চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) একাধিক শিক্ষার্থীর নাম ব্যবহার করে ভয়েস ক্লোনিং, ভুয়া পুলিশ পরিচয় ও বৃত্তির প্রলোভনে প্রতারণার ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় শিক্ষার্থীদের পরিবারকে লক্ষ্য করে ফোনে ভয় দেখিয়ে অর্থ আদায়ের চেষ্টা চালিয়েছে প্রতারক চক্র।
ভুক্তভোগীদের পরিবারের কাছে ফোন করে প্রতারকরা দাবি করে, শিক্ষার্থীকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছে এবং তাকে মুক্ত করতে মোটা অঙ্কের টাকা দিতে হবে। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরিতে শিক্ষার্থীর কণ্ঠ নকল করে পরিবারের সঙ্গে কথা বলার ঘটনাও ঘটেছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
এ ধরনের প্রতারণার শিকার হওয়া শিক্ষার্থীদের একজন মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব। তিনি চুয়েটের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের ২০২৪–২৫ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। রাকিব চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, তার বাবার কাছে ফোন করে এক ব্যক্তি নিজেকে পুলিশ পরিচয় দিয়ে জানায়—চুয়েট গেটের সামনে ইয়াবাসহ তাকে আটক করা হয়েছে এবং মুক্তির বিনিময়ে আড়াই লাখ টাকা দাবি করে। পরে প্রতারকরা তার কণ্ঠ নকল করে কথা বললে বিষয়টি আরও বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। রাকিব বলেন, “আমার বাবা-মা তখন মারাত্মক আতঙ্কে পড়ে যান। টাকা জোগাড়ের জন্য সময় চাইলে তারা ফোন কেটে দেয়। পরে বাসা থেকে আমার সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ হলে বিষয়টি ভুয়া বলে নিশ্চিত হয়।” তিনি জানান, এর আগেও বৃত্তির কথা বলে তাকে প্রতারণার চেষ্টা করা হয়েছিল।
একই ব্যাচ ও বিভাগের আরেক শিক্ষার্থী মো. তানভীর ইসলাম জিসানের পরিবারও প্রতারকদের ফাঁদে পড়েছে। প্রতারকরা জিসানের মাকে ফোন করে জানায়, তিনি ৩০ হাজার টাকা বৃত্তি পেয়েছেন। টাকা পাঠানোর অজুহাতে এটিএম কার্ড সংক্রান্ত তথ্য নিয়ে কৌশলে তার কাছ থেকে ৯ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। জিসান বলেন, প্রতারকরা তার ব্যক্তিগত তথ্য নিখুঁতভাবে জানায় তার মা বিষয়টি বিশ্বাস করেন।
শুধু এই দু’টি ঘটনাই নয়, একই ধরনের প্রতারণার শিকার হয়েছেন আরও কয়েকজন চুয়েট শিক্ষার্থী ও তাদের পরিবার। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ বাড়লে আজ একটি সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি জারি করে চুয়েট প্রশাসন।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পট্রোলার অফিসে কর্মরত কয়েকজন কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে একটি অজ্ঞাত প্রতারক চক্র শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের ফোন করে বোর্ড বৃত্তির টাকা দেওয়ার কথা বলে ব্যাংক ও কার্ড সংক্রান্ত তথ্য চাইছে এবং অর্থ দাবি করছে, যা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। এ ধরনের প্রতারণা থেকে রক্ষা পেতে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে প্রশাসন।