মো. ফাহিম রেজা
বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া সংস্থা কর্তৃক আয়োজিত ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য অর্জন করেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত এ প্রতিযোগিতায় প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে চুয়েটের এই অর্জন শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও সংশ্লিষ্ট সবার জন্য গর্বের বিষয় হয়ে উঠেছে।
এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এই আসরে ক্রিকেট, ফুটবল, অ্যাথলেটিকস, ব্যাডমিন্টন, বাস্কেটবল, ক্যারাম, দাবা, হকি, টেনিস, সাঁতার, ভলিবল, কাবাডিসহ মোট ১৬টি খেলার আয়োজন করা হয়। চুয়েট ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন, টেবিল টেনিস ও অ্যাথলেটিকসে অংশগ্রহণ করে।
চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ফুটবল প্রতিযোগিতায় দুটি গ্রুপে ৩৯টি দলের মধ্যে চুয়েট দুর্দান্ত নৈপুণ্য প্রদর্শন করে গ্রুপের সেমিফাইনালে পৌঁছায়। তবে সেমিফাইনালে স্বাগতিক দলের বিপক্ষে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই শেষে ১-০ গোলে পরাজিত হয়ে বিদায় নিতে হয়।
অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় ভলিবল প্রতিযোগিতায়ও চুয়েট সেমিফাইনাল পর্যন্ত অগ্রসর হয়। শক্তিশালী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিপক্ষে ২-০ সেটে পরাজয়ের মাধ্যমে তাদের এবারের যাত্রা শেষ হয়।
কুষ্টিয়ার ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে অনুষ্ঠিত আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় অ্যাথলেটিকস প্রতিযোগিতার ট্রিপল জাম্প ইভেন্টে অংশ নিয়ে চতুর্থ স্থান অর্জন করেন চুয়েটের তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী রাতুল হাসান পারভেজ।
এছাড়া ৪৫তম জাতীয় সাইক্লিং প্রতিযোগিতায় চুয়েটের প্রতিনিধিত্ব করে জাতীয় পর্যায়ে সপ্তম স্থান অর্জন করেন একই বিভাগের বিদায়ী শিক্ষার্থী খন্দকার আফনান। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাইরেও শিক্ষার্থীদের এমন সাফল্য চুয়েটের ক্রীড়া অঙ্গনের সম্ভাবনাকে আরও উজ্জ্বল করেছে।
এ বিষয়ে চুয়েটের শারীরিক শিক্ষা দপ্তরের প্রশিক্ষক মো. ইয়াসির আরাফাত বলেন, “প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও আমাদের শিক্ষার্থীরা নিজেদের দক্ষতার প্রমাণ দিচ্ছে। নিয়মিত অংশগ্রহণ ও পর্যাপ্ত সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে চুয়েট আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে বলে আমি বিশ্বাস করি।”
চলতি আসরে কোনো শিরোপা না জিতলেও বিভিন্ন ইভেন্টে চুয়েটের প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ প্রমাণ করেছে যে, প্রকৌশল শিক্ষার পাশাপাশি ক্রীড়াক্ষেত্রেও বিশ্ববিদ্যালয়টি ধারাবাহিকভাবে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করে চলেছে।