নাজমুল হাসানঃ
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) বাসে সিট নিয়ে চলছে দলগত আধিপত্য, ঘটছে হুমকি এবং বাঁক বিতণ্ডার মত ঘটনা। চুয়েট ক্যাম্পাসের বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতার অনুসারী শিক্ষার্থীদের কিছু গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ের মোট ৩টি বাসকে নিজেদের বলে দাবি করছে। ওই ৩ বাসের পিছনের আসন গুলোতে কোনও সাধারণ শিক্ষার্থী বসলে তাকে হরহামেশাই সিট থেকে তুলে দিচ্ছে। এসব ঘটনা নিয়ে প্রায়ই বিশ্ববিদ্যালয়ে সিনিয়র ও জুনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীদের মধ্যে বাকবিতণ্ডা এখন প্রতিদিনের ঘটনা।
শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়, একটি গ্রুপ বিশ্ববিদ্যালয়ের তিস্তা ও সাঙ্গু বাসকে আর অন্য গ্রুপটি সুরমা বাসকে নিজেদের বলে দীর্ঘদিন যাবত দাবি করে আসছে। এমনকি করোনা মহামারী কাটিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার পর সাঙ্গু বাসটির পিছনে একটি গ্রুপ তাদের নিজেদের গ্রুপের নাম লিখে আধিপত্যের জানান দেয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন রং দিয়ে লেখাটি মুছে দেয়।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ বর্ষের (১৮ ব্যাচ) এক শিক্ষার্থী বলেন, “আমরা ৪ বন্ধু আজকে হতাশার মোড় হতে সুরমা বাসের পিছনের আসন গুলোতে বসে আসছিলাম। বাস যখন স্বাধীনতা চত্বরের সামনে এসে দাঁড়ায় তখন ২০ ব্যাচের কয়েকজন শিক্ষার্থী আমাদেরকে সিট হতে উঠে যেতে বলে। আমরা না উঠাতে প্রাক্তন ব্যাচের এক ভাই এসে ২০ ব্যাচের শিক্ষার্থীদের বলেন, ভালো করে বললে ওরা উঠবে না। ওদেরকে এসে ধমক দিবি তাইলে উঠে যাবে। তোদের পিছনে আমরা আছি। পরে আমরা সম্মানহানির ভয়ে ২০ ব্যাচকে আসন গুলো ছেড়ে দিয়ে উঠে যাই। আমার সিনিয়র ভাই আমার ২ ব্যাচ জুনিয়রকে উস্কানি দিচ্ছিলো আমার সাথে বেয়াদবি করতে। একটা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে বিষয়টি আসলেই দুঃখজনক।”
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ. সাইফুল ইসলাম বলেন, সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখনও আমাদেরকে এবিষয়ে কোনও অভিযোগ করেনি। তবে শিক্ষার্থী সূত্রে আমরা বেশ কিছু অভিযোগ পেয়ে আসছি । আমরা উপযুক্ত প্রমাণের ভিত্তিতে দোষীদের সনাক্ত-পূর্বক তাদের শাস্তির ব্যবস্থা করবো।
উল্লেখ্য চুয়েটে শিক্ষার্থীর অনুপাতে বাসের সংকুলান নিয়েও ভোগান্তিতে ভুগছে শিক্ষার্থীরা । এসব সংকুলানের মাঝে সিট নিয়ে আধিপত্য শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি কয়েকগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে ।