সাব্বির হোসেন:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অনুষ্ঠিত হয়ে গেল “চ্যালেঞ্জেস অব কোয়ালিটি সফটওয়্যার ডেভলপমেন্ট উইথ এআই অ্যান্ড আইটি এন্টারপ্রেনারশিপ” শীর্ষক দিনব্যাপী কর্মশালা। গতকাল ২৫ জুলাই (শনিবার) বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগ এবং মাইসফট হেভেন লিমিটেডের যৌথ উদ্যোগে একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। অনুষ্ঠানটির সভাপতিত্ব করেন কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মীর মু. সাক্বী কাওসার। এতে আরো উপস্থিত ছিলেন উক্ত বিভাগের বিভাগীয় প্রধান (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক ড. মাহফুজুল হক চৌধুরী এবং প্রভাষক মো. রেফাজ হোসেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, “আর্টিফিসিয়াল ইন্টিলিজেন্স ব্যবসা পরিচালনা, খাদ্য নিরপত্তা, এনার্জি সক্ষমতা, দুর্যোগ ও সম্পদ ব্যবস্থাপনা, সাইবার নিরপত্তাসহ প্রযুক্তির সকল ক্ষেত্রে আধিপত্য বিস্তার করছে। বিশেষ করে সময় ও ব্যয় সাশ্রয় করে ত্রুটিমুক্ত সফটওয়্যার নির্মাণের ক্ষেত্রে এআই প্রযুক্তির ব্যবহার উদীয়মান সম্ভাবনা হিসাবে গণ্য করা হচ্ছে। ফলে কম্পিউটার সায়েন্স ইঞ্জিনিয়ারিং শিক্ষার্থীদের এআই প্রযুক্তির ওপর দক্ষতা অর্জন এবং সেইসাথে এআই এর নিয়ন্ত্রণ হাতে নিতে হবে। নিয়ন্ত্রক নয় বরং এআই কে সহায়ক হিসাবে গণ্য করে গুণগত আইটি সেবা নিশ্চিত করাই হবে আমাদের লক্ষ্য।”
কর্মশালায় দেশের শীর্ষস্থানীয় আইটি কোম্পানি মাইসফট হেভেন (বিডি) লিমিটেডের কর্মকর্তারা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা এবং আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে কীভাবে মানসম্মত সফটওয়্যার তৈরি করা যায়, সে বিষয়ে আলোচনা করেন। এছাড়াও শিল্প খাতের বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা শিক্ষার্থীদের সফটওয়্যার ডিজাইন, সাইবার নিরাপত্তা এবং এআই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ সম্পর্কে ধারণা প্রদান করেন।
এছাড়াও আয়োজনে তাত্ত্বিক আলোচনার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের জন্য ছিল ৯০ মিনিটের এআই হ্যাকাথন এবং অনলাইন কুইজ প্রতিযোগিতা।
কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী মো: মাহি ইসলাম বলেন, “কর্মশালাটি আমার জন্য অত্যন্ত শিক্ষণীয় ও অনুপ্রেরণামূলক একটি অভিজ্ঞতা ছিল। ওয়ার্কশপে সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট, এআই, সাইবার সিকিউরিটি সম্পর্কে শিল্পক্ষেত্রের বিশেষজ্ঞদের কাছ থেকে বাস্তবভিত্তিক জ্ঞান অর্জনের সুযোগ পেয়েছি। আমাদের একাডেমিক বিষয়গুলোয় আমরা সাধারণত থিউরি শিখে থাকি যেখানে অনেক সময়ই বাস্তবতা সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায় না। এছাড়া বর্তমানে চলছে ভাইব কোডিং এর যুগ। এআইকে কিভাবে ব্যাবহার করা উচিত, আমাদের কি নিয়ে কাজ করা উচিত, কি শিখা উচিত এমন অনেক রিয়েল ওয়ার্ল্ড ওয়ার্ক সম্পর্কে ধারনা পেয়েছি।”