিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স হোসনে আরা এন্টারপ্রাইজের প্রোপাইটর রবিউল হোসেনের সাথে কথা বললে তিনি জানান, “আমাদের এই কাজ সম্পন্ন হয়েছে এবং সিকিউরিটি বিল বাদে বাকি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। এই কাজে আমাদের সাথে যে সময়সূচির কথা বলা হয়েছিল তা হতে দুদিন পরে কাজ শুরু করতে বলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রকৌশল অধিদপ্তর। কাজ চলমান অবস্থায় বৃষ্টি থাকার কারণে চূড়ান্ত ফিনিশিং দেওয়া সম্ভব হয়নি। তার চার পাঁচ দিন পর রোদ উঠলে আমরা চুড়ান্ত ফিনিশিং দেই কিন্তু ততদিনে নিচের ঢালাই শক্ত হয়ে যায়। আমরা তখনই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে জানাই যে এই ঢালাই টিকবে না। তখন তারা আমাদেরকে আরো কিছু সংস্কারের কথা বললে সেগুলা সম্পন্ন করে রং করার কাজ করে দেই এবং তারা এই কাজ বুঝে নেয়।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ তারেকুল আলম বলেন, ” বৃষ্টির কারণে নিট সিমেন্ট ফিনিশিং (এনসিএফ) এর কাজটি সময়মতো করা সম্ভব হয়নি। ফলে এটি টেকসই হয়নি। এই বাস্কেটবল কোর্টটি সেই ১৯৬৮ সালের। সেই হিসেবে এর লাইফটাইম ও পার হয়ে গেছে। এটিকে এখন এভাবে সংস্কার না করে নতুন করে নির্মাণ করতে হবে। আমরা সম্প্রতি নতুন একটি বাস্কেটবল মাঠের নকশাও করে ফেলেছি। সামনে অর্থবছরে বাজেট পেলেই এর কাজ শুরু করব।”