গোলাম মোস্তাফা তানিম:
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনির্মিত মুক্তিযোদ্ধা হলে বিশুদ্ধ খাবার পানির ব্যবস্থার উদ্বোধন করা হয়েছে। গতকাল ১৫ সেপ্টেম্বর (সোমবার) এ ব্যবস্থার উদ্বোধন করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। পরবর্তীতে তিনি হল পরিদর্শন করেন এবং উক্ত হলের আবাসিক শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।
নবনির্মিত হলটিতে শিক্ষার্থীদের আবাসনের ব্যবস্থা করা হলেও ছিলনা বিশুদ্ধ খাওয়ার পানির কোন ব্যবস্থা। এতে বিড়ম্বনার শিকার হয় শিক্ষার্থীরা। গতকাল সর্বমোট দশটি বিশুদ্ধ পানির কল উদ্বোধন করা হয়।
পবিত্র কুরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে মত বিনিময় সভা শুরু হয়। সেখানে মুক্তিযোদ্ধা হলের আবাসিক শিক্ষার্থীবৃন্দ কর্তৃপক্ষের নিকট ১৬ টি দাবি উত্থাপন করেন। এতে তারা তাদের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা গুলো দ্রুত নিশ্চিত করার কথা বলেন।
অনুষঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া। এতে সভাপতিত্ব করেন মুক্তিযোদ্ধা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বিপুল চন্দ্র মণ্ডল ।এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন চুয়েটের পরিকল্পনা ও উন্নয়ন অধিদপ্তরের পরিচালক ড. কাজী দেলোয়ার হোসেন, ছাত্র কল্যাণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মোঃ মোক্তার হোসেন, চুয়েটের প্রধান প্রকৌশলী মোঃ সিরাজুল ইসলাম, মুক্তিযোদ্ধা হলের সহকারী প্রভোস্ট মোঃ মিরাজুল ইসলাম এবং সেলিম হোসেন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন চুয়েটের স্থাপত্য কৌশল বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মুহাম্মদ রাউফুন নাঈম।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাহমুদ আব্দুল মতিন ভূইয়া বলেন, “এই নতুন হলটি পরিদর্শন করে আমার অত্যন্ত ভালো লেগেছে। এটি অনেক সুন্দর ও পরিকল্পিতভাবে নির্মিত হয়েছে। যদিও এখনো কিছু প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা সম্পূর্ণভাবে নিশ্চিত করা যায়নি, তবে সময়ের সাথে সাথে সব হয়ে যাবে। আমরা সব সময় চেষ্টা করি শিক্ষার্থীদের সকলকেই যেন একটা ভালো বাসস্থান এবং শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া যায়। এজন্য আমার পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ চেষ্টা থাকবে।
মুক্তিযোদ্ধা হলের প্রভোস্ট অধ্যাপক ড. বিপুল চন্দ্র মণ্ডল বলেন, “আমাদের পক্ষ থেকে যতটুকু সম্ভব আমরা চেষ্টা করছি বাকি সমস্যাগুলো যেন দ্রুত সমাধান করা যায়। আগামী মাস থেকেই হলে ডাইনিং চালু হবে।পূজার বন্ধের পর হলের ক্যান্টিন চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সিসি ক্যামেরা স্থাপনের কাজ এক সপ্তাহের মধ্যেই শুরু হবে এবং আশা করছি, দুই সপ্তাহের মধ্যে তা সম্পন্ন হবে।”
শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “শিক্ষার্থীরা যে কোন সময়ে আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে। তাদের যে কোনো ভালো পরামর্শ থাকলে আমরা তা গ্রহণ করব এবং হলটিকে ভালোভাবে পরিচালনা করার চেষ্টা করব।”
উপস্থিত শিক্ষার্থীদের মধ্যে পুরকৌশল বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ফারহান হক জানান, “গতকাল রাতে আমাদের হলে এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে আমরা কর্তৃপক্ষের কাছে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরেছি। তাঁরা আমাদের প্রয়োজনীয় বিষয়গুলোর দ্রুত সমাধানে আশ্বাস দেন এবং কিছু সময়সাপেক্ষ বিষয়েও যত দ্রুত সম্ভব ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান।”