নাজমুল কবির সিয়াম:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক সমিতির অভ্যন্তরীণ সভার আলোচনা ও শিক্ষকদের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানোর অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এসব বক্তব্যকে ‘ভিত্তিহীন ও বিভ্রান্তিকর’ আখ্যা দিয়ে নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে চুয়েট শিক্ষক সমিতি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) চুয়েট শিক্ষক সমিতি কর্তৃক প্রকাশিত এক ‘প্রতিবাদ ও নিন্দা বিবৃতি’তে এ বক্তব্য জানায় সংগঠনটি।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক একাডেমিক পরিবেশ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং চলমান সংকটের শান্তিপূর্ণ ও সম্মানজনক সমাধানের লক্ষ্যে শিক্ষক সমিতি ধারাবাহিকভাবে বিভিন্ন সভা ও কর্মসূচি গ্রহণ করে আসছে। এরই অংশ হিসেবে গত ২৬ সেপ্টেম্বর রাতে শিক্ষক সমিতির একটি জরুরি সাধারণ সভা অনলাইনে অনুষ্ঠিত হয়, যা প্রায় সাড়ে আট ঘণ্টাব্যাপী চলে।
শিক্ষক সমিতির অভিযোগ জানায়, দীর্ঘ ওই সভার সামগ্রিক আলোচনা ও প্রেক্ষাপট উপেক্ষা করে শিক্ষকদের বক্তব্যের খণ্ডিত অংশ এবং কিছু অডিও ক্লিপ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রচার করা হচ্ছে। এসব অডিওর ভিত্তিতে শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন চালিয়ে যেতে উৎসাহ দিচ্ছেন – এমন ধারণাও ছড়ানো হচ্ছে বলে দাবি করেছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে আরও উল্লেখ করা হয়, দীর্ঘ একটি অভ্যন্তরীণ সভায় সদস্যদের বিভিন্ন মতামত, পর্যবেক্ষণ, উদ্বেগ ও সম্ভাব্য করণীয় নিয়ে মুক্ত আলোচনা হওয়া স্বাভাবিক। সভার বিচ্ছিন্ন বক্তব্যকে শিক্ষক সমিতির সামগ্রিক অবস্থান হিসেবে উপস্থাপন করা অসঙ্গত ও অনভিপ্রেত।
শিক্ষক সমিতি আরও জানায়, এ ধরনের প্রচারের ফলে শিক্ষকরা সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নিজস্ব মতামত ও কর্মসূচিকে শিক্ষকদের প্ররোচনার ফল হিসেবে উপস্থাপন করা তাদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণের সক্ষমতাকেও প্রশ্নবিদ্ধ করে।
বিবৃতিতে খণ্ডিত ও প্রেক্ষাপটবিচ্ছিন্ন অডিও প্রচারের নিন্দা জানিয়ে সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহারকারীদের তথ্য প্রকাশের আগে এর পূর্ণ প্রেক্ষাপট ও উৎস যাচাই করে দায়িত্বশীলভাবে সংবাদ ও মতামত প্রকাশের আহ্বান জানানো হয়।