আসাদুল্লাহ গালিব:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) বঙ্গবন্ধুর ম্যুরাল ভাঙচুর করা হয়েছে।
জানা যায়, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ১০-১৫ জন শিক্ষার্থী আজ সকাল দশটা নাগাদ বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসের স্বাধীনতা চত্ত্বর সংলগ্ন বঙ্গবন্ধু ম্যুরালটি হাতুড়ি ও শাবল এর মাধ্যমে আঘাত করে ভাঙচুর করে। এতে ম্যুরালটির মুখের অবয়ব আংশিক ভেঙে যায়।
ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখা যায়, ম্যুরালটি ভাঙার পাশাপাশি মুখে লাল রং দিয়ে বিকৃত করে দেওয়া হয় এবং ‘ফাদার অফ ফ্যাসিজম’ লিখে আখ্যায়িত করা হয়। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বঙ্গবন্ধু হলের মূল ফটকের সামনে থাকা বঙ্গবন্ধুর ম্যুরালটিও বিকৃত করা হয়।
এ বিষয়ে পুরকৌশল বিভাগের ১৯ আবর্তের শিক্ষার্থী মাহফুজুর রহমান মহব্বত বলেন, “স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর অবদানকে আমরা শ্রদ্ধা করি, তবে স্বাধীনতার পর দেশ পুনর্গঠনে তার ব্যর্থতা এবং বাকশাল গঠন করে একনায়কতন্ত্রিক শাসন ব্যবস্থা চালু করার প্রচেষ্টা জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি করেছে। তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মানুষ নির্যাতিত ও অধিকার বঞ্চিত হয়েছে। এ কারণেই সাধারণ মানুষ ও ছাত্র সমাজ শেখ হাসিনা এবং শেখ মুজিবের প্রতি ক্ষুব্ধ। এরই প্রতিক্রিয়া হিসেবে একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী তার ম্যুরাল ভাঙচুর করে।”
পানি সম্পদ কৌশল বিভাগের ২২ আবর্তের শিক্ষার্থী আবু সায়েম বলেন, “বঙ্গবন্ধু যেহেতু স্বৈরতন্ত্র কায়েম করতে চেয়েছিল তাই তার প্রতি আমাদের ক্ষোভ ছিল এবং এই ক্ষোভ থেকেই ম্যুরালটি ভাঙার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় । যেহেতু ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী কম ছিল তাই এতদিন এটি ভাঙ্গা হয়নি। আমাদের পরিকল্পনা ছিল ক্যাম্পাসে পর্যাপ্ত শিক্ষার্থী আসলে ম্যুরালটি ভাঙ্গা হবে। কিন্তু গতকালকে আমরা শুনি আমাদের এক ভাইকে স্থানীয় কিছু লোকজন ম্যুরাল না ভাঙ্গার হুমকি দেয় , এতে আমরা ক্ষিপ্ত হয়ে উঠি এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষার্থীর সিদ্ধান্তক্রমে ভাঙ্গার সিদ্ধান্ত নেয়।”
ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: সাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি এই বিষয়ে কোন মন্তব্য করতে চাননি।
উল্লেখ্য গত ৫ই আগস্ট ছাত্র জনতার তীব্র আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর রাজধানীসহ সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার ভাস্কর্য, রিলিফ ভাস্কর্য, ম্যুরাল ও স্মৃতিস্তম্ভ ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ ও উপড়ে ফেলা হয়েছে যার মধ্যে বেশির ভাগই ছিল বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের।