চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হলো প্রকৌশলীদের বিভাগীয় মহাসমাবেশ

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্কঃ

বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারদের ৩ দফা দাবি আদায়ের লক্ষ্যে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক লালদিঘী ময়দানে অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রকৌশলীদের বিভাগীয় মহাসমাবেশ। আজ ৪ সেপ্টেম্বর (বৃহস্পতিবার) বিকাল ৪ টায় প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের ব্যানারে বিশাল এই সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

জানা যায়, বিগত ছয়মাস ধরে প্রকৌশলীদের অধিকার আদায়ে ৩ দফা দাবিতে দেশজুড়ে আন্দোলন করে আসছেন বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল শিক্ষার্থীরা। এরই অংশ হিসেবে রংপুরের পর আজ চট্টগ্রামে অনুষ্ঠিত হয়েছে এই মহাসমাবেশ।
প্রায় হাজারখানেক শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও প্রকৌশলীদের উপস্থিতিতে আন্দোলনকারীরা আবারো তাদের দাবি সরকারের কাছে তুলে ধরেন।

উক্ত সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি) চট্টগ্রামের চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মানজারে খোরশেদ আলম, সহ-সভাপতি প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক প্রকৌশলী খান আমিনুর রহমান, এইবি চট্টগ্রাম সেন্টারের সভাপতি প্রকৌশলী জানে আলম মোঃ সেলিম, ফোরাম অফ ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যান্ড আর্কিটেক্টস চট্টগ্রাম সেন্টারের সহ-সভাপতি মোঃ মমিনুল হক, চুয়েটসহ চট্টগ্রামের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থীসহ আরো অনেকেই।

চুয়েটের পেট্রোলিয়াম এন্ড মাইনিং ইন্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মোহাম্মদ সায়েম বলেন, “শেষ বছর শিক্ষার্থীদের কে যখন জিজ্ঞেস করা হয় পরবর্তী প্ল্যান কি, একটা বড় অংশ শিক্ষার্থী জানায় যে তারা দেশ ছেড়ে চলে যাবে। যথাযথ সুবিধা না পাওয়ায় এই অবস্থার সৃষ্টি হচ্ছে। অন্য কোন সরকারি চাকরিতে এমন পদোন্নতির নিয়ম কেউ দেখতে পারবেন না শুধু প্রকৌশল চাকরিতেই শুধু অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে পদোন্নতি দেওয়া হয়।”

ইনস্টিটিউট অব ইঞ্জিনিয়ার্স (আইইবি)-এর চট্টগ্রাম সেন্টারের চেয়ারম্যান ইঞ্জি. মানজারে খোরশেদ আলম বলেন, “আমি খুব ব্যতীত অনুভব করছি আমাদের তরুণ প্রকৌশলী ভাইদের ল্যাব, ক্লাস ছেড়ে অধিকার আন্দারের আদায়ের জন্য রাজপথে আসতে হয়েছে। দেশে যদি কোটা প্রথা সম্পূর্ণরূপে বিলুপ্ত করা হতো তাহলে এই পরিবেশ সৃষ্টি হতো না। প্রকৌশলীদের জায়গাগুলো, প্রকৌশলী নন এমন লোকরা এসে দখল করে নিচ্ছে। শুধু আইবি চট্টগ্রাম নয় সারা দেশের সকল প্রকৌশলী এই তিন দফা দাবির সাথে একমত পোষণ করেছে। বলা হয়ে থাকে, দেশের ইঞ্জিনিয়ার এ কারণে বাইরে থেকে প্রকৌশলী আনতে হয় কিন্তু আমরা বলতে চাই দেশের প্রকৌশল খাতে যে সীমাহীন বৈষম্য দুর্নীতি চলছে দেশীয় প্রকৌশলীরা তাদের স্থান না পাওয়ার কারণে বিদেশী প্রকৌশলী আনতে হয়। আমাদের যে তিন দফা দাবি তা দ্রুতই মেনে নেয়া হোক এবং বাইরের উদ্ভূত পরিস্থিতিটা সরকার নিভৃত করুক।”

উক্ত সমাবেশে প্রকৌশলী অধিকার আন্দোলনের সহ-সভাপতি শাকিল আহমেদ ইকবাল বলেন, “প্রকৌশলীদের ৩ দফা দাবি আদায়ের মাধ্যমে এদেশের প্রকৌশল খাতের মেরুদণ্ড গঠন হবে। নইলে এইচএসসি সমমান ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারী ভাইদের ব্যবহার করে যে সিন্ডিকেট এদেশকে দূর্বল করে রেখেছে তাদের হাতে এদেশ ধ্বংস হবে। একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট বছরের পর বছর ধরে এই সমস্যাকে জিইয়ে রেখেছে। যদি এদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের মেধাবী শিক্ষার্থীরদের তাদের ইচ্ছামত প্রতিযোগিতার সুযোগ না দেওয়া হয় তবে বুয়েট, কুয়েট, চুয়েট, রুয়েট, প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় গুলোর ইঞ্জিনিয়ারিং অনুষদ গুলো বন্ধ করে দেন। টেকনিশিয়ান দিয়ে প্রকৌশল খাত চালান।

চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী মো: ইফতেখার মাহমুদ বলেন, আজকে বিএসসি ইঞ্জিনিয়ারেরা তাদের মাথার ঘাম পায়ে ফেলে উত্তীর্ণ হয়ে দেখছে, তাদের জায়গা দখল করে রেখেছে ডিপ্লোমা টেকনিশিয়ানরা। এর চাইতে লজ্জার আর কি হতে পারে? অবৈধভাবে তারা দখল করে রেখেছে ইঞ্জিনিয়ারিং এর ৮০ শতাংশ পদ। যেখানে বিএসসি আর বিসিএস দিয়ে ৯ম গ্রেডে ঢুকতে গিয়ে অজস্র বিনিদ্ররজনী কাটাতে হয় আমাদের, সেখানে অবৈধ কোটা নিয়ে ডিপ্লোমারা প্রতিদ্বন্দ্বিতা ব্যতিরেকে প্রমোশন হাসিল করছে। হাতে কলমে ৩৩ শতাংশ থাকলেও বাস্তবে তা ৫০ শতাংশ ক্রস করেছে। আমরা জোরালোভাবে এই দাবি জানাচ্ছি যে, প্রকৌশল খাতের সংস্কার এখনই করতে হবে, অতি সত্তর করতে হবে।

উল্লেখ্য, শিক্ষার্থীদের পূর্বঘোষিত ৩ দফা দাবিসমূহ ছিল-নবম গ্রেডে নূন্যতম যোগ্যতা বিএসসি রেখে পরীক্ষার মাধ্যমে নিয়োগ, দশম গ্রেডকে কোটামুক্ত করে বিএসসিদের জন্য সুযোগ করে দেয়া এবং বিএসসি ছাড়া যেন কেউ প্রকৌশলী পদবী ব্যবহার না করতে পারে তা নিশ্চিত করা।