“ছাত্রলীগ নিষিদ্ধে চুয়েটে শিক্ষার্থীদের আনন্দ মিছিল”

তানবির আহমেদ চৌধুরীঃ

আওয়ামী লীগের ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আনন্দ মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। আজ বৃহস্পতিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর এলাকায় জড়ো হয়ে সেখান থেকে মিছিল শুরু করেন তাঁরা। মিছিলটি সবগুলো ছাত্র হল, ছাত্রী হল, বিভাগীয় ভবন, প্রশাসনিক ভবন, শহীদ মিনার সহ বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষীণ শেষে আবার স্বাধীনতা চত্বরে এসে শেষ হয়।

এ সময় শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান তুলে আনন্দ প্রকাশ করেন। তাঁরা  ‘এই মুহূর্তে খবর এল/ ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হলো’,‘হইহই রইরই, ছাত্রলীগ গেল কই’, ‘গণহত্যার সঙ্গী, ছাত্রলীগ জঙ্গি’, ‘ছাত্রলীগ দেখে যা, ক্যাম্পাসে তোর বাপেরা’, ‘ছাত্রলীগের দুই গালে, জুতা মারো তালে তালে’, ‘ছাত্রলীগের দালালেরা, হুশিয়ার সাবধান’, ‘ছাত্রলীগের ঠিকানা, এই চুয়েটে হবে না’, ‘পালাইছে রে পালাইছে, ছাত্রলীগ পালাইছে’ প্রভৃতি স্লোগান দেন।

আনন্দ মিছিল শেষে স্বাধীনতা চত্বরে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। সমাবেশে শিক্ষার্থীরা আওয়ামীলীগসহ তাদের সব সহযোগী সংগঠনকে নিষিদ্ধ করার দাবি জানান। এরপর সেখানে উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।

সমাবেশে শিক্ষার্থীরা বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের এ সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ তাঁরা জানান। কারণ, ছাত্রলীগ সারা বাংলাদেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছিল। তারা হত্যাকাণ্ড, গুম, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, শিক্ষার্থী নির্যাতন, টেন্ডারবাজি এবং অন্যান্য অপরাধে জড়িত ছিল। শুধু ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করলেই হবে না, ছাত্রলীগের পৃষ্ঠপোষক আওয়ামী লীগসহ ১৪ দলের অন্তর্ভুক্ত সব দলের রাজনীতি নিষিদ্ধ করতে হবে। সেই সঙ্গে পরবর্তী সময়ে ছাত্রলীগের মতো কোনো ফ্যাসিবাদী সংগঠন যেন গড়ে না উঠতে পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।

মিছিলে থাকা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চুয়েটের সমন্বয়ক মাহফুজার রহমান মোহাব্বত বলেন, ‘২৪ এর জুলাই বিপ্লবে ছাত্রজনতার উপর হামলা ও গণহত্যায় সরাসরি জড়িত আওয়ামী লীগ ও তাদের অঙ্গ সংগঠন। এমনকি ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের পরেও তাঁরা দেশ বিরোধী চক্রান্তে যুক্ত হয়। তাই দেশের সর্বস্তরের মানুষের প্রানের দাবি ছিল আওয়ামী লীগ,ছাত্রলীগ ও তাদের সহযোগী সংগঠনগুলোকে নিষিদ্ধ করা। গতকাল ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধ করায় আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা আনন্দ মিছিল বের করেছি এবং মিষ্টিমুখের ব্যবস্থা করেছি। জন দাবির প্রেক্ষিতে দ্রুত সিদ্ধান্ত দেয়ায় আমরা অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানাই। তবে শুধু ছাত্রলীগ নয়, গণহত্যার দায়ে আওয়ামী লীগের সব অঙ্গসংগঠনকে অনতিবিলম্বে নিষিদ্ধ করতে হবে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে জুলাই বিপ্লবের গণহত্যাসহ ফ্যাসিবাদের ১৬ বছরের সব অপকর্মের সুবিচার নিশ্চিত করতে হবে।

গতকাল বুধবার রাতে ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ হওয়ার খবর শোনার পরপরই প্রথম দফায় আনন্দ মিছিল বের করে শিক্ষার্থীদের একাংশ। এর আগে গত মঙ্গলবার ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্বরে আওয়ামী-ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ ও গণহত্যার দায়ে তাদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

উল্লেখ্য, বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন জায়গায় ছাত্রলীগ নিষিদ্ধের দাবিতে কর্মসূচি পালিত হয়েছিল। এসব দাবির মুখে ছাত্রলীগকে নিষিদ্ধের ঘোষণা দেয় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। একই সঙ্গে এই ছাত্রসংগঠনকে নিষিদ্ধ সত্তা হিসেবে তালিকাভুক্ত করা হয়।