মো. ফাহিম রেজা :
চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে বিশ্ব আত্মহত্যা প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে অনুষ্ঠিত হয়েছে “স্টুডেন্ট মেন্টাল হেলথ ফেস্ট ২০২৫”। এ আয়োজনটি করে মনোকর্ণ ইনস্টিটিউশন অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ।
অনুষ্ঠানের মূল উদ্দেশ্য ছিল শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধি, তাদের স্ট্রেস কমাতে মজাদার বিভিন্ন কার্যক্রমে উৎসাহ প্রদান এবং সাইকোলজিক্যাল অ্যাসেসমেন্ট ও সহায়তা প্রদান। চুয়েটের শিক্ষার্থীসহ বাইরের অনেক শিক্ষার্থীরাও স্বতঃস্ফূর্তভাবে এ ফেস্টে অংশ নেন।
ফেস্টটি মূলত দুটি অংশে বিভক্ত ছিল— গেমিং জোন এবং অ্যাসেসমেন্ট জোন। গেমিং জোনে ২০০’রও বেশি অংশগ্রহণকারী নানা কার্যক্রমে অংশ নেন। মানসিক চাপমুক্ত করতে “ডজ দ্য বল”, “ডুডলিং অ্যান্ড ফিডব্যাক” এবং “পপ দ্য বেলুন” নামের গেম আয়োজন করা হয়। শিক্ষার্থীরা এসব কার্যক্রমে আবেগ প্রকাশের সুযোগ পেয়েছেন এবং ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, অ্যাসেসমেন্ট জোনে ৫০ এরও বেশি অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন সাইকোলজিক্যাল স্কেল টেস্টে অংশ নেন। এর মধ্যে ছিল ডিপ্রেশন, অ্যাংজাইটি ও স্ট্রেস স্কেল (DASS), সেলফ-ইস্টিম স্কেল, বিগ ফাইভ পার্সোনালিটি ইনভেন্টরি, সুইসাইড আইডিয়েশন স্কেলসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যাসেসমেন্ট। প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ফ্যাসিলিটেটররা অংশগ্রহণকারীদের টেস্টে সহায়তা, ফলাফল ব্যাখ্যা ও প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়া, যেসব শিক্ষার্থীদের বিশেষ সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল তাদের জন্য চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সাইকোলজিস্ট মো. আবদুল্লাহ আল নোমান একান্ত সেশন নেন।
এ আয়োজন সম্পর্কে চুয়েট মেডিকেল সেন্টারের সাইকোলজিস্ট মো. আবদুল্লাহ আল নোমান বলেন— “এই ধরনের কার্যক্রম গুলো অবশ্যই প্রয়োজনীয় এবং উৎসাহমূলক। আশা করছি ভবিষ্যতেও আমরা মনোকর্ণ হতে এমন কার্যক্রম গুলো আরো বেশি দেখতে পারবো।”
মনোকর্ণের ইন্টার্ন সাইকোলজিস্ট ও “পাশেই আছি” এর এক্সিকিউটিভ জেরিন মোস্তারি বলেন— “বর্তমানে একাডেমিক চাপের কারণে অনেক শিক্ষার্থী হতাশা ও দুশ্চিন্তায় ভুগছেন। প্রায়ই তারা কথা বলতে সংকোচবোধ করেন, যা পরবর্তীতে আত্মহত্যার মতো ভয়াবহ সিদ্ধান্তে ঠেলে দেয়। তাই সচেতনতা বাড়ানো এবং সহায়তা প্রদান অত্যন্ত জরুরি। আমাদের এ প্রচেষ্টা আত্মহত্যা প্রতিরোধে কিছুটা হলেও অবদান রাখবে বলে আশা করি।”
দিনব্যাপী আয়োজনে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ, আনন্দঘন ও সহায়ক পরিবেশে অংশগ্রহণ করেন। আয়োজকরা জানান, ভবিষ্যতেও শিক্ষার্থীদের মানসিক স্বাস্থ্য ও কল্যাণে মনোকর্ণ ইনস্টিটিউশন অব মেন্টাল হেলথ অ্যান্ড রিসার্চ এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত রাখবে।