ব্রেকিং নিউজ

মহানবী(স:) কে নিয়ে চুয়েট শিক্ষার্থীর কটূক্তি।

তাসনিয়া মাসিয়াতঃ

গত ১৯ মার্চ মহানবী হযরত মুহম্মদ (স:)-কে নিয়ে অশালীন মন্তব্য করেছেন চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) পুরকৌশল বিভাগের শেষ বর্ষের শিক্ষার্থী সৌরভ চৌধুরী।সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে  তিনি এই ধরনের কটূক্তি করেন। এ সময় তিনি মহানবী (স:) অশ্লীল ভাষায় গালিগালাজ করেন।এছাড়া আরো বিভিন্ন পোস্টে তিনি মুসলমানদের উদ্দেশ্য করে নানা ধরনের অপ্রকাশযোগ্য কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা মনে করছে তীব্র ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাব থেকেই তার এধরণের কর্মকাণ্ড।

শিক্ষার্থীদের থেকে জানা যায়, তিনি শিক্ষাজীবনে অত্যন্ত মেধাবী একজন ছাত্র। তিনি বর্তমানে পুরকৌশল বিভাগের সর্বোচ্চ সিজিপিএ ধারণ করছেন। আর তার এই মেধাই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য। পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী শহীদুল ইসলাম বলেন, তিনি হয়তো এখন শিক্ষক হবেন, পরে বিভাগীয় প্রধান কিংবা ডিন হবেন, কোনো হলের প্রভোস্ট কিংবা  ছাত্র কল্যাণ এর পরিচালক হিসেবেও তাকে দায়িত্ব দেওয়া হরে পারে। অথবা  সরকারী বড় কোন দপ্তরের কোন নীতিনির্ধারক এর পদে বসলেন। কিন্তু তার যে ধরনের মন মানসিকতার বহিঃপ্রকাশ আমরা দেখলাম তাতে অদূর আমরা, বিশ্ববিদ্যালয় তথা দেশের জনগণ শঙ্কা বৈকি ভালো কিছু আশা করতে পারছে না।

তবে তার এমন উগ্র আচরণ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন চুয়েটের অন্যান্য শিক্ষার্থীরা। তার সহপাঠীরা সামাজিক মাধ্যমে ফেসবুকে চুয়েট আড্ডাবাজ নামক একটি গ্রুপে বলেছেন, তার এই ধরনের ঘটনা নতুন নয়। বার বার এধরণের আচরণ করায় তারা এবার তার বহিষ্কারের দাবী জানান।

এসব বিষয়ে অভিযুক্ত সৌরভ চৌধুরী লজ্জিত ও ক্ষমা প্রার্থী হয়ে বলেন, বিভিন্ন সময়ে হিন্দুদের দেবদেবীদের প্রতি বিভিন্ন বিদ্বেষমূলক বক্তব্য এবং  সাম্প্রতিক কালে হিন্দুধর্মাবলম্বীদের প্রতি যে অত্যাচার হচ্ছে সেথেকেই প্রভাবিত হয়ে আমি এধরণের একটি মন্তব্য করছি।

এছাড়া তিনি যেধরনের উগ্রবাদী মনোভাব পোষণ করছেন এমন পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী ছাত্র হিসেবে জাতি তার উপর আস্থা রাখতে পারবে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, আমি হিতাহিত জ্ঞানশূন্য হয়ে এমন কাজ করে ফেলেছি যা নিয়ে আমি অত্যন্ত অনুতপ্ত । ভবিষ্যতে তিনি এমন হিতাহিত জ্ঞান শূন্য হবেন না বলেও অঙ্গিকার করেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ পরিচালক অধ্যাপক ড. রেজাউল করিম বলেন, আমরা বিষয়টি ইতিমধ্যেই জেনেছি,আমি নিজেও চুয়েট আড্ডাবাজে মুসলিম অমুসলিম সবার বক্তব্য পড়েছি। তারা তাদের ক্ষুব্ধ মনোভাব প্রকাশ করার পাশাপাশি তার শাস্তির দাবিও জানিয়েছে।  এসব বিষয়ে আসলে কোনো ছাড় দেওয়ার সুযোগ নাই। এর আগেও এমন একটি বিষয় বিশ্ববিদ্যালয়ে ঘটেছে, আমরা আমাদের করনীয় করেছিলাম। আমি ইতিমধ্যেই উপাচার্য স্যারের সাথে কথা বলেছি। তিনি আমাদেরকে তথ্য উপাত্ত সংগ্রহের নির্দেশ দিয়েছেন। তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে আগামীকাল শৃঙ্খলা কমিটির আলোচনা সভা  হতে পারে।

উল্লেখ্য, গত অক্টোবর মাসে নবী করিম(স:)-কে নিয়ে কটূক্তি করায় রায়হান রোমান নামের এক শিক্ষার্থীকে বহিষ্কার করে চুয়েট প্রশাসন।

তারিখ : ২০/০৩/২০২১