চুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি রেসিং কার ও মঙ্গল যান পরিদর্শন করলেন বিসিবি পরিচালক

ইবাদ হোসেন:

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রদর্শিত হয়ে গেল চুয়েট শিক্ষার্থীদের তৈরি রেসিং কার এবং রোবোটিক যান । শনিবার (২২ আগস্ট) চুয়েটের উপাচার্য ভবনের সামনে এসব উদ্ভাবন প্রদর্শন করা হয়। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয় এর একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে প্রদর্শনী উপলক্ষে এক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়।

অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট শিল্পোদ্যোক্তা ও বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) পরিচালক ইসরাফিল খসরু। এ সময় উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য (রুটিন দায়িত্বে) ও তড়িৎ ও কম্পিউটার প্রকৌশল অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, যন্ত্রকৌশল ও উৎপাদন অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান, স্থাপত্য ও পরিকল্পনা অনুষদের ডীন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ রাশিদুল হাসান, রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক ড. শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির এবং ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক অধ্যাপক ড. মো. আবু মোয়াজ্জেম হোসাইন। এ ছাড়া টিম ব্লিটজারের উপদেষ্টা ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. আফনান হাসান, মডারেটর ও একই বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আবদুল্লাহ আল রিফাত, দলের সংশ্লিষ্ট সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রদর্শনীতে টিম ব্লিটজারের তৈরি ফর্মুলা কার্টের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ‘চুয়েট মঙ্গলচারী’ দলের মার্স রোভার প্রকল্পের কার্যক্রম তুলে ধরা হয়। একই সঙ্গে ২০২৭ সালের “ফর্মুলা স্টুডেন্ট চায়না” প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের লক্ষ্যে চলমান ফর্মুলা কার্ট প্রকল্পের অগ্রগতিও অতিথিদের সামনে উপস্থাপন করেন শিক্ষার্থীরা। মার্স রোভার দলও আগামী ডিসেম্বরে ভারতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক রোভার প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেছে।

অনুষ্ঠানে চুয়েটের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন বলেন, “আমাদের শিক্ষার্থীরা বিশ্বজয়ের যে স্বপ্ন দেখছে, সেটি বাস্তবায়নের প্রথম ধাপ আমরা দেখতে পারছি। পরবর্তী পর্যায়ে কীভাবে তা এগিয়ে নেওয়া যায়, তা নিয়েই আজকের এই আয়োজন। আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা এখন দেশে বসেই আন্তর্জাতিক বিভিন্ন আয়োজনে জয়ী হচ্ছে, যা আমাদের জন্য অত্যন্ত গর্বের।”

আমন্ত্রিত অতিথির বক্তব্যে ইসরাফিল খসরু বলেন, “সরকার বর্তমানে গবেষণা ও উন্নয়নকে গুরুত্ব দিচ্ছে। আজকের প্রদর্শনীতে যে উদ্ভাবনগুলো দেখলাম, সেগুলো অত্যন্ত সীমিত সম্পদের মধ্যে শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা দিয়ে তৈরি করেছে। নিজেদের মেধা খাটিয়ে এতদূর আসা সহজ কথা নয়। সৃজনশীল খাতকে আমরা যথেষ্ট গুরুত্ব দিচ্ছি।”

তিনি আরও বলেন, “আজ যে দুটি প্রদর্শনী দেখলাম, সেগুলোর ব্যাপারে আমি সহযোগিতা করার চেষ্টা করব। যথাযথ জায়গায় এ বিষয়ে কথা বলব, যাতে তারা পূর্ণ সহযোগিতা পায়। আপনাদের এসব কাজের মাধ্যমেই দেশের নাম উজ্জ্বল হবে।”

টিম ব্লিটজারের সদস্য ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আদিত্য সাহা বলেন, “ইসরাফিল খসরু স্যারের আমাদের টিম ব্লিটজারের ফর্মুলা কার্ট পরিদর্শন আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও অনুপ্রেরণার বিষয়। তার মূল্যবান সময়, আন্তরিকতা এবং আমাদের প্রকল্প সম্পর্কে আগ্রহ আমাদের টিমের সদস্যদের আরও উৎসাহিত করেছে।”

চুয়েট মঙ্গলচারী মার্স রোভার দলের দলনেতা শাফকাত নাওয়াজ চুয়েটনিউজ২৪-কে বলেন, “দেড় বছর নিরলস প্রচেষ্টার পর আমাদের চুয়েট মঙ্গলচারীর মার্স রোভার এই পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে। আমাদের নিজস্ব ওয়ার্কশপে আমরা নিজেরাই মেশিন লার্নিং, কোডিং থেকে শুরু করে ওয়েল্ডিং পর্যন্ত বিভিন্ন কাজ নিজেরাই করি। আমরা প্রতিনিয়ত কাজ করছি কীভাবে রোভারটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মার্স রোভার প্রতিযোগিতায় চুয়েট ও বাংলাদেশকে উপস্থাপন করা যায়।”

প্রসঙ্গত, ফর্মুলা কার্টটি মূলত শিক্ষার্থীদের নকশা, নির্মাণ ও প্রকৌশল দক্ষতার মাধ্যমে তৈরি এক আসনের রেসিং কার, যা শিক্ষার্থীদের তৈরি ফর্মুলা কার্টভিত্তিক বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের উপযোগী করে তৈরি করা হয়।

অন্যদিকে, মার্স রোভার হলো মঙ্গলগ্রহের মতো দুর্গম পরিবেশে চলাচল, বৈজ্ঞানিক গবেষণা ও বিভিন্ন প্রযুক্তিগত মিশন পরিচালনার জন্য তৈরি বিশেষায়িত রোবোটিক যান। এতে স্বায়ত্তশাসিত চলাচল, দূরবর্তী নিয়ন্ত্রণ, রোবোটিক বাহু এবং বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার মতো বিভিন্ন প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। এসব সক্ষমতা যাচাইয়ের জন্য বিশ্বের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে নিয়মিত আন্তর্জাতিক রোভার প্রতিযোগিতাও অনুষ্ঠিত হয়।