“নবীনদের পদচারণায় মুখরিত চুয়েট ক্যাম্পাস”

তানবির আহমেদ চৌধুরীঃ
এসো হে নতুন , বাজিয়ে সুর লহরী উল্লসিত নব বীণ। আজ সুর মিলিয়ে গাইব জয়যাত্রার গান, আনন্দে আহ্লাদিত নবীন প্রাণ।

শৈশব-কৈশরে প্রতিটি শিক্ষার্থীই বিভিন্ন স্বপ্ন বুনে।কেউ হতে চায় ডাক্তার, কেউ বা ইঞ্জিনিয়ার।’ -গানের এই কথার মতো এই পেশাগুলো নিয়ে তরুণদের আগ্রহের শেষ নেই। আর এই স্বপ্ন পূরণের অন্যতম সারথী হলো বিশ্ববিদ্যালয়। তাই একবুক আশা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি ও শিক্ষাজীবন শুরু করেন শিক্ষার্থীরা।

বুধবার সকাল সাড়ে ৯ টায় চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) ২০২২-২০২৩ শিক্ষাবর্ষে ভর্তি হওয়া নবীন শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন অনুষ্ঠিত হয়।ওরিয়েন্টেশন শেষে শিক্ষার্থীদের স্ব স্ব বিভাগের শিক্ষক-শিক্ষার্থীরা বরণ করে নেন। সকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস মুখরিত হয়ে উঠে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত নবীন শিক্ষার্থীদের পদচারণে। উদ্দীপনা, আশা ও কিছুটা ভয়ের সংমিশ্রণে নবীনদের উপস্থিতি এক ভিন্ন মাত্রা যুক্ত করেছে বিশ্ববিদ্যালয়ে।ক্যাম্পাসের প্রতিটি আড্ডাস্থলে পুরাতনদের পাশাপাশি আলো ছড়াচ্ছে নবীন মুখগুলো।

স্বপ্নের বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে বেশ উচ্ছ্বসিত  তারা। বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী দেবস্মিতা রায় বলেন, যখন থেকেই বিজ্ঞান বুঝতে শুরু করেছি তখন থেকেই ইচ্ছা প্রকৌশলী হওয়ার। আর এ স্বপ্ন পূরণে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত।বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস করবো, দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সাথে পরিচিত হতে পারবো ভেবে অনেক ভালো লাগছে।

মেকাট্রনিক্স এন্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের  নবীন শিক্ষার্থী রাতুল ইসলাম বলেন, গেইট দিয়ে ঢুকার সময়ই এক অন্যরকম অনুভূতি কাজ করছিল। মনে হচ্ছিল যে স্বপ্ন হাতের খুব নিকটে। নিজের প্রচেষ্টা ও সবার সহযোগীতায় পিতামাতা ও দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে চাই।

নগর ও পরিকল্পনা উন্নয়ন বিভাগের নবীন শিক্ষার্থী আদিবা তাসনিম বলেন, চুয়েট সবসময়ই আমার পছন্দে শীর্ষে ছিল।এখানকার সবুজ মনোরম পরিবেশ সবচেয়ে বেশি মুগ্ধ করেছে। প্রথম দিনেই শিক্ষক, সিনিয়রদের থেকে এত সহযোগীতামূলক আচরণ পাবো ভাবিনি।

প্রশাসনের পাশাপাশি ক্যাম্পাসে সরব রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন আঞ্চলিক সংগঠন ও ক্লাবগুলো। শিক্ষার্থীদের বিভিন্ন প্রয়োজনে সহযোগিতা করছেন তারা।

উল্লেখ্য, এ বছর চুয়েটের ১২ টি বিভাগে মোট ৯৩১ টি আসনে ভর্তি হয়েছেন শিক্ষার্থীরা।