চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট) স্কুল ও কলেজে অনুষ্ঠিত হয়েছে এক বিশেষ আয়োজন “অ্যাস্ট্রোস্কুল বাংলাদেশ”। গতকাল ১১ ডিসেম্বর (বৃহস্পতিবার) চুয়েট স্কুল ও কলেজের অষ্টম থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের নিয়ে এ আয়োজন করা হয়।
এ আয়োজনের মূল আকর্ষণ ছিল গভীর আকাশ পর্যবেক্ষণ, যা পরিচালিত হয় দূরবীন-দূর বিশ্বের নাগরিক এর সহযোগিতায়। এ আয়োজনে শিক্ষার্থীদের ব্যবহৃত টেলিস্কোপ সহযোগী হিসেবে যুক্ত ছিল চুয়েটের অ্যান্ড্রোমেডা স্পেস অ্যান্ড রোবোটিক্স রিসার্চ অর্গানাইজেশন (এসরো)। অনুষ্ঠানটি আয়োজন করে ইন্টারন্যাশনাল অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল ইউনিয়ন (IAU)–এর ন্যাশনাল আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর (NOC-BD) অফিস, যার প্রধান পৃষ্ঠপোষক ছিল প্রেসিডেন্সি ইউনিভার্সিটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের অধ্যাপক ড. এম. আবদুর রহমান ভূঁইয়া, ড. সুদীপ কুমার পাল, সহকারী অধ্যাপক গৌরী প্রভা দাশ, প্রভাষক মো. আমানত আলী খান ও অধ্যাপক ড. উজ্জ্বল কুমার দেব এবং চুয়েট স্কুল ও কলেজের অধ্যক্ষ রুনু মজুমদার।
শিক্ষামূলক সেশনগুলোতে শিক্ষার্থীদের সহজভাবে পরিচিত করা হয় সৌরজগতের গঠন বিষয়ে। তারা হাতে-কলমে অংশ নেয় হাতে-কলমে বিজ্ঞানভিত্তিক কার্যক্রমে এবং প্রথমবারের মতো টেলিস্কোপে আকাশ পর্যবেক্ষণের সুযোগ পায়।
উক্ত স্কুল ও কলেজের এক শতাধিক শিক্ষার্থী এ আয়োজনে অংশ নেয়। তারা শিখে মহাবিশ্বে আমাদের অবস্থান, সৌরজগতের গঠন সম্পর্কে এবং দলগতভাবে তৈরি করে ক্ষুদে ‘মার্স এক্সপ্লোরেশন রোভার’ মডেল। সেশনের শেষে অনুষ্ঠিত হয় কুইজ প্রতিযোগিতা, যেখানে বিজয়ীরা সনদপত্র পায়।
সন্ধ্যার পর্যবেক্ষণ পর্ব শুরু হয় বিকেল ৫টা ৩০ মিনিটে, NOC-BD–এর স্বেচ্ছাসেবকদের তত্ত্বাবধানে। অনুকূল আবহাওয়া ও চার টেলিস্কোপের সহায়তায় শিক্ষার্থীরা পর্যবেক্ষণ করে গ্রহ, নক্ষত্রমণ্ডল ও নানা মহাজাগতিক বস্তু যা পুরো আয়োজনের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশে পরিণত হয়।
এ বিষয়ে আয়োজকবৃন্দের পক্ষ হতে অত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী সুকর্ণ পাল বলেন, আমাদের পক্ষ থেকে সন্ধ্যায় চুয়েটের কেন্দ্রীয় খেলার মাঠে ক্ষুদে শিক্ষার্থীদের জন্য টেলিস্কোপের সাহায্যে আকাশ পর্যবেক্ষণের ব্যবস্থা করে অ্যাসরোর প্রতিনিধিরা। টেলিস্কোপের মাধ্যমে কাছ থেকে চাঁদ–তারা, গ্রহ–উপগ্রহ দেখতে পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে স্কুলপড়ুয়া এই ক্ষুদে বিজ্ঞানীরা।ই উদ্যোগে আয়োজিত এই কর্মসূচি শিক্ষার্থীদের মধ্যে জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্পর্কে নতুন কিছু শেখার আগ্রহ, অনুসন্ধিৎসা এবং বৈজ্ঞানিক কৌতূহল সৃষ্টি করেছে এবং তারা জ্যোতির্বিজ্ঞানের নানান মৌলিক ধারণা, আধুনিক জ্ঞান, প্রয়োজনীয় দক্ষতা এবং হাতে–কলমে অর্জিত বাস্তব অভিজ্ঞতার একটি সমৃদ্ধ ও অনুপ্রেরণামূলক পরিচয় লাভ করেছে।
উল্লেখ্য, অনুষ্ঠানের সহ-আয়োজক ছিল বাংলাদেশ জ্যোতির্বিজ্ঞান সমিতি। টেলিস্কোপ সহযোগী ছিল অ্যান্ড্রোমেডা স্পেস অ্যান্ড রোবোটিক্স রিসার্চ অর্গানাইজেশন এবং দূরবীন – দূর বিশ্বের নাগরিক। অ্যাস্ট্রোস্কুল বাংলাদেশ দলের নেতৃত্বে ছিলেন সুকর্ণ পাল, সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন ন্যাশনাল আউটরিচ কো-অর্ডিনেটর ড. ফারসীম মান্নান মোহাম্মদ ও ডেপুটি কো-অর্ডিনেটর শাফায়েত রহমান।