প্রকৌশল অধিকার দিবস উপলক্ষে চুয়েটে পথসভা অনুষ্ঠিত

চুয়েটনিউজ২৪ডেস্কঃ

প্রকৌশল অধিকার দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) পথসভা কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) দুপুর ১টা ২০ মিনিটে বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাধীনতা চত্বর থেকে এ পথসভা শুরু হয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসে শেষ হয়।

এতে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসানসহ সাধারণ শিক্ষার্থী বৃন্দ।

পথসভা চলাকালে শিক্ষার্থীরা কোটা না মেধা, মেধা মেধা; জেগেছে রে জেগেছে, প্রকৌশলী সমাজ জেগেছে; কোটা প্রথার বিরুদ্ধে, ডাইরেক্ট অ্যাকশন; দশম দশম পরে কর, ইঞ্জিনিয়ার বানান কর; সবার মুখে এক বয়ান, ডিপ্লোমারা টেকনিশিয়ানসহ নানান স্লোগান দেয়।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের যন্ত্রকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. শাহ আলম বলেন, "বহির্বিশ্বে ইঞ্জিনিয়ার পদবী ব্যবহার করার ন্যূনতম যোগ্যতা হচ্ছে বিএসসি ডিগ্রিধারী হওয়া। কিন্তু বাংলাদেশে ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারীরা অবাধে নিজেদের ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে দাবি করছে। দেশকে সংস্কার করতে হলে আমাদের এ বিষয়টি ঠিক করতে হবে। কিন্তু তা একদিনে হবে না, আমাদের লেগে থাকতে হবে। গতবছর আমরা এ নিয়ে দীর্ঘ আন্দোলন সংগ্রাম করেছি। ভবিষ্যতেও আমরা এ ব্যাপারে ঐক্যবদ্ধভাবে আন্দোলন চালাবো।"

পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. বশির জিসান বলেন, "প্রকৌশল খাতে অন্যায্য কোটা ব্যবস্থার কারণে রাষ্ট্র তার মূল্যবান সম্পদ হারাচ্ছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষা দ্বারাই দশম গ্রেডে চাকরি করার সুযোগ দেওয়া উচিত, হোক সে ডিপ্লোমা সার্টিফিকেটধারী কিংবা বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারিং সার্টিফিকেটধারী। ২০২৪ সালের কোটা আন্দোলনের পরও এ অন্যায্য কোটা বহাল থাকা দুঃখজনক।"

তিনি আরও বলেন, "প্রিয় ছাত্রদের প্রতি অনুরোধ রইলো যাতে তোমরা হতাশ হইয়ো না। আন্দোলনে সফল হওয়ার আগ পর্যন্ত আন্দোলনকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। প্রকৌশল অধিকার দিবস সফল হোক। প্রকৌশলীরা নিজ নিজ কর্মক্ষেত্রে তাদের মেধা ও যোগ্যতা দিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, সেই কামনা করি।"

উল্লেখ্য, গত বছর ২৭ আগস্ট প্রকৌশলীদের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার দাবিতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা ঢাকার শাহবাগে একত্রিত হয়। কর্মসূচি চলাকালে তাদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। সেই ঘটনার স্মরণে দিনটি ‘প্রকৌশল অধিকার দিবস’ হিসেবে পালন করা হচ্ছে।