তিন সপ্তাহ ধরে কর্মবিরতিতে চুয়েটের প্রকৌশল দপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একাংশ

মো: তানভীর আহমাদ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) প্রকৌশল দপ্তরের ৬ কর্মকর্তা ও ১৬ কর্মচারীসহ মোট ২২ জন কর্মবিরতিতে রয়েছেন।

গত ২৫ আগস্ট থেকে তারা এ কর্মসূচি পালন করছেন। তবে মাঝে ১ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে দুই-তিন দিনের জন্য কর্মবিরতি স্থগিত রাখা হয়। দুই দফা এ কর্মবিরতিতে প্রায় তিন সপ্তাহ পেরোলেও এখনো কাজে ফেরেননি তারা।

জানা যায়, সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী মো: মকবুল হোসেনের বিরুদ্ধে দুর্ব্যবহার এবং গালাগালির অভিযোগে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।

কর্মবিরতিতে থাকা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে প্রকৌশল দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাইমউর রহমান বলেন, “আমরা আমাদের অফিস প্রধানকে জানিয়ে কর্মবিরতি শুরু করেছিলাম। মাঝে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস ছিল, তখন আমরা দুই-তিন দিন কর্মবিরতি স্থগিত রেখেছিলাম। আমাদের অভিযোগ একটাই - আমাদের যিনি সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী আছেন, মো. মকবুল হোসেন, তাঁর অধীনস্থ যারা আছেন, কেউ তাঁর অধীনে আর কাজ করতে চাচ্ছেন না। তিনি প্রতিনিয়ত অধীনস্থদের গালাগালি, বকাঝকা ও দুর্ব্যবহার করেন। মা-বাপ তুলে বকাঝকা করেন। এসব আর মানুষ নিতে চাচ্ছে না। এটা এক দিন, দুই দিন করে সবার মধ্যে জমতে জমতে এখন ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হয়েছে।”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রকৌশল দপ্তরের সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মকবুল হোসেন চুয়েটনিউজ২৪-কে জানান, “ঠিকাদারকে বেশি বিল দেওয়া নিয়ে নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নাইমউর রহমানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলা, আর্থিক অনিয়ম, সরকারি অর্থ অপচয় এবং খারাপ আচরণের প্রসঙ্গে একটি; পরবর্তীতে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য প্রচারণা করার অভিযোগে ফৌজদারি ও মানহানির অভিযোগ প্রসঙ্গে একটি - মোট দুটি লিখিত অভিযোগ প্রশাসনকে দিয়েছি। আমার মনে হয়, অসৎ উদ্দেশ্যে এবং প্রশাসনকে বিব্রত করতে কেউ ইন্ধন যোগাচ্ছে।”

তিনি আরও বলেন, “কেউ কোনো ভুল করলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কাজের স্বার্থে ও অফিসের শৃঙ্খলার স্বার্থে বকাঝকা করা হয়েছে। কিন্তু মা-বাপ তুলে বকাঝকা কোনো দিনই করি নি। তাঁর অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।”

তবে সিনিয়র নির্বাহী প্রকৌশলীর অপসারণের দাবিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের স্বাক্ষরিত দরখাস্তের বিষয়ে কয়েকজন কর্মচারীর সঙ্গে চুয়েটনিউজ২৪-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে উঠে আসে ভিন্ন চিত্র।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রকৌশল দপ্তরের এক কর্মচারী জানান, “সেখানে আমার স্বাক্ষর আছে। তবে এমনভাবে আমার স্বাক্ষর নেওয়া হয়েছে যে আমি আসলে বুঝতে পারিনি। মকবুল স্যারের সঙ্গে কখনোই আমার মনোমালিন্য হয়নি। তবে একদিন স্যারের সঙ্গে একটু ঝামেলা হয়েছিল, সেখানে আমার কাজের ভুলের কারণেই।”

এই অভিযোগের বিষয়ে মো. নাইমউর রহমান বলেন, “যাদের স্বাক্ষর আছে, তাদের সবার সঙ্গে আলাদাভাবে কথা বলতে পারেন - তারা জেনে-বুঝে করেছে কি না। আমাদের পক্ষ থেকে মোট চারবার স্বাক্ষর দেওয়া হয়েছে। চারবার তো একজন মানুষ না বুঝে স্বাক্ষর করে না।”

এ ব্যাপারে প্রকৌশল দপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. তারেকুল আলম বলেন, “কর্মবিরতির বিষয়টি সুরাহা হয়েছে। আন্দোলনকারীরা রবিবার থেকে কাজে ফিরবে। শুক্র-শনিবার তো অফিস বন্ধ থাকে, ওরা রবিবার থেকে অফিস করবে।”