চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ-
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আবাসিক হল ব্যবস্থাপনায় প্রযুক্তিনির্ভর ও আধুনিক সেবা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবিত ‘স্মার্ট হল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম’ সফটওয়্যারের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হয়েছে। গত ১৮ জুলাই (শনিবার) বিকেলে চুয়েটের শামসেন নাহার খান হলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সফটওয়্যারটির উদ্বোধন করা হয়। নতুন এই সফটওয়্যারটির মাধ্যমে হলের প্রচলিত টোকেন ব্যবস্থা ডিজিটাল মাল্টি-টোকেন ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইনের মাধ্যমে হল-সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা গ্রহণ, উপস্থিতি ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক কার্যক্রম সহজে সম্পন্ন করতে পারবে শিক্ষার্থীরা।
উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৭ আসনের সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী। অনুষ্ঠানে সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া এবং বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন একেএস খান হোল্ডিংস ও একেএস খান হেলথ কেয়ার লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সামানজার খান। চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন। স্বাগত বক্তব্য রাখেন শামসেন নাহার খান হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. রাজিয়া সুলতানা।
সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য বলেন, ” স্মার্ট হল ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম কেবল একটি সফটওয়্যার নয়, বরং চুয়েটের প্রশাসনিক সেবাকে আরও স্বচ্ছ, দ্রুত ও শিক্ষার্থীকেন্দ্রিক করার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ের ডিজিটাল রূপান্তরের আরেকটি মাইলফলক অর্জিত হলো।” ভবিষ্যতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব প্রশাসনিক কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় সংসদ সদস্য হুমাম কাদের চৌধুরী বলেন, “শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী শক্তিই দেশের পরিবর্তনের অন্যতম চালিকাশক্তি। নতুন বাংলাদেশ গঠনে তরুণদের মেধা ও প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগাতে হবে।” বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তৈরি সফটওয়্যার আবাসিক হলের ব্যবস্থাপনায় ব্যবহারের উদ্যোগকে তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়নে বেসরকারি খাতের সম্পৃক্ততা বাড়লে আরও কার্যকর ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাস্তবায়ন সম্ভব বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
তবে নারী শিক্ষার্থীদের হলে সম্প্রতি উদ্ভোধন করা হলেও গত প্রায় তিন মাস আগে ছেলেদের হলে এ সফটওয়্যারটি কার্যকর হয়েছে। অনেক হলে শুরু হয়েছে ছয় মাস আগে। এছাড়া এ সফটওয়্যার নিয়ে মিশ্র অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হচ্ছেন শিক্ষার্থীরা। বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের পাশাপাশি কিছু ক্ষেত্রে ত্রুটি দেখা যাচ্ছে এই সফটওয়্যারে। শিক্ষার্থীদের হল ফি জমা, ডাইনিং রিভিউ ও হল ফিডব্যাক সেবাগুলো অকার্যকর অবস্থায় আছে। খাবার টোকেন কাটা বা প্রত্যাবর্তন পদ্ধতি নিয়েও বিরূপ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করছে শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে খাবার টোকেন স্ক্যান করতেও ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের। সফটওয়্যার ব্যবহারের অভিজ্ঞতা ব্যক্ত করতে গিয়ে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র মুক্তিযোদ্ধা হলের আবাসিক শিক্ষার্থী মুতাসিম বিল্লাহ আল তীর্থ চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন,”সফটওয়্যার সিস্টেম চালু হবার পর টোকেন হারিয়ে ফেলার সমস্যা সমাধান হয়েছে। তবে দেখা গেছে নির্দিষ্ট সময় পার হবার পর টোকেন কাটা যায় না। এ কারণে আমরা যথাসময়ে টাকা জোগাড় করে টোকেন কাটতে হিমশিম খাচ্ছি।অপ্রয়োজনীয় টোকেন জমা নেওয়ার ক্ষেত্রে আগে প্রতি মাসে ১০ দিনের টোকেন জমা দেওয়া যেত, এখন সেটা কমিয়ে ৫ দিন করা হয়েছে। তাছাড়া হল ফি জমা দেওয়া যাচ্ছে না, টোকেন কাটার সময়ও নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে অতিরিক্ত টাকা কেটে নেওয়া হচ্ছে।”
এ ব্যাপারে জানতে চাইলে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম বলেন, ” আসলে চালু করতে দেরি হয়নি। এতদিন পরীক্ষামূলকভাবে চালু ছিল, গতকাল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করা হয়েছে।”
তিনি আরো জানান,”সিস্টেমটা একদম নতুন অবস্থায় আছে। এ অবস্থায় হল প্রভোস্ট চিন্তা করেছেন একবারে পুরো সিস্টেম চালু করলে হলের হিসাব সহকারী, মেস সহকারী সহ অন্যান্য কর্মচারীরা হিমশিম খাবে।এজন্য ডাইনিং সিস্টেমটা অভ্যস্ত করে হল ফি এর ব্যবস্থা চালু করবেন। বিভিন্ন হলের সহকারী প্রভোস্ট এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের থেকে মতামত নিয়ে পরবর্তী আপডেটসমূহ করা হবে। অতিরিক্ত ফি কমাতে সোনালী পেমেন্ট গেটওয়ে তে যাওয়ার পরিকল্পনা হচ্ছে “।
তাছাড়া হল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য বর্তমানে থাকা আলাদা ব্যবস্থা একীভূত করে একক ব্যবস্থায় আনার আশ্বাস দিয়েছেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক।