ইবাদ হোসেন:
বিএসসি ও ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী প্রকৌশলীদের মধ্যকার দীর্ঘদিনের পেশাগত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটির সিদ্ধান্তে অবৈধ হস্তক্ষেপ এবং মব সৃষ্টি করে মন্ত্রণালয়ের সুপারিশ বাতিলের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ মিছিল করেছে। ৩ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার) সকাল ১০টা ৪০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের অ্যাকাডেমিক ভবন–১ এর সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়। মিছিলটি ক্যাম্পাসের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে পাহাড়তলী মোড়ে গিয়ে শেষ হয়।
এর আগে, গত ২৯ জানুয়ারি বিএসসি ইঞ্জিনিয়ার ও ডিপ্লোমাধারীদের মধ্যকার পেশাগত বিরোধ নিরসনের লক্ষ্যে গঠিত জাতীয় কমিটি দশম গ্রেডে শতভাগ ডিপ্লোমা কোটা বাতিল করে ৩৩ শতাংশ পদ বিএসসি প্রকৌশলীদের জন্য সংরক্ষণের সুপারিশ করে। তবে পরদিন (৩০ জানুয়ারি) ইন্সটিটিউট অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স, বাংলাদেশ (আইডিইবি)-এর আহ্বায়ক কবির হোসেনের নেতৃত্বে ডিপ্লোমাধারীদের একটি অংশ মব সৃষ্টি করে ওই সিদ্ধান্তে হস্তক্ষেপ করে এবং অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চালায়। মব সৃষ্টির চাপের মুখে জাতীয় কমিটি বিএসসি প্রকৌশলীদের জন্য ৩৩ শতাংশ পদ উন্মুক্ত করার সুপারিশ থেকে সরে আসে।
‘প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলন – চুয়েট’-এর আহ্বায়ক,পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী ইফতেখার মাহমুদ তন্ময় বলেন, “প্রকৌশল খাত সংস্কারের প্রথম ধাপ হিসেবে দশম গ্রেড আংশিক উন্মুক্ত করা হয়েছিল। কিন্তু ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানরা অরাজকতা সৃষ্টি করে তা বন্ধ করতে চাচ্ছে। আমরা দীর্ঘ এক বছর ধরে রাষ্ট্রের আইন মেনে শান্তিপূর্ণ আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছি। অথচ মব সৃষ্টির মাধ্যমে জাতীয় কমিটির অবস্থান পরিবর্তন হলে আমরা এ অবিচার মেনে নেব না।”
মিছিলে অংশ নেওয়া তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মাহির ফয়সাল ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,“বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের তিন দফা দাবির প্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির সুপারিশকে কেন্দ্র করে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানদের দেশব্যাপী অবরোধ, মবসন্ত্রাস ও নাশকতার প্রতিবাদ জানাতেই এই কর্মসূচিতে আমরা হাজির হয়েছি। ২০১৩ সাল থেকে পেশিশক্তি ও মবের মাধ্যমে দশম গ্রেডে নিয়োগে শতভাগ কোটা এবং পদোন্নতিতে বিশেষ সুবিধা অন্যায়ভাবে আদায় করা হচ্ছে। ২০২৪ সালে কোটা প্রথার বিরুদ্ধে সাধারণ ছাত্র-জনতা আন্দোলন করলেও আজও সেই প্রথা বহাল থাকা অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা চাই কোটা প্রথা সম্পূর্ণ বাতিল হোক এবং নিয়োগ ও পদোন্নতিতে মেধাভিত্তিক ন্যায্যতা নিশ্চিত করা হোক।”
এ সময় আন্দোলনকারীরা অবিলম্বে জাতীয় কমিটির চূড়ান্ত সুপারিশ পুনর্বহাল, পেশাগত বিভাজন বন্ধ এবং সকল ষড়যন্ত্র প্রতিহত করার দাবি জানান। একই সঙ্গে শান্তিপূর্ণ ও যৌক্তিক আন্দোলনের মাধ্যমে ন্যায্য অধিকার আদায়ের অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তারা।
উল্লেখ্য, গত প্রায় এক বছর ধরে চাকরি ক্ষেত্রে বিএসসি প্রকৌশলীদের প্রতি বৈষম্যের প্রতিবাদে তিন দফা দাবিতে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা আন্দোলন করে আসছেন। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—নবম গ্রেডে ন্যূনতম যোগ্যতা হিসেবে বিএসসি ডিগ্রি নির্ধারণ করে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ, দশম গ্রেড কোটামুক্ত করা এবং বিএসসি ডিগ্রি ছাড়া কেউ যেন ‘প্রকৌশলী’ পদবি ব্যবহার করতে না পারে—তা নিশ্চিত করা।