হরতালে সীমিত চুয়েট বাস চলাচল,ভোগান্তিতে শিক্ষার্থীরা

তানবির আহমেদ চৌধুরী:

বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এর চট্টগ্রাম শহরে ডাকা সকাল-সন্ধ্যা হরতাল ও অবরোধের কারণে ভোগান্তিতে পড়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) সাধারণ শিক্ষার্থীরা ।

আজ রবিবার শিক্ষার্থীদের জন্য সীমিত সংখ্যক বাস চলাচলের জন্য নির্দেশনা প্রদান করে চুয়েট প্রশাসন। তারই প্রেক্ষিতে মাত্র তিনটি বাস চলাচলের সিডিউল করে চুয়েটের যানবাহন শাখা। কিন্তু এদিকে টানা তিনবার গুচ্ছ ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কারণে চুয়েটের সিংহভাগ শিক্ষার্থী চট্টগ্রাম নগরীর। বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীদের জন্য তিনটি বাস অপ্রতুল হওয়ায় ক্ষিপ্ত হয়ে উঠে শিক্ষার্থীরা। পরক্ষনে পর্যাপ্ত বাস সরবরাহ না করা পর্যন্ত নগরীর পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন এলাকায় শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের বাসগুলো অবরুদ্ধ রাখে সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পরে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য আরো ৩টি বাস পাঠানো হলে সকাল ১০ টায় বাসগুলো শহর থেকে ছেড়ে আসে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা জানান, চলমান রাজনৈতিক সহিংসতায় প্রশাসনকে বারবার অনলাইন ক্লাস নেয়ার জন্য বলা হলেও প্রশাসন এ ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত নেন নি। ক্লাস চালু রাখা হলেও দেয়া হচ্ছে না পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা।

তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তানভীর আহমেদ বলেন, আজকে হরতালের মধ্যেই আমরা সকাল ৭ টায় ঝুঁকি নিয়ে ক্লাসের জন্য বের হলাম। প্রতিদিন ৬ টা বাস দেয়ার পরেও যেখানে বাসে দাঁড়ানোর জায়গাটুকুও পাওয়া যায় না সেখানে আজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাত্র ৩টি বাস দেয়া হলো। আবার এরকম পরিস্থিতিতে শিক্ষকদের বারবার অনলাইন ক্লাসের জন্য বলা হলেও উনারা মানতে নারাজ। খুব দ্রুতই প্রশাসনের এ  সমস্যা সমাধান করা উচিত।

তৃতীয় বর্ষের কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থী সৃজিতা ধর বলেন, রবিবার সবসময় উপচে পড়া ভিড় থাকে। আজকে মাত্র ৩ টা বাস স্টেশনে এসেছে। স্টেশনেই বাসে দাঁড়ানোর জায়গাটুকু পর্যন্ত ছিল না। কীভাবে ৩ টা বাস দিয়ে ৫টি ব্যাচের ছাত্রছাত্রী শহর থেকে আসা যাওয়া করবে আমাদের বোধগম্য হয় না ।এমতাবস্থায় চুয়েট প্রশাসন ও যানবাহন শাখার প্রতি আমাদের একটাই চাওয়া আমাদের শ্রেণি কার্যক্রম সচল রাখতে যাতে পর্যাপ্ত পরিবহন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়।

এ ব্যাপারে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো.রেজাউল করিম বলেন, হরতালের কারণে শিক্ষার্থীদের উপস্তিতি কম হবে ভেবে প্রশাসন ৩টি বাস দিয়েছিল।পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কথা ভেবে আমরা আরো ৩টি বাস পাঠিয়েছি। পরবর্তীতে পর্যাপ্ত বাস প্রদানের ব্যবস্থা করা হবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. শেখ মো. হুমায়ুন কবির বলেন, শিক্ষার্থীদের যাতে শিক্ষা কার্যক্রম ব্যহত না হয় এজন্য আমরা পর্যাপ্ত আবাসন ব্যবস্থা করেছি। কোন অবস্থাতেই শিক্ষা কার্যক্রম বন্ধ রাখা যাবে না। শিক্ষার্থীদের এরকম পরিস্থিতিতে হলে থেকে শিক্ষা কার্যক্রম চালিয়ে যেতে হবে।  তবে আজ ৩টি বাস দেয়ার বিষয়ে আমার জানা নেই। এ ব্যাপারে খোঁজ নিব।

এ ব্যাপারে জানতে বিশ্ববিদ্যালয়ের যানবাহন শাখার (অপারেশন ও ব্যবস্থাপনা) প্রধান অধ্যাপক ড. মো. মিজানুর রহমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।