মো. মিসবাহ উদ্দিন:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নিয়মিত শিক্ষার্থীদের জন্য ‘স্টুডেন্ট হেলথ ইনস্যুরেন্স’ কার্যক্রম চালু হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও জেনিথ ইসলামিক লাইফ ইন্স্যুরেন্স পিএলসি-এর মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির আওতায় শিক্ষার্থীরা এ সুবিধা পাবেন।
৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: সাইফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এই বীমা কার্যক্রমের আওতায় শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ ২ লাখ টাকা পর্যন্ত জীবন বীমা সুবিধা পাবেন। এছাড়া হাসপাতালে ভর্তি চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১ লাখ টাকা এবং বহির্বিভাগ চিকিৎসা ব্যয়ের জন্য বছরে সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা পর্যন্ত আর্থিক সুবিধা প্রদান করা হবে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, বীমা-সংক্রান্ত সকল ইন্স্যুরেন্স ক্লেইম সম্পূর্ণ অনলাইন প্রক্রিয়ায় গ্রহণ ও নিষ্পত্তি করা হবে। এজন্য প্রত্যেক শিক্ষার্থীকে নির্ধারিত ওয়েবসাইটে প্রবেশ করে নিজস্ব তথ্য দিয়ে অনলাইন রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন না করলে ভবিষ্যতে বীমা সুবিধা গ্রহণ ও এ সংক্রান্ত দাবি উত্থাপনের ক্ষেত্রে জটিলতা সৃষ্টি হতে পারে বলে জানানো হয়।
যন্ত্রকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী তাহসিন শাহাদাত বলেন, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবেলা এবং উচ্চশিক্ষার পথ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে বিশ্ববিদ্যালয়ে স্বাস্থ্যবীমা চালুর এই উদ্যোগটি অত্যন্ত সময়োপযোগী ও প্রশংসনীয়। বিশেষ করে আর্থিক অনটনে থাকা পরিবারের সন্তানদের জন্য কোনো আকস্মিক দুর্ঘটনা বা জটিল ব্যাধি যদি পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যাওয়ার বড় কারণ হয়ে দাঁড়ায়, সেখানে এই বীমা একটি বড় সুরক্ষাবলয় তৈরি করবে। তবে এই স্বাস্থ্যবীমা সেবার সুফল নিশ্চিত করতে হলে আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করা এবং প্রশাসনিক জটিলতামুক্ত রাখা জরুরি। আশা করি, বিশ্ববিদ্যালয়ের এই মহতী উদ্যোগ অন্যান্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্যও একটি অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।”
এ বিষয়ে ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো: সাইফুল ইসলাম জানান, “শিক্ষার্থীদের স্বাস্থ্য বীমাটি গত জুলাই মাস থেকে কার্যকর হয়েছে।জুলাই মাস থেকে কোনো শিক্ষার্থী যদি চিকিৎসা সেবা নিয়ে থাকে,তাহলে তারও এই বীমার সুবিধাভোগী হিসেবে আওতাভুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে।আমাদের শিক্ষার্থী অর্নব সাহাও এর আওতাভুক্ত হবেন। রেজিস্ট্রেশনভুক্ত হওয়ার পর জীবন বীমা সুবিধার প্রেক্ষিতে তার পরিবার দুই লক্ষ টাকা পাবে।”