নাজমুল কবির সিয়াম:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ‘চুয়েট ছায়া জাতিসংঘ’ ক্লাবের আয়োজনে ‘টক লাইক এ প্রো ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। গত ২১ আগস্ট (শুক্রবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের তড়িৎ ও যন্ত্রকৌশল ভবনের তৃতীয় তলায় দিনব্যাপী এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়।
‘টক লাইক এ প্রো ২০২৬’ একটি আঞ্চলিক পর্যায়ের ছায়া জাতিসংঘ ভিত্তিক আয়োজন, যেখানে অংশগ্রহণকারীরা ছায়া জাতিসংঘের আনুষ্ঠানিক কার্যপ্রণালি, কূটনৈতিক বক্তব্য উপস্থাপন, যুক্তিনির্ভর বিতর্ক, নীতি প্রণয়ন এবং আন্তর্জাতিক সমস্যা মোকাবিলায় বহুপাক্ষিক আলোচনার অভিজ্ঞতা অর্জনের সুযোগ পান।
আয়োজনটির বিভিন্ন কমিটিতে নিরস্ত্রীকরণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নসংক্রান্ত সমসাময়িক বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ নিয়ে আলোচনা হয়। এতে অংশগ্রহণকারীরা নিজ নিজ প্রতিনিধিত্বকারী রাষ্ট্রের অবস্থান তুলে ধরার পাশাপাশি কূটনৈতিক যুক্তি উপস্থাপন, পারস্পরিক মতবিনিময় এবং নীতিভিত্তিক সমাধান প্রণয়নে অংশ নেন।
দিনব্যাপী এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, স্কুল ও কলেজের শিক্ষার্থীরা প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন। অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে ছিল চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি ফর উইমেন, আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, ইস্ট ডেল্টা ইউনিভার্সিটি, সাউদার্ন ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ, ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক কলেজ এবং মাস্টারমাইন্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুল।
অনুষ্ঠানের বিচারক হিসেবে আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় এবং চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধিরা দায়িত্ব পালন করেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েট ছায়া জাতিসংঘ ক্লাবের প্রধান উপদেষ্টা ও চুয়েটের ইনস্টিটিউট অফ এনার্জি টেকনোলজি (আইইটি) এর পরিচালক অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দীন আহাম্মদ। প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন,”বিতর্কের মঞ্চে আপনারা যুক্তি ও নীতির ভিত্তিতে একে অপরের সঙ্গে মতবিনিময় করলেও আপনাদের অন্তরে নিপীড়িত মানুষের প্রতি গভীর সহমর্মিতা থাকা উচিত। বিশ্বের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে আপনারা যেন নেতৃত্বের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠতে পারেন, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।”
অনুষ্ঠান সম্পর্কে চুয়েট ছায়া জাতিসংঘ ক্লাবের সভাপতি সৈয়দ ইফাজ বলেন, “গত কয়েক বছরের মধ্যে এটি আমাদের ক্লাবের অন্যতম সফল আয়োজন। বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের ব্যাপক অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানটিকে আরও সমৃদ্ধ করেছে। এই আয়োজন মূলত তরুণদের সেইসব কণ্ঠস্বরকে সামনে আনার একটি প্রচেষ্টা, যাদের নীতিনির্ধারণ ও বৈশ্বিক সমস্যা সমাধানের ক্ষেত্রে মতামত শোনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুষ্ঠানের কমিটিগুলোতে নিরস্ত্রীকরণ, সামুদ্রিক নিরাপত্তা এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির উন্নয়নের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।”