চুয়েট শিক্ষার্থীদের নরওয়েতে ছয় মাসের গবেষণার সুযোগ

ইবাদ হোসেন:

নরওয়ের এগডার বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় মাসের গবেষণা ও পাঠ্যক্রমভিত্তিক কাজের সুযোগ পাচ্ছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) শিক্ষার্থীরা। নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে উচ্চশিক্ষা ও গবেষণার লক্ষ্যে আগামী ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। এ সুযোগের আওতায় নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা নরওয়েতে অবস্থান করে গবেষণাকাজে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করার সুযোগ পাবেন।

চুয়েট ও নরওয়ের এগডার বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌথভাবে পরিচালিত ‘জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি বিষয়ে শিক্ষার সক্ষমতা বৃদ্ধিতে যৌথ উদ্যোগ (সিএআরই)’ প্রকল্পের আওতায় এ আবেদন আহ্বান করা হয়েছে। ৮ সেপ্টেম্বর (মঙ্গলবার) প্রকাশিত চুয়েটের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগ, তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল বিভাগ এবং ইনস্টিটিউট অব এনার্জি টেকনোলজিতে অধ্যয়নরত পিএইচডি ও মাস্টার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এ সুযোগের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে এ কার্যক্রম মূলত মাস্টার্স পর্যায়ের থিসিসের গবেষণাকাজ ও পাঠ্যক্রম সম্পন্ন করার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট।

আবেদনের যোগ্যতা:

মাস্টার্স পর্যায়ের যেসব শিক্ষার্থী থিসিসের গবেষণাকাজের জন্য আবেদন করবেন, তাদের সব তাত্ত্বিক কোর্স সম্পন্ন থাকতে হবে অথবা চলমান সেমিস্টারের তাত্ত্বিক কোর্স শেষ করার পর্যায়ে থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট কোর্স বা প্রোগ্রাম সমন্বয়কের সম্মতিক্রমে প্রথম সেমিস্টারের কোর্স আগামী ১৫ ডিসেম্বর ২০২৬-এর মধ্যে সম্পন্ন করতে পারলেও শিক্ষার্থীরা পাঠ্যক্রমভিত্তিক কাজের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

শিক্ষার্থী নির্বাচনের ক্ষেত্রে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স পর্যায়ে সম্পন্ন কোর্সের সিজিপিএ, সাক্ষাৎকারে কর্মদক্ষতা, পূর্বে করা আবেদন-সংক্রান্ত তথ্যসহ অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করা হবে। সব মিলিয়ে দুই থেকে তিনজন শিক্ষার্থী নির্বাচন করা হবে।

এ ছাড়া পূর্ণাঙ্গ গবেষণার অভিজ্ঞতা রয়েছে এবং ইংরেজি ভাষা দক্ষতা যাচাইয়ের পরীক্ষা সম্পন্ন করেছেন – এমন আবেদনকারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

নরওয়েতে ছয় মাসের অবস্থান:

নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী বছরের জানুয়ারি থেকে জুন – টানা ছয় মাস আগদার বিশ্ববিদ্যালয়ের নরওয়ে ক্যাম্পাসে অবস্থান করতে হবে। এ সময়ে তাদের গবেষণাকাজে পূর্ণকালীনভাবে নিয়োজিত থাকতে হবে। একই সঙ্গে চুয়েটে ফিরে মাস্টার্স ডিগ্রির কাজ দ্রুত সম্পন্ন করার শর্ত রয়েছে।

নির্বাচিত শিক্ষার্থীরা আগদার বিশ্ববিদ্যালয়ে বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগের পাশাপাশি নরওয়েতে অবস্থানকালে জীবনযাত্রার ব্যয় নির্বাহের জন্য প্রতি মাসে আনুমানিক ১৫ হাজার ১৬৯ নরওয়েজিয়ান ক্রোনার ভাতা পাবেন। তবে বিজ্ঞপ্তি অনুসারে,ভাতার পরিমাণ কমবেশি হতে পারে।

কোনো নির্বাচিত শিক্ষার্থী নির্ধারিত শর্ত পূরণ করতে না পারলে প্রকল্প কমিটি তার কাছ থেকে নির্ধারিত ক্ষতিপূরণ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে।

তিন বিষয়ে গবেষণার সুযোগ:

এ কার্যক্রমে অংশগ্রহণের জন্য আবেদনকারীদের নির্ধারিত তিনটি গবেষণা বিষয়ের যেকোনো একটির ওপর গবেষণা প্রস্তাব জমা দিতে হবে। বিষয়গুলো হলো-

১. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমন্বিত জৈবশক্তি ব্যবস্থা
২. কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-সমন্বিত সৌরশক্তি ব্যবস্থা
৩. নবায়নযোগ্য জ্বালানি প্রয়োগে উন্নত উপকরণ

গবেষণা প্রস্তাব সর্বোচ্চ তিন পৃষ্ঠার মধ্যে জমা দিতে হবে। পাশাপাশি আবেদনকারীকে কর্মসূচিতে অংশগ্রহণের আগ্রহ ও প্রেরণা এবং ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরতে হবে। প্রতিটি অংশের জন্য সর্বোচ্চ ৩০০ শব্দের সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।

আবেদনে লাগবে যেসব নথি:

আবেদনপত্রের সঙ্গে একাধিক নথি জমা দিতে হবে। এর মধ্যে রয়েছে:

  • প্রচ্ছদপত্র, যেখানে নাম, শিক্ষার্থী পরিচিতি নম্বর, শিক্ষাবর্ষ, বিভাগ বা ইনস্টিটিউট, বর্তমান শিক্ষাক্রম ও কোর্সের অবস্থা উল্লেখ করতে হবে;
  • মাস্টার্স পর্যায়ের সম্পন্ন কোর্স ও ফলাফলের বিবরণ এবং সংশ্লিষ্ট সেমিস্টারের নম্বরপত্র;
  • চলমান থিসিস বা গবেষণার অগ্রগতি ও সম্পন্ন কাজের শতকরা হার;
  • স্নাতক পর্যায়ের সনদ ও একাডেমিক নম্বরপত্র;
  • স্নাতক পর্যায়ের থিসিস বা প্রকল্পের শিরোনাম;
  • ইংরেজি ভাষা দক্ষতা পরীক্ষার ফলাফল, যদি থাকে;
  • কোর্স বা প্রোগ্রাম সমন্বয়কের সুপারিশ;
  • চুয়েটের থিসিস তত্ত্বাবধায়কের সুপারিশপত্র;
  • নির্ধারিত গবেষণা বিষয়ের ওপর গবেষণা প্রস্তাব;
  • হালনাগাদ জীবনবৃত্তান্ত;
  • প্রকাশনা, সম্মেলনপত্র, গবেষণা প্রকল্প, গবেষণার অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য গবেষণামূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য।
  • জীবনবৃত্তান্ত সর্বোচ্চ তিন পৃষ্ঠার মধ্যে রাখতে হবে। সব কাগজপত্র একত্র করে একটি মাত্র পিডিএফ ফাইল হিসেবে জমা দিতে হবে।

২৪ সেপ্টেম্বরের মধ্যে আবেদন:

আবেদনকারীদের প্রয়োজনীয় সব নথি একত্র করে আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বৃহস্পতিবারের মধ্যে ই-মেইলের মাধ্যমে প্রকল্প পরিচালক অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম এবং আগদার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. সৌমেন রুদ্রের কাছে পাঠাতে হবে।

ই-মেইলের বিষয় হিসেবে নির্ধারিত কাঠামো অনুসরণ করতে হবে – ‘৬ মাসের ফেলোশিপ, আগদার বিশ্ববিদ্যালয়, নরওয়ে – আবেদনকারীর নাম – বিভাগ/ইনস্টিটিউট’।

প্রাথমিকভাবে সাক্ষাৎকারের জন্য নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হবে। সাক্ষাৎকার অনুষ্ঠিত হবে ২৯ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার দুপুর ২টায় চুয়েটের যন্ত্রকৌশল বিভাগের সম্মেলন কক্ষে।

সাক্ষাৎকারের পর নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের সম্মতি গ্রহণ করে আগামী ১ অক্টোবর ২০২৬, বৃহস্পতিবার আগদার বিশ্ববিদ্যালয়, নরওয়েকে আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের নাম জানানো হবে।

এ সম্বন্ধে প্রকল্প পরিচালক চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম চুয়েটনিউজ২৪-কে জানান, "এর আগে ৩২ জন শিক্ষার্থী এই প্রকল্পের আওতায় সুযোগ পেয়েছেন। এবারও ২-৩ জনকে সুযোগ দেয়া হবে। পূর্বের রেজাল্ট, গবেষণা প্রস্তাব, মৌখিক পরীক্ষার নম্বর-এসব বিবেচনায় নিয়ে নির্বাচন করা হবে। বিমানভাড়া সহ তাদের যাবতীয় খরচ এই প্রকল্প থেকেই বহন করা হবে।"

চুয়েটের এ উদ্যোগ নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও উন্নত উপকরণভিত্তিক গবেষণায় শিক্ষার্থীদের আন্তর্জাতিক গবেষণা পরিবেশে কাজের সুযোগ তৈরি করবে। একই সঙ্গে নরওয়ের একটি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছয় মাসের বাস্তব গবেষণা অভিজ্ঞতা অর্জনের মাধ্যমে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের উচ্চশিক্ষা ও ভবিষ্যৎ গবেষণার পথ আরও সমৃদ্ধ হওয়ার সুযোগ তৈরি হবে।