চুয়েটে বই বিনিময়ের মাধ্যমে শুরু হলো ৯ম তারুণ্য উৎসব

নাজিফা তাসনিম জিফাঃ

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আজ বৃহস্পতিবার শুরু হয়েছে তিন দিনব্যাপী “৯ম তারুণ্য উৎসব”। চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ জাতীয় বিতর্ক উৎসবটি চলবে আগামী ২রা আগস্ট পর্যন্ত।

উৎসবের প্রথম দিনে ছাত্রশিক্ষক মিলনায়তনের (টিএসসি) ক্যাফেটেরিয়ায় আয়োজন করা হয় বই বিনিময় উৎসব। একাডেমিক, ফিকশন, নন-ফিকশন, সেলফ-মোটিভেশন, ধর্মীয় ও ম্যাগাজিন—এই ছয়টি বিভাগে অংশগ্রহণকারীরা নিজেদের বই বিনামূল্যে বিনিময়ের সুযোগ পান। আয়োজকদের মতে, এ উদ্যোগ পাঠাভ্যাস ও জ্ঞান ভাগাভাগিকে আরও উৎসাহিত করবে।

আগামীকাল শুক্রবার অনুষ্ঠিত হবে আন্তঃস্কুল, আন্তঃকলেজ ও আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় বিতর্ক প্রতিযোগিতা, যেখানে দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে আগত ৫২টি দল অংশ নেবে। প্রতিযোগিতা শেষে সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা ও কনসার্ট আয়োজনের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানা যায়।

উৎসবের শেষ দিন শনিবার বিশ্ববিদ্যালয়ের অডিটোরিয়ামে প্রদর্শিত হবে স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র এবং অনুষ্ঠিত হবে বিতর্ক প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্ব। একই দিনে প্রকাশিত হবে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির বার্ষিক ম্যাগাজিন ‘মিছিল’। পরবর্তীতে পুরস্কার বিতরণের মাধ্যমে সমাপ্তি ঘটবে তিন দিনব্যাপী এই আয়োজনের।

এ ব্যাপারে চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির সভাপতি গোলাম মুরাদ বলেন, যুক্তি দিয়ে গাই শুদ্ধ আত্মার গান। তারুণ্য উৎসব আমাদের ক্লাবের সবচেয়ে বড় এবং গর্বের আয়োজন। যুক্তির মঞ্চে দেশের প্রতিভাবান তরুণ-তরুণীদের একত্রিত করতে পেরে আমরা আনন্দিত। এছাড়াও উৎসবের বিশেষ আকর্ষণ—আমাদের মিছিল প্রকাশনা, যা বিতর্ক, বিশ্লেষণ ও চিন্তার বহুমাত্রিক রূপ তুলে ধরবে। আশা করি, এটি পাঠকদের অনুপ্রাণিত করবে এবং আমাদের কাজের স্মারক হয়ে থাকবে।

স্থাপত্য বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী নুজহাত তাবাস্সুম মুসকান চুয়েটনিউজ২৪ কে জানান, বই বিনিময় উৎসবের মাধ্যমে ৯ম তারুণ্য উৎসব শুরু হওয়া খুব ভালো লাগলো। আমরা সবাই পেয়েছি নিজের প্রিয় বইগুলো অন্যদের সাথে বিনিময় করার সুযোগ, যা নতুন বই পড়ার একটা দারুণ সুযোগ হয়ে দাঁড়ালো। এমন আয়োজন আমাদের পড়াশোনার বাইরে ভাবনাকে আরও বিস্তৃত করে, আর নতুন নতুন আইডিয়া পেতে সহায়তা করে। আগামী দিনের বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানও বেশ আকর্ষণীয় হবে বলে মনে হয়। আশা করছি, এই উৎসব আমাদের সবাইকে আরও বেশি জ্ঞানী, সৃজনশীল আর আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে। ভালো লাগলো চুয়েট ডিবেটিং সোসাইটির এমন উদ্যোগ দেখে!

আয়োজকরা মনে করেন, এই উৎসব যুক্তি, সংস্কৃতি ও সৃজনশীলতার চর্চায় তরুণদের জন্য অনুপ্রেরণার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।