গোলাম মোস্তফা তানিম:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অনুষ্ঠিত হলো দুইদিনব্যাপী প্রতিযোগিতামূলক উৎসব ‘এনভিশন ২.০’। গবেষণা ও উদ্ভাবনভিত্তিক সংগঠন আমেরিকান সোসাইটি অব সিভিল ইঞ্জিনিয়ার্সের (এএসসিই) চুয়েট শাখা প্রতিবছর শিক্ষার্থীদের জন্য বিভিন্ন সৃজনশীল ও জ্ঞানভিত্তিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এবছর ১৭-১৮ অক্টোবর চুয়েটের পুরকৌশল ভবনে এই উৎসবটি আয়োজন করা হয়।
উৎসবে ছিলো বিভিন্ন প্রতিযোগিতা যেমন অটোক্যাড প্রতিযোগিতা (ক্যাডজিলা), কেইসকুয়েস্ট, রিসার্চ পেপার কম্পিটিশন, জি কোস্টার কম্পিটিশন, মেকানিক্স অলিম্পিয়াড, টেকসই সমস্যা সমাধান ও প্রেজেন্টেশন। আয়োজকরা জানিয়েছেন, এসব সেগমেন্টে অংশগ্রহণ শিক্ষার্থীদের প্রেজেন্টেশন স্কিল, সমস্যা সমাধান, টিমওয়ার্ক ও নেতৃত্বের দক্ষতা বৃদ্ধি করবে।
এ বিষয়ে টেকসই সমস্যা সমাধান ও উপস্থাপনায় অংশগ্রহণকারী চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী সাদিয়া ইসলাম ইভা বলেন , “আজকের ইনভিশন-২.০-তে টেকসই সমাধান প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেছি। এখানে কয়েকটি নকশা সমস্যা দেওয়া হয়েছিল, যা বাস্তবধর্মীভাবে সমাধান করে টেকসইতা বজায় রাখছে এমনটা দেখাতে হয়েছিল। এখানে অংশকগ্রহণকরে বেয়াহ ভালো লাগছে। নতুন অনেক কিছু শিখতে পারছি।”
এএসসিই চুয়েট শাখার সভাপতি আব্দুল ওয়াদুদ শিমুল বলেন, “আমরা সবসময় শিক্ষার্থীদের পাঠ্যজ্ঞানকে বাস্তব ইঞ্জিনিয়ারিং কনসেপ্টের সঙ্গে যুক্ত করে প্রতিযোগিতায় সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করি। শিক্ষার্থীদের উচ্ছ্বসিত অংশগ্রহণ আমাদের আরও এ ধরনের কার্যক্রম আয়োজনের প্রেরণা দেয়। আশা করি, ভবিষ্যতেও এ অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকবে।”
আয়োজক সংগঠনের অনুষদ উপদেষ্টা পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. আয়শা আখতার জানান, গত বছরও আমরা এ ধরনের একটি প্রতিযোগিতার সফল আয়োজন করেছিলাম। এবার ছয়টি সেগমেন্টে প্রায় শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে। এবছর প্রতিযোগিতায় একটি নতুন বৃহৎ সেগমেন্ট যুক্ত করা হয়েছে— সাস্টেইনেবল সলিউশন কম্পিটিশন। এ সেগমেন্টকে কেন্দ্র করে আমরা একটি টিমকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের জন্য মনোনয়ন দেওয়ার পরিকল্পনা করছি।
অনুষ্ঠানটির পুরস্কার বিতরণী পর্বে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, “এএসসিই কর্তৃক অনুষ্ঠিত প্রতিযোগিতাগুলি পুরকৌশলীদের দক্ষতা বৃদ্ধি করতে অন্যতম সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। আমি চাই তারা তাদের গুণাবলির মাধ্যমে দেশব্যাপী ছড়িয়ে যাক। এএসসিইর এমন সুন্দর আয়োজন অব্যাহত থাকুক।”
উল্লেখ্য, চুয়েটের এএসসিই প্রতিবছরই শিক্ষার্থীদের দক্ষতা উন্নয়নে ওডিসি, এনভিশনসহ নানা প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। এ সমস্ত প্রতিযোগিতা তাদের দক্ষতা ও গবেষণার আগ্রহ বৃদ্ধি সহ অভিজ্ঞতা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। অনুষ্ঠানটির সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় ছিল ইকুইটি।