এশিয়া অঞ্চলে চতুর্থ স্থান অর্জন করল চুয়েটের ‘টিম এএসসিই’

তানভীর আহমাদঃ

বিশ্বের নির্মাণ প্রকৌশলীদের সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ারস (এএসসিই) পৃষ্ঠপোষকতায় আয়োজিত “এএসসিই স্টুডেন্ট সিম্পোজিয়াম” এর টেকসই সমাধান বিষয়ক প্রতিযোগিতায় এশিয়া অঞ্চলে চতুর্থ স্থান অর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)-এর ‘টিম এএসসিই চুয়েট ’

প্রতিবছর এএসসিই তাদের বার্ষিক এই গবেষণা সম্মেলন আয়োজন করে, যেখানে বিশ্বকে ১০টি অঞ্চলে ভাগ করা হয়। অঞ্চল-১০-এ পাকিস্তান, আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, ভারত, চীনসহ বিভিন্ন দেশের মোট ৪০টি বিশ্ববিদ্যালয় অংশগ্রহণের জন্য আবেদন করে। সেখান থেকে বাছাই করে ১৫টি দলকে চূড়ান্ত প্রদর্শনের সুযোগ দেওয়া হয়। এই ১৫টি দলের প্রতিবেদন ও উপস্থাপনার ভিত্তিতে ‘টিম এএসসিই চুয়েট’ চতুর্থ স্থান অর্জন করে। তাদের প্রকল্পের নাম ছিল “প্রজেক্ট জি.আর.সি — গ্রীন রেজিলিয়েন্ট কম্পিউট ক্যাম্পাস”।

উল্লেখ্য, প্রতিটি অঞ্চলের মূল্যায়ন আলাদাভাবে সম্পন্ন হয় এবং চুয়েট দলের মূল্যায়নও অঞ্চল-১০-এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল। এই অঞ্চলে ভারতের একটি দল বিজয়ী হয়ে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত ফাইনালে অংশগ্রহণের সুযোগ পায়।

বিজয়ী দলের লিডার ও চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী রাইসা শারমিন মুর্তজা জানান, “এটি আমাদের স্টুডেন্ট চ্যাপ্টারের জন্য প্রথমবার আন্তর্জাতিক পর্যায়ে চুয়েটকে প্রতিনিধিত্ব করার একটি গুরুত্বপূর্ণ অর্জন। পুরো যাত্রাটি ছিল কঠিন তবে অত্যন্ত উপভোগ্য এবং শিক্ষণীয়। দলের সদস্যদের অক্লান্ত পরিশ্রম, অগ্রজদের দিকনির্দেশনা এবং অনুষদ উপদেষ্টার সহায়তায় এই সাফল্য সম্ভব হয়েছে। ভবিষ্যতে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা আরও বড় অর্জন করবে এবং একদিন এই গবেষণা সম্মেলন চুয়েট ক্যাম্পাসেই আয়োজন করা সম্ভব হবে।”

এএসসিই চুয়েট চ্যাপ্টারের তথ্য অনুযায়ী, প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী দলে মোট পাঁচজন সদস্য ছিলেন। তারা হলেন—চতুর্থ বর্ষের রাইসা শারমিন মুর্তজা এবং তৃতীয় বর্ষের মো. রাসেল, সানি উল হক, পল্লব বিশ্বাস ও ফাহিম নুজহাত জাহিন। এদের সকলেই অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী।

একই প্রতিযোগিতায় ‘পেপার কম্পিটিশন’ নামের আরেকটি সেগমেন্টে ৩য় হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সায়মা বিনতে আলম সাবা।

সংগঠনটির অনুষদ উপদেষ্টা অধ্যাপক ড.আয়শা আখতার চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, ” এটা নিঃসন্দেহে অনেক বড় অর্জন। এই অর্জনের পেছনে তাদের দীর্ঘদিনের পরিশ্রম রয়েছে। অনলাইনে এভাবে অংশগ্রহণ করেও ওরা যেভাবে পুরষ্কার বয়ে এনেছে। সরাসরি অংশগ্রহণ করতে পারলে আরো ভালো করতে পারতো।”

এছাড়াও, এই সাফল্যের পেছনে বিশেষজ্ঞ ও অভ্যন্তরীণ কয়েকটি সহযোগী দল কাজ করেছে। তাদের মধ্যে ছিলেন চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আতিফ আলম, মুহতাসিম ফুয়াদ হৃদয় এবং দিবাকর চন্দ্র সিংহ কাব্য। পুরো কার্যক্রমে অনুষদ উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন অধ্যাপক ড. আয়েশা আখতার।