চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ-
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) বিতর্ক সংগঠন ‘চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি’র সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। গত ২১ জুলাই (মঙ্গলবার) ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটি কর্তৃক গত ১০ জুলাই ২০২৬ খ্রি. তারিখে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান ও প্রশাসনিক নির্দেশনা লঙ্ঘন করে কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। প্রাথমিকভাবে প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বিষয়টি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত নিয়মাবলির পরিপন্থী বলে প্রতীয়মান হয়েছে। এমতাবস্থায়, বিষয়টির গুরুত্ব বিবেচনায় অভিযোগের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ না হওয়া পর্যন্ত চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত করা হলো।
এতে আরও বলা হয়, চুয়েটের সকল ছাত্র সংগঠনকে নির্দেশ প্রদান করা যাচ্ছে যে, ভবিষ্যতে তাদের সকল সাংগঠনিক কার্যক্রম বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান, নীতিমালা, প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং পূর্বানুমোদনের শর্তাবলি যথাযথভাবে প্রতিপালনপূর্বক পরিচালনা করতে হবে। কোনো সংগঠন কর্তৃক এ নির্দেশনা লঙ্ঘিত হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি-বিধান অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট সংগঠনের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
এ ব্যাপারে কারণ জানতে চাইলে চুয়েটের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো সাইফুল ইসলাম চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, “তারা একটি বিভাগে অনুষ্ঠান করেছিলো। সেই অনুষ্ঠানের জন্য তাদেরকে সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিলো। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট সময় পেরিয়ে বেশ কিছু অতিরিক্ত সময় সেখানে অবস্থান করে। এ অবস্থায় সেই বিভাগ থেকে অভিযোগ আসে। সেই অনুযায়ী আমরা এই ব্যবস্থা গ্রহণ করি। তারা যদি সন্তোষজনক ব্যাখ্যা প্রদান করতে পারে তাহলে এই স্থগিতাদেশ তুলে নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি কামরুল আহসান চুয়েটনিউজ২৪-কে বলেন, “আমাদের বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হলো অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে শেষ করা এবং অন্যটি হলো মেয়েদের হলের নির্ধারিত সময়ের পরও ছাত্রীদের বাইরে রাখা। দ্বিতীয় অভিযোগটি আমরা সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করছি। কারণ মেয়েদের হল কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে আমরা রাত ১০টা পর্যন্ত সময় নিয়েছিলাম এবং তার আগেই সকল ছাত্রীকে হলে পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
প্রথম অভিযোগের বিষয়ে বলতে গেলে, সেদিন বৈরী আবহাওয়া ও প্রবল বৃষ্টির কারণে অনুষ্ঠান নির্ধারিত সময়ে শুরু করা সম্ভব হয়নি। অনুষ্ঠানটি পুরকৌশল বিভাগে অনুষ্ঠিত হওয়ায় রাত হয়ে যাওয়ার পর আমরা বিভাগীয় প্রধানের সঙ্গে আলোচনা করে অতিরিক্ত সময়ের অনুমতিও নিয়েছিলাম। অনুষ্ঠান শেষে গুছিয়ে নিতে কিছুটা সময় লেগেছে, তবে এ ধরনের পরিস্থিতির জন্য কোনো পূর্ব নোটিশ বা ব্যাখ্যা চাওয়া ছাড়াই একটি ক্লাবের কার্যক্রম স্থগিত করে দেওয়া যৌক্তিক বলে আমরা মনে করি না।”