আনন্দঘন পরিবেশে চুয়েটে সরস্বতী পূজা অনুষ্ঠিত

শাওকিক ইসলাম জোহা:

প্রতিবছর মাঘ মাসের পঞ্চমী তিথিতে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের বিদ্যা ও সঙ্গীতের দেবী সরস্বতীর পূজা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে। এরই ধারাবাহিকতায় এবারও আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এ আয়োজন করা হয়েছে সরস্বতী পূজার। গতকাল ২৩ জানুয়ারি (শুক্রবার) চুয়েটের পূজা উদযাপন পরিষদের আয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস্কেটবল মাঠে আয়োজিত হয় এ অনুষ্ঠান।

চুয়েটের সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে গতকাল এ পূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয় বলে জানা যায়। পূজা উপলক্ষ্যে গত বৃহস্পতিবার রাত আনুমানিক নয়টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গণে প্রতিমা নিয়ে আসা হলে শিক্ষার্থীরা আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে তাদের মাতৃ আরাধনায় অংশগ্রহণ করেন।

পূজা উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানের এক পর্যায়ে পরিদর্শনে আসেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। এসময় উপস্থিত শিক্ষার্থী ও আয়োজকদের উদ্দেশ্যে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য প্রদান করেন তিনি। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক চর্চার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

এ বিষয়ে পূজা উদযাপন উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক সজল চন্দ্র বণিক বলেন, “চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সনাতন ধর্মাবলম্বী সকল শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও ছাত্রছাত্রীরা পঞ্চমী তিথিতে বাগদেবী সরস্বতী পূজা উদযাপন করে। এই উপলক্ষে সারাদিনব্যাপী বিভিন্ন আয়োজন করা হয়। পূজা উদযাপন উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি হিসেবে সবাইকে আন্তরিক শুভেচ্ছা জানাই এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি মাননীয় উপাচার্য মহোদয় এর কাছে আমাদের অনুষ্ঠান পরিদর্শনে আসার জন্য। আমরা সনাতন ধর্মাবলম্বীরা প্রতিবছর বিদ্যাদেবীর কাছে প্রার্থনা করি যেন আমরা অন্ধকার থেকে আলোর পথে আসি এবং সঠিক জ্ঞানলাভের মাধ্যমে আমরা যেন সমাজকে আলোকিত করতে পারি।”

যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ও পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি কাব্য প্রকাশ চক্রবর্ত্তী তার অভিব্যক্তি প্রকাশ করে বলেন, “প্রতি বছরের ন্যায় এবারও আমরা মায়ের পূজো সুন্দরভাবে সম্পন্ন করেছি, কিন্তু অস্থায়ী জায়গায় পূজা আয়োজন করতে আমাদের নানা ধরনের সীমাবদ্ধতার সম্মুখীন হতে হয়েছে। তাই ভবিষ্যতে সুষ্ঠু ও নিরাপদভাবে পূজা কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আমাদের মন্দিরের জন্য একটি স্থায়ী ও নির্দিষ্ট জায়গা নির্ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

উল্লেখ্য, পূজা উদযাপনের অংশ হিসেবে দিনব্যাপী পূজা অর্চনার পাশাপাশি পুষ্পাঞ্জলি, প্রসাদ বিতরণ, আরতি ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।