চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) চলমান অচলাবস্থার মধ্যে মাত্র ছয়জন সদস্যকে নিয়ে অনলাইনে সিন্ডিকেট সভা করেছেন নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। শুক্রবার সন্ধ্যায় অনুষ্ঠিত সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক পরিস্থিতি, শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করা এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে যোগাযোগের ঘাটতি দূর করার বিষয়ে আলোচনা হয়। তবে সভায় বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি বলে জানিয়েছেন অংশ নেওয়া এক সিন্ডিকেট সদস্য।
এক সিন্ডিকেট সদস্য জানান, সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। কোথাও ভুল-বোঝাবুঝি বা যোগাযোগের ঘাটতি থাকলে তা দূর করার বিষয়ে সদস্যরা মতামত দিয়েছেন। তবে বড় কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে উপাচার্য জানাবেন।
সভায় অংশ নেওয়া আরেক সিন্ডিকেট সদস্য ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জাহিদুর রহমান চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, উপাচার্য ছাড়া চুয়েটের অন্য কোনো শিক্ষক সদস্য সভায় উপস্থিত ছিলেন না। সভার বিষয়ে উপাচার্য নিজেই বিস্তারিত জানাবেন বলে তিনি মন্তব্য করতে চাননি।
চুয়েটের সিন্ডিকেটে মোট সদস্য ১৭ জন। তবে সহ-উপাচার্যের পদটি শূন্য রয়েছে। সভায় অনুপস্থিতির বিষয়ে কয়েকজন সদস্য জানিয়েছেন, ছুটি, পারিবারিক অসুস্থতা ও ব্যস্ততার কারণে তাঁরা যোগ দিতে পারেননি। সিন্ডিকেটের সচিবের দায়িত্বে থাকা রেজিস্ট্রার (অতিরিক্ত দায়িত্ব) অধ্যাপক শেখ মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির দাবি করেছেন, তিনি আগেই রেজিস্ট্রারের দায়িত্ব থেকে পদত্যাগ করেছেন। তাই সিন্ডিকেটের সচিব হিসেবেও আর দায়িত্বে নেই।
প্রায় ৩০ ঘণ্টা উপাচার্য ভবনে অবরুদ্ধ থাকার পর গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাস ছাড়েন অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলম। জেলা প্রশাসন ও পুলিশ তাঁকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যায়। হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার পর বৃহস্পতিবার দুপুরে চট্টগ্রাম সার্কিট হাউসে ফিরে তিনি সিন্ডিকেট সভা আহ্বান করেন। সভার সিদ্ধান্ত জানতে উপাচার্যের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে অধ্যাপক শেখ শরীফুল আলমকে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। এ সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে সর্বাত্মক শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছেন শিক্ষার্থীরা। একই দাবিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশও কর্মবিরতি ও অসহযোগ কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছেন। এতে বন্ধ রয়েছে ক্লাস-পরীক্ষাসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ একাডেমিক কার্যক্রম।
সিন্ডিকেট সভায় শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক করার বিষয়টি আলোচনায় এলেও কবে নাগাদ ক্লাস-পরীক্ষা শুরু হবে, সে বিষয়ে কোনো নিশ্চিত ঘোষণা পাওয়া যায়নি।