You are currently viewing রাজপথ

রাজপথ

  • Post published:November 21, 2015

গত ২নভেম্বর চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রলীগের দুগ্রুপে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা নিয়ে চুয়েটনউজ২৪ এর মুক্তচিন্তা বিভাগে লিখেছেন চুয়েটের ছাত্রলীগ নেতা, কম্পিউটারকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিন মাহদি স্নিগ্ধ

রাজপথ স্লোগানে মুখর না করে আজ প্রাণের ক্যাম্পাস চুয়েট থেকে বহু দূরে বসে লিখছি। ঘটনা হয়ত এমন হত না, যদি যে যার জায়গা থেকে আগে থেকেই সচেতন থাকত।

প্রথমেই আহ্বান জানাচ্ছি সংগঠনভিত্তিক বা ব্যাক্তিগত চিন্তার বাইরে থেকে বের হয়ে ঘটনাটিকে বিশ্লেষণ করার। “এটা পলিটিক্যাল ঝামেলা”, “এটা তোদের ঝামেলা” ইত্যাদি সাধারণ কিছু বলে মাথা থেকে যুক্তির কথা না বের করে আত্মসম্মানের জায়গা থেকে চিন্তা করার সময় এখন।

এবার ঘটনার পিছনের ঘটনা বলি। খবরে ছাত্র ইউনিয়ন, প্রশাসন এবং সাধারন শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বলা হয়, ঘটনার সূত্রপাত ঘটনার দুই দিন আগে থেকে অর্থাৎ ৩১অক্টোবর এক জুনিয়র শিক্ষার্থীকে মারধর করা নিয়ে। ঘটনার সূত্রপাত আসলে এর তিন মাস আগে থেকে। দাঁড়ি কাটা, আদবের সাথে চলা, হাফপ্যান্ট পরা, অনুষ্ঠানে আপ্যায়ন(!) না করা এই রকম ছুতায় চুয়েটে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের গায়ে হাত তোলা এখন রীতিমত সংস্কৃতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। অসংখ্য ঘটনার মাঝে ছিল ১৩ ব্যাচের কম্পিউটারকৌশল বিভাগের কয়েকজন শিক্ষার্থীকে, বিভিন্ন সময়ে পুরকৌশল বিভাগের ১৪ ব্যাচের পাঁচজন শিক্ষার্থীকে এবং ১৪ ব্যাচের যন্ত্রকৌশল বিভাগের একজন শিক্ষার্থীকে আদব কায়দা(!) শেখানোর নামে বাজেভাবে মারধর হয়। এছাড়া ঐ একই গোষ্ঠীর কারনে বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ঝামেলা সৃষ্টি, অনুষ্ঠানে জুনিয়র শিক্ষার্থীদের প্রহার করা এবং সিনিয়র ব্যাচের শিক্ষার্থীদের সাথে চরম বেয়াদবির ঘটনা ঘটলেও তখন ছাত্র ইউনিয়নকেও দেখা যায়নি এগিয়ে আসতে এমনকি যে সংগঠনের অনুষ্ঠান, ঐ সংগঠনগুলোকেও কিছু করতে দেখা যায়নি। যদি তখনি শাস্তির দাবি করা হত তবে চুয়েট ক্যাম্পাসে একদিনে এত নোংরামি দেখতে হতো না।এই সব ঘটনা তৎক্ষণাৎ সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে বার বার জানানোর পরও না শাস্তি হয়েছে, না সমস্যার জট কমেছে। বরং বার বার ঘটা ঘটনাগুলো উপযুক্ত শাস্তির অভাবে আরও ভয়ংকর হয়েছে।


 

ক্যাম্পাসে চুয়েটিয়ান হিসাবে আগে এসেছি, ছাত্রলীগে পরে যোগ দিয়েছি। ক্যাম্পাসের ভালমন্দ বিচারটা তাই ঢালাও ছাত্রলীগ হিসাবে করা হয় না, আগে চুয়েটিয়ান পরিচয়টা বড় হয়ে দাঁড়ায়। তবে ভালো লাগার কথা হল এই যে, ক্যাম্পাসের রাজনীতির এবং প্রশাসনের যে পরিবর্তন প্রয়োজন সেটা সবাই হাঁড়ে-হাঁড়ে টের পাচ্ছে। আবার সবার সচেতন হতে হবে। নাহলে হয়ত আরো নোংরামি করা হবে, আরো রক্ত  ঝরবে চুয়েটের রাস্তায়। সেই রক্ত এবারের মত লাল হবে, নাকি নীল হবে সেটা সময়ই বলে দিবে।


 

এবার মূল ঘটনায় আসা যাক। হ্যা, বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগ কঠোর অবস্থানে ছিল। এখানে আমাদের স্বার্থ যতটুকু তারচেয়ে বাধ্যবাধকতার জায়গা বেশি। অন্যান্য সংগঠন যেখানে মার খাওয়ার পর জুনিয়রদের ঘটনা চেপে যেতে বলে, আমারা সেখানে “ওভারপ্রটেক্টিভ সিনিয়র” না হয়ে জুনিয়রদের প্রতিবাদ করতে শিখিয়েছি। ১৩ বা ১৪ব্যাচের অনেক সাধারন ছেলে যখন নির্যাতনের বিচার এ আন্দোলন করছে তখন তাদেরই সিনিয়র ১১ব্যাচের কিছু শিক্ষার্থী ক্লাসে ছুটে গেসে? ক্লাসে যাবার সময় এরা শুধু দুই পক্ষ ছাত্রলীগ দেখেছে, কত গুলো ছেলে বিচার চাচ্ছে, কেনো চাচ্ছে তা বুঝেওনি, দেখেওনি। ক্যাম্পাস তখন বন্ধ দিল কি দিল না সেই বিতর্কে এখন যাব না, কিন্তু জুনিয়র মারা হবে, সিনিয়রকে অপমান করা হবে, প্রোগ্রামে ঝামেলা হবে এর সমাধান কি একটাই?? ক্যাম্পাস বন্ধ???

নাইজেরিয় একটি প্রবাদে আছে ‘না জানা খারাপ, জানার চেষ্টা না করা আরও খারাপ’। ঘটনাগুলো জানলে হয়ত ঐ আন্দোলনে দাঁড়াতে কোন সংগঠনভিত্তিক লেবেল লাগাতোনা কেউই।

ক্যাম্পাসে চুয়েটিয়ান হিসাবে আগে এসেছি, ছাত্রলীগে পরে যোগ দিয়েছি। ক্যাম্পাসের ভালমন্দ বিচারটা তাই ঢালাও ছাত্রলীগ হিসাবে করা হয় না, আগে চুয়েটিয়ান পরিচয়টা বড় হয়ে দাড়ায়। তবে ভালো লাগার কথা হল এই যে, ক্যাম্পাসের রাজনীতির এবং প্রশাসনের যে পরিবর্তন প্রয়োজন সেটা সবাই হাঁড়ে-হাঁড়ে টের পাচ্ছে। আবার সবার সচেতন হতে হবে। নাহলে হয়ত আরো নোংরামি করা হবে, আরো রক্ত  ঝরবে চুয়েটের রাস্তায়। সেই রক্ত এবারের মত লাল হবে, নাকি নীল হবে সেটা সময়ই বলে দিবে।

এক ঝামেলা দিয়ে অনেকগুলো অপ্রিয় দিক আমাদের সামনে এসেছে। অনেক গুলো জুনিয়র সেদিন আহত হতে পারত, অনেক সাধারণ শিক্ষার্থী সেদিন হতাহত হতে পারতো শুধু প্রশাসনের গাফলতির কারনে। একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের যে ঐতিহ্য মাটিতে মিশিয়ে দেয়া হয়েছে, যে স্বকীয়তাকে সস্তা করে ফেলা হয়েছে বঙ্গবন্ধু হল ছাত্রলীগ এই অবস্থা থেকে চুয়েট ক্যাম্পাসকে প্রকৃতপক্ষে একটি ক্যাম্পাসে রূপ দেবে ইনশাল্লাহ।

 

( মুক্ত চিন্তা বিভাগের সকল লেখা চুয়েটের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত মতামত। এ ব্যাপারে সাথে চুয়েটনিউজ ২৪ কোনরূপ দায়িত্ব নেবে না। )