রুটিন শুধু ছাপা কাগজেই,নেই নিয়মমাফিক কোনো শিডিউল
চুয়েচুয়েট নিউজ২৪ ডেস্কঃ
ক্লাস পরীক্ষা কিংবা কুইজ ভাইভা অথবা নিত্য দিনের দৈনন্দিন সকল কাজ সম্পাদনের জন্য একজন নাগরিককে মেনে চলতে হয় দৈনন্দিন সময়সূচি। তৈরি করতে হয় তার নিয়মমাফিক কাজের শিডিউল। কিন্তু যদি সেই রুটিনেই না থাকে কোনো মান্যগণ্য কিংবা অনীহা তাহলে নাগরিককে ভোগতে হবে নানান ধরণের ভোগান্তি।
তেমনই ক্লাস পরীক্ষা গ্রহনের সময়সূচি কাগজে কলমে দেয়া হলেও মানা হয় না তার একটুও এমন অভিযোগ উঠেছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকদের বিরুদ্ধে। চলমান ব্যাচগুলো ২০১৬-১৭ শিক্ষাবর্ষ,২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষ, ২০১৮-১৯ এবং ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা এমনই অভিযোগ করেছেন অনলাইন ক্লাস -ল্যাব নিয়ে।
শিক্ষার্থী সূত্রে জানা যায়,কাগজে কলমে নির্ধারিত রুটিন দেয়া হলেও সে অনুযায়ী খুব কমই ক্লাস ল্যাব অনুষ্ঠিত হয়। একই বিভাগের দুই- তিনটি সেকশন হওয়ায় করোনার পুর্বের ন্যায় আলাদা আলাদা ক্লাস হওয়ার কথা থাকলেও একই ক্লাস তিন সেকশনে তিনবার নেয়া কষ্ট বলে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের একই মত বিবেচনায় অনলাইন মাধ্যমে একটি ক্লাসে সকল সেকশনের শিক্ষার্থীদের নিয়ে ক্লাস গ্রহন করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের অভিযোগ মতে,সেখানে সমস্যা দাঁড়ায় বেশি সংখ্যক শিক্ষার্থীদের একসাথে ক্লাস নিতে অনেক সময় নেটওয়ার্কের সমস্যার পাশাপাশি ক্লাস বিষয়বস্তু ও টপিক বুঝতে অসুবিধা হয়। তবে এমন অনেক বিষয় মেনে নিয়ে ক্লাস পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছিলেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তবে এমন সময়ে কিছু সংখ্যক শিক্ষক রুটিন মতো সময় দিয়েও সে অনুযায়ী ক্লাসে উপস্থিত হতে ব্যর্থ হোন। শিক্ষার্থীদের অপেক্ষা করতে হয় ২০ মিনিট থেকে ত্রিশ মিনিট কখনো কখনো ১ ঘন্টাও। আবার কোনো দিন নির্দিষ্ট সময়ে ক্লাস থাকা সত্বেও শিক্ষকগণ উপস্থিত হোন না। অবশেষে ক্লাস প্রতিনিধিদের মাধ্যমে নতুন সময়সূচি জানানো হয়। এতে ক্ষুদ্ধ সাধারণ শিক্ষার্থীরা। সময় অসময় হওয়ার কারণে তাদের দৈনন্দিন কাজ কর্মে ব্যাঘাত ঘটছে বলেও তারা জানান।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ২০১৭-১৮ সেশনের এক শিক্ষার্থী বলেন,২ মাস সময় নিয়ে রুটিন বানানো হলেও সকালের ল্যাব দুপুরে, আজকের ল্যাব কালকে নেয়া হবে এই আশা দিয়ে চলছে অনলাইন ল্যাব কার্যক্রম। ফলে ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিজীবনের শিডিউল কার্যক্রম৷ এ অবস্থা থেকে পরিত্রাণ পেতে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি৷
২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের অন্য এক শিক্ষার্থী বলেন,আমরা অনলাইনে ক্লাস শুরুর পর থেকে এমন সমস্যা ফেস করছি,নেটওয়ার্ক সমস্যা সহ অন্যান্যগুলো বাদই দিলাম,কিন্তু এই যে নির্ধারিত একসময়ের ক্লাস হুট করে অন্য সময়ে গ্রহনের বিষয়টি খুব কষ্ট দেয়।অনেক স্যার সচেতন,আবার কিছু শিক্ষক রুটিন পরিবর্তন করেও সেই নির্ধারিত সময়ে উপস্থিত হতে পারেন না। সমস্যা থাকতেই পারে,না পারলে যদি আমাদের জানানো হয়,তাহলে আমরা সেই মাফিক অন্যান্য কাজকর্মের নিয়ম করতাম। বিষয়টি আমাদের কাছে দুঃখজনক।
এদিকে বিভিন্ন ব্যাচের আলাদা আলাদা বিভাগের ক্লাস প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান,বিষয়গুলো কোর্স কোঅরডিনেটর কে জানানো সত্ত্বেও আশানুরূপ সমাধান পান নি। তাই বারংবার বিষয়টি আলোচনা করছেন না তারা।
এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার অধ্যাপক ড. ফারুক-উজ-জামান চৌধুরীর সাথে কথা হলে তিনি শিক্ষার্থীদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় প্রধানদের কাছে সমস্যা সমাধান চেয়ে আবেদনের আহ্বান জানান।