চুয়েটে অনুষ্ঠিত হলো নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন

মিসবাহ উদ্দীনঃ

সকালে ছিল তপ্ত রোদের ঝলকানি। আর দুপুর গড়াতেই নেমে আসে মুষলধারে বৃষ্টি। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্যময় আবহাওয়ার মধ্য দিয়েই নতুন শিক্ষার্থীদের বরণ করে নিলো চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (চুয়েট)। বৃষ্টি, উচ্ছ্বাস আর নতুন স্বপ্নের আবহে আজ বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবাগত শিক্ষার্থীদের ওরিয়েন্টেশন ও নবীনবরণ অনুষ্ঠান।

দিনব্যাপী এ আয়োজন দুটি পর্বে অনুষ্ঠিত হয়। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া প্রথম পর্বে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক কৌশল, কম্পিউটার বিজ্ঞান ও কৌশল, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, ইলেকট্রনিকস অ্যান্ড টেলিকমিউনিকেশন ইঞ্জিনিয়ারিং এবং বায়োমেডিকেল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের শিক্ষার্থীদের বরণ করে নেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় পর্বে পুরকৌশল, যন্ত্রকৌশল, স্থাপত্য, পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং, মেকাট্রনিক্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল ইঞ্জিনিয়ারিং, পানিসম্পদ কৌশল এবং ম্যাটেরিয়ালস অ্যান্ড মেটালার্জিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের নবীনদের জন্য অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ভূমি মন্ত্রণালয় ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর হেলাল উদ্দীন। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার ও বিভিন্ন অনুষদের ডিনরা। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে চুয়েটের সাফল্যের ভূয়সী প্রশংসা করেন প্রতিমন্ত্রী মীর হেলাল উদ্দীন। তিনি বলেন, বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ভ্রমণের সময় বড় বড় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান পরিদর্শনের সুযোগ হয়েছে তাঁর। প্রায় সব জায়গাতেই তিনি চুয়েটের সাবেক শিক্ষার্থীদের কর্মরত অবস্থায় দেখেছেন। তিনি বলেন, শুধু দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠান নয়, গুগল, অ্যামাজন, টেসলা, সিমেন্স, স্যামসাংসহ বিশ্বখ্যাত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চুয়েটের শিক্ষার্থীরা সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন।

তিনি আরও জানান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের ‘ভূমি দৃষ্টি’ অ্যাপ্লিকেশন তৈরিতেও চুয়েটের একজন সাবেক শিক্ষার্থীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জিওফেন্সিং প্রযুক্তিনির্ভর এই সফটওয়্যারটি পূর্বের তুলনায় প্রায় ৩৬ শতাংশ কম খরচে তৈরি করা সম্ভব হয়েছে।

নবীনদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। পড়াশোনার পাশাপাশি সৃজনশীলতা, দক্ষতা ও ব্যক্তিত্ব বিকাশেও গুরুত্ব দিতে হবে। একই সঙ্গে তিনি মাদক থেকে দূরে থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অনেক মেধাবী মানুষ মাদকের কারণে তাদের সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলেছেন। জীবনের যেকোনো সংকট বা হতাশা থেকে আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ঘুরে দাঁড়ানোর মানসিক শক্তি গড়ে তোলার পরামর্শ দেন তিনি।

সম্মানিত অতিথির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, বিশ্ব এখন চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের যুগে প্রবেশ করেছে। ভবিষ্যতের কর্মক্ষেত্রে শুধু ভালো ফলাফল নয়, বিশ্লেষণী চিন্তা, সৃজনশীলতা, গবেষণার মানসিকতা, যোগাযোগ দক্ষতা, দলগতভাবে কাজ করার সক্ষমতা এবং নৈতিক নেতৃত্বের গুণাবলিও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আজকের এই নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্য থেকেই আগামী দিনের গবেষক, উদ্যোক্তা, প্রযুক্তি উদ্ভাবক ও শিল্পনেতারা তৈরি হবে।

অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক ও কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। তারা নবীন শিক্ষার্থীদের শুভেচ্ছা জানান এবং বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের বিভিন্ন দিক নিয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন। অনুষ্ঠানের শেষে নবীনবরণের অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের হাতে পরিচিতিমূলক হ্যান্ডবুক তুলে দেওয়া হয়।

কেন্দ্রীয় অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার পর শিক্ষার্থীদের নিজ নিজ বিভাগে পরিচিতি ও নির্দেশনা সেমিনারের আয়োজন করা হয়। সেখানে বিভাগীয় প্রধান, শিক্ষক এবং অগ্রজ শিক্ষার্থীরা নবীনদের সঙ্গে পরিচিত হন এবং বিভাগীয় কার্যক্রম, নিয়মকানুন ও শিক্ষাজীবনের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরেন।

স্থাপত্য বিভাগের নবাগত শিক্ষার্থী লাবণ্য বর্মন নিজের অনুভূতি জানিয়ে চুয়েটনিউজ২৪ কে বলেন, “চুয়েটের সবুজ ক্যাম্পাস দেখে আমার খুব ভালো লাগছে। আয়োজনও ছিল সুন্দর। নতুন বন্ধুদের সঙ্গে পরিচয় হচ্ছে। যাদের সঙ্গে আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা হতো, তাদের সঙ্গে সরাসরি দেখা করে আরও ভালো লাগছে।”

উল্লেখ্য, ১৭ জানুয়ারি চুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। এ বছর বিশ্ববিদ্যালয়টিতে ৯৩১টি আসনে শিক্ষার্থীরা ভর্তির সুযোগ পাচ্ছেন।