You are currently viewing পূজার বন্ধের পর আমরা হল খোলার প্রস্তুতি নেব

পূজার বন্ধের পর আমরা হল খোলার প্রস্তুতি নেব

  • Post published:October 5, 2021
  • Post comments:0 Comments

চুয়েট নিউজ২৪ ডেস্কঃ

যথারীতি আজ(৫ অক্টোবর) ও পরীক্ষা বর্জন করছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের(চুয়েট) ১ম বর্ষের ৮৯০ জন শিক্ষার্থী। অন্যদিকে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার ব্যাপারে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে পারেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয় কবে খুলতে পারে, বর্জন করা পরীক্ষার ব্যাপারে কি হবে, চুয়েট নিউজ২৪ কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব বিষয়ে কথা বলেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রফিকুল আলম।

চুয়েট নিউজ২৪: তিন বর্ষের পরীক্ষার্থীরা পরীক্ষা বর্জন করেছে বিষয়টি আপনি কিভাবে দেখছেন?

অনলাইন পরীক্ষার নির্দেশনা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মাঝে কিছু ভুল ধারণা তৈরি হয়েছে। পরীক্ষা চলাকালীন কেউ ৫ মিনিটের বেশি ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় থাকলে পরীক্ষা বাতিল হবে না। পরীক্ষার্থী পরীক্ষা পর্যবেক্ষক, বিভাগীয় প্রধানের সাথে যোগাযোগ করবে এবং তাঁরা বিষয়টি আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিবেন

চুয়েট নিউজ২৪: যেসব পরীক্ষা বর্জন হয়েছে সেসব পরীক্ষা কিভাবে ও কবে হবে?

এই বিষয়ে আমার একক কোনো সিদ্ধান্ত নেই। এই বিষয়ে সব বিভাগীয় প্রধান এবং ডিনগণ একত্রে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

চুয়েট নিউজ২৪: অনলাইন পরীক্ষায় অংশগ্রহণে অনেক শিক্ষার্থী ডিভাইস সংকটকে বড় বাধা হিসেবে দেখছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের জন্য কোনো লোণের ব্যবস্থা করা হবে কিনা?

অনলাইন ক্লাস শুরু করার সময় আমরা ইউজিসি থেকে ডিভাইস লোণের ব্যবস্থা করেছিলাম।

চুয়েট নিউজ২৪: কিন্তু শিক্ষার্থীরা বলছে সেটা প্রয়োজণের তুলনায় অনেক কম। যা দিয়ে ভালো ডিভাইস সম্ভব না। আর কোনো কোনো বিশ্ববিদ্যালয় ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত লোণ দিয়েছে।

আমরা লোণ নিয়ে উচ্চ মহলে যথেষ্ট চেষ্টা করেছি। আর বিশ্ববিদ্যালয় খুললে আমরা সব অফলাইন করে দিবো। অনলাইনে এমনিতে অনেক সমস্যা। অনলাইন মাধ্যমে আমাদের সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও নেটওয়ার্ক।

চুয়েট নিউজ২৪: অনলাইন পরীক্ষা বর্জন করা তিন ব্যাচ সামনের পরীক্ষা গুলো অফলাইনে দিতে চায়।

আমরা যখন অফলাইনে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত করতে চাই, তারা চায় তখন অনলাইনে। আবার আমরা যখন অনলাইনে অনুষ্ঠিত করতে চাই, তার তখন চায় অফলাইনে। আমরা অনলাইনে পরীক্ষা নিতে চাই শিক্ষাবর্ষ এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য। সব শিক্ষার্থীকে এক সাথে হলে আনা সম্ভব না। আমরা প্রথমে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের আনবো। এরপর অন্যদের আনবো। সেক্ষেত্রে বাকি তিন বর্ষের একাডেমিক ক্যালেন্ডার পরিবর্তন করতে হবে। এসবে যদি ২ মাস লাগে। আমরা কি তাদের এতদিন বসিয়ে রাখবো?

চুয়েট নিউজ২৪: ১৭ অক্টোবর বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা গুচ্ছ পদ্ধতিতে হবে। চুয়েটে তার কেন্দ্র পড়তেছে। চুয়েট এ পরীক্ষা নিতে পারলে, নিজস্ব পরীক্ষা গুলো অফলাইনে নিচ্ছেনা কেন?

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী গুচ্ছ পদ্ধতিতে ভর্তি পরীক্ষা হচ্ছে। সরকারি পরিকল্পনাকে আমাদের সবার উচিৎ সহযোগিতা করা। ওই পরীক্ষা একদিনে হবে। ওটা যথাযথ স্বাস্থ্যবিধি মেনে নেওয়া হবে।

চুয়েট নিউজ২৪: ইতিমধ্যে অনেক বিশ্ববিদ্যালয় হল খুলে দিচ্ছে। চুয়েট কবে নাগাদ খুলতে পারে?

আমরা হল খোলার পরিকল্পনা করছি। পূজার বন্ধের পর আমরা হল খোলার প্রস্তুতি নিবো।

চুয়েট নিউজ২৪: প্রায় ১৮ মাস হয়ে যাচ্ছে কিন্তু চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থীদের কোনো চূড়ান্ত পরীক্ষা হচ্ছে না। তাদের পরীক্ষার ব্যাপারে প্রশাসন কি ভাবছে।

৭ অক্টোবরের মধ্যে চতুর্থ বর্ষের শিক্ষা কার্যক্রম শেষ হয়ে যাবে, এরপর তাদের পরীক্ষার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত প্রকাশ করা হবে।

চুয়েট নিউজ২৪: টিকা নেওয়া শিক্ষার্থীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হলে ওঠানোর জন্য প্রশাসনকে আহবান করছে।

এখন যাদের টিকা দেওয়া হয়েছে যদি শুধু তাদের হলে উঠানো হয়। তাদের সাথে বাকিরাও যদি হলে উঠে পড়ে, তাহলে প্রশাসন কয়জনকে আটকাবে?

চুয়েট নিউজ২৪: করোনার কারণে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবন দীর্ঘায়িত হচ্ছে, শিক্ষাবর্ষ কমিয়ে আনতে কি কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে?

একাডেমিক ক্যালেন্ডার এগিয়ে নিতেই আমরা অনলাইন পরীক্ষার ব্যবস্থা করেছি। যেহেতু আমাদের অনেক শিক্ষার্থীই এখনো করোনা ভ্যাকসিনের আওতায় আসেনি, তাই আমরা এই মুহূর্তে ক্যাম্পাস ও হল খুলে দিতে পারছি না। তাই বিকল্প হিসেবে এই অনলাইন পরীক্ষা। পরবর্তীতে আমরা শীতকালীন ছুটিসহ বিভিন্ন ছুটি কমিয়ে এনে আমরা শিক্ষাবর্ষ কমিয়ে আনার চেষ্টা করবো।

Leave a Reply