চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থী অর্ণব সাহার পুকুরে ডুবে মৃত্যুর ঘটনায় শিক্ষার্থীদের উত্থাপিত নিরাপত্তা-সংক্রান্ত দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ক্যাম্পাসের ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো পরিদর্শন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) তিনি ক্যাম্পাসের পুকুর, লেক, সড়কসহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো ঘুরে দেখেন এবং দ্রুত প্রয়োজনীয় সংস্কার ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানায়, শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপির দাবিগুলো বাস্তবায়নের অংশ হিসেবেই এ পরিদর্শনের আয়োজন করা হয়। উপাচার্যের সঙ্গে ছিলেন এলজিইডি চট্টগ্রামের নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ জামাল উদ্দীন, পাওয়ার গ্রিড বাংলাদেশ পিএলসির নির্বাহী প্রকৌশলী সুবীর কান্তি নাথ ও এ. এস. এম. কায়েস উদ্দিন, চুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী (চলতি দায়িত্ব) মোহাম্মদ তারেকুল আলমসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
পরিদর্শন শেষে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটনিউজ২৪-কে বলেন, শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো পাওয়ার পরই সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ করা হয় এবং তারা দ্রুত সাড়া দিয়ে ক্যাম্পাস পরিদর্শনে অংশ নেয়। তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে পুকুরঘাটের ঢাল নিরাপদ করা, ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলো চিহ্নিত করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং পুকুর ও লেকের পাশে বসার উপযোগী নিরাপদ অবকাঠামো নির্মাণের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে শিক্ষার্থীদের সহযোগিতাও প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন। তাঁর মতে, প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের সমন্বিত প্রচেষ্টায় চুয়েটকে দ্রুত আন্তর্জাতিক মানের নিরাপদ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা সম্ভব।
এ সময় উপাচার্য সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলী ও কর্মকর্তাদের শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে চিহ্নিত সমস্যাগুলোর দ্রুত সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি চলমান উন্নয়নকাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে গুণগত মান বজায় রেখে শেষ করার তাগিদও দেন।
এ ব্যাপারে চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আমিমুল ইহসান চুয়েটনিউজ২৪-কে বলেন, “আমাদের দাবির প্রেক্ষিতে প্রশাসনের প্রথমদিনই এমন পরিদর্শনকে আমরা সাধুবাদ জানাই। পাশাপাশি আমরা আশা রাখি, শেষ পর্যন্ত যেন সবগুলো দাবিই বাস্তবায়িত হয়। আমাদের দাবিগুলো সবগুলোই ছিল বাস্তবসম্মত।”
প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কবি কাজী নজরুল ইসলাম হল-সংলগ্ন পুকুরে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ হন যন্ত্রকৌশল বিভাগের ২০২১–২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী অর্ণব সাহা। পরে সহপাঠীরা তাঁকে উদ্ধার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং পরে এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনার পর ক্যাম্পাসজুড়ে শোকের আবহ সৃষ্টি হওয়ার পাশাপাশি নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের দাবিতে শিক্ষার্থীরা প্রশাসনের কাছে স্মারকলিপি দেন।