শ্বেত শাড়িতে গণসাক্ষ্যসহ নানা কর্মসূচিতে সপ্তম দিনেও চলমান চুয়েটের আন্দোলন

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে পুনর্বহালের দাবিতে শিক্ষার্থীদের আন্দোলন সপ্তম দিনে গড়িয়েছে। আন্দোলনের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা অব্যাহত রয়েছে। সপ্তম দিনেও নিয়মিত ক্লাস অনুষ্ঠিত হয়নি। পাশাপাশি ল্যাব, পরীক্ষা ও অন্যান্য একাডেমিক কার্যক্রমও বন্ধ রয়েছে। ফলে দীর্ঘ সময় ধরে ক্লাস-পরীক্ষা বন্ধ থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা কার্যক্রম। কবে নাগাদ এসব একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে, তা নিয়েও তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা।

আন্দোলনের প্রভাবে সপ্তম দিনেও থমকে আছে চুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রম

শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের অংশ হিসেবে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে চুয়েটে ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি চলছে। এতে বন্ধ হয়ে পড়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাস ও পরীক্ষা। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

এদিকে শিক্ষার্থীদের দাবির সঙ্গে সংহতি জানিয়ে সকাল ১১টা থেকে কর্মবিরতি পালন করছেন চুয়েটের শিক্ষকরা। কর্মবিরতির অংশ হিসেবে তারা উপাচার্য ভবনের সামনে অবস্থান নেন। পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে কর্মসূচিতে যুক্ত রয়েছেন। ফলে শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে চুয়েটের স্বাভাবিক একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে।

শিক্ষার্থীদের দাবির প্রতি সংহতি জানিয়ে কর্মবিরতিতে চুয়েটের শিক্ষকরা

চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বলেন, “সরকারের পক্ষ থেকে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো সংলাপে বসার আহ্বান পাইনি। সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো অংশীজন - যেমন ইউজিসি, শিক্ষা মন্ত্রণালয় বা আচার্যের দপ্তর—কোনো পক্ষ থেকেই আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়নি।”

নতুন উপাচার্যের সঙ্গে যোগাযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “তার সঙ্গে আমাদের কোনো আলোচনা হয় না।”

শিক্ষার্থীদের একাডেমিক ক্ষতি প্রসঙ্গে অধ্যাপক আহসান উল্লাহ বলেন, “পূর্বেও সংকটময় পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের ক্ষতি আমরা পুষিয়ে নিয়েছি। যেমন ১৯৯৬ ও ১৯৯৭ সালের দুটি ব্যাচ আমরা একসঙ্গে চালিয়েছি। বর্তমানে সংকটটি এতটা দীর্ঘমেয়াদি নয়। আমাদের আশা ছিল, ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীরা এ বছরই পাশ করে বিদায় নেবে। তবে সংকটময় পরিস্থিতির কারণে হয়তো তারা আগামী বছরের মার্চ-এপ্রিলের দিকে পাশ করতে পারবে। শিক্ষার্থীদের ব্যাপারে আমরা সচেষ্ট। কোভিডের সময়ও আমরা শুক্র ও শনিবার ক্লাস নিয়ে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে দিয়েছি।”

এর মধ্যেই আজ আন্দোলনের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান ফটকে শিক্ষার্থীদের আয়োজনে চলেছে ‘৫৬ বল শর্ট পিচ ক্রিকেট টুর্নামেন্ট’। আন্দোলনের মধ্যে প্রধান ফটকেই ক্রিকেট খেলায় অংশ নিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।

দুপুরে ‘শ্বেত শাড়ির গণসাক্ষ্য’ কর্মসূচিতে অংশ নেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় একটি সাদা শাড়ির ওপর রং-তুলি ও মার্কার দিয়ে উপাচার্য হিসেবে অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলো তুলে ধরতে দেখা যায় তাদের। পাশাপাশি শাড়িটিতে তার প্রতিকৃতিও আঁকছেন শিক্ষার্থীরা।

স্থাপত্য কৌশল বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ওয়াসিম রুবাইয়াত রুবাই বলেন, “মূলত গ্রাফিতি এক ধরনের ভাষা ও শিল্পকর্ম। বিভিন্ন অন্যায় বা অনিয়মের প্রতিবাদে আমরা গ্রাফিতিকে প্রতিবাদের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করি। মিছিল, লাল কার্ড প্রদর্শনসহ বিভিন্ন কর্মসূচির মাধ্যমে আমরা ইতোমধ্যে আমাদের ক্ষোভ প্রকাশ করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় এবার গ্রাফিতির মাধ্যমে একটি স্মারক ও সাক্ষ্য তৈরি করছি।”

তিনি আরও বলেন, “৫৬ দিনের দায়িত্বকালে এমন কী কাজ করা হয়েছে, যার কারণে আমরা সবাই এক হয়ে সায়েম স্যারকে আবার উপাচার্য হিসেবে চাইছি—সেই বিষয়টিই এই গ্রাফিতির মাধ্যমে তুলে ধরতে চাই। আমরা কী চাই, কেন আন্দোলন করছি এবং কেন তাকেই পুনর্বহাল চাই, তা স্পষ্ট করতেই মূলত এই কর্মসূচি ও গ্রাফিতি করা হচ্ছে।”

দিনের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টা ১৫ মিনিট থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বড় পর্দায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ সিনেমা প্রদর্শন করা হয়েছে।

শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বড় পর্দায় ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ প্রদর্শন

এ ছাড়া রাত ১১টায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন মহল থেকে চাপ, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির প্রতিবাদে এ মিছিল অনুষ্ঠিত হবে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা।