
সায়েন্স ডেইলি অনুসারে ইনতিশার রহমান
ভূমিকম্পের সময় যে স্থাপনাগুলো দোলায়মান থাকতে পারে সেগুলোই ভূমিকম্পের বিরুদ্ধে বেশি স্থায়ী হবে। কেস ওয়েস্টার্ন রিজার্ভ ইউনিভার্সিটির এক গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে, এসকল স্থাপনাই ভূমিকম্প প্রতিরোধে প্রচলিত স্থাপনার চেয়ে তুলনামূলকভাবে বেশি কার্যকর হবে। কেস বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরকৌশলের সহকারি অধ্যাপক মাইকেল পলিনো নিম্ন থেকে মাঝারি ঝুকিঁপূর্ণ ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলের জন্য একটি কম্পমান স্টিল ফ্রেম কাঠামোর কম্পিউটার মডেলের সাহায্যে বিষয়টি পরোক্ষ ভাবে প্রমাণ করতে সক্ষম হয়েছেন। তার গবেষণাটি সম্প্রতি ‘ইঞ্জিনিয়ারিং স্ট্রাকচার’ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষক পলিনো বলেন এই প্রযুক্তির স্থাপনাগুলোকে কম খরচে সহজেই মেরামত করে পুনরায় ব্যবহার উপযোগি করে তোলা যাবে। (সূত্র: সায়েন্স ডেইলির)
স্থাপনা সাধারনত উলম্ব ভার নিতে পারে, তবে ভূমিকম্পের সময় এতে আরো যুক্ত হয় অনুভুমিক ভার। বর্তমানে নির্মানকৃত ভূমিকম্প প্রতিরোধী স্থাপনাগুলো ভূমিকম্প প্রতিরোধের জন্য বিকৃতি ও ক্ষয়ক্ষতির দ্বারা এই ভূমিকম্পের শক্তি শোষণ করে থাকে। সাধারণভাবে, ভূমিকম্পের সময় এসব স্থাপনাগুলোর বিম ও কলামের সংযোগ ও বন্ধনীসমূহ মচকে যায় এবং তাদের বিকৃতি ঘটে। পলিনোর মতে, ভূমিকম্পের সময় যেসব স্থাপনাগুলো দুলতে পারবে সেগুলো প্রচলিত স্থাপনাগুলোর চেয়ে আরো বেশি নিরাপদ হবে।
পলিনো তার গবেষণায় কম্পিউটারে তিন তলা বিশিষ্ট একটি বিশেষ কাঠামো ব্যবহার করেন, যাকে বলা হচ্ছে ‘রকিং স্টিল ব্রেসড্ ফ্রেম স্ট্রাকচার’। এই কাঠামোর ক্ষেত্রে কলামগুলো স্থাপনার ভিত্তির সাথে ড্যাম্পার ও স্টিল ঈল্ডিং ডিভাইস দ্বারা যুক্ত থাকে। ড্যাম্পারের মাধ্যমে সরাসরিভাবে এবং স্টিল ঈল্ডিং ডিভাইসের মাধ্যমে স্টিলের সংকোচন-প্রসারণ দ্বারা ভূমিকম্পের অতিরিক্ত বল শোষণ করা হয় যা অন্যথায় স্থাপনার ক্ষতি করতে পারত। প্রস্তাবিত মডেল অনুযায়ী ভূমিকম্প আঘাত হানলে ফ্রেম কাঠামোটি এর ভিত্তি থেকে আংশিক উঠে গিয়ে একপাশে কিছুটা হেলে পড়ে। পরবর্তীতে প্রায় সাথে সাথেই নিজস্ব ভার ও টেনশন ক্যাবলের দ্বারা স্থাপনাটি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসে। বিষয়টি অনেকটা দোলচেয়ার বা রকিং চেয়ারের কার্যপদ্ধতির মতই।
পলিনো বলেন, ‘রকিং স্টিল ব্রেসড্ ফ্রেম স্ট্রাকচার’ নিয়ে যেসব গবেষক কাজ করেছেন তারা প্রায় একই ফলাফলে উপনীত হয়েছেন।
তথ্যসূত্র: http://blog.case.edu/think/2015/02/11/buildings_with_arockinga_technology_would_be_more_earthquakeresilient_finds_cwru_civil_engineering_professor
তারিখ – ১১.৪.২০১৫