বর্ণাঢ্য আয়োজনে চুয়েটের ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন

ইবাদ হোসেন:

বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) উদযাপিত হয়েছে ২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবস। মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) দিনব্যাপী নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উদযাপন করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি।

সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগ ও শাখা থেকে ব্যানারসহ র‌্যালি নিয়ে স্বাধীনতা চত্বর প্রাঙ্গণে সমবেত হওয়ার মধ্য দিয়ে দিনের কর্মসূচি শুরু হয়। পরে সেখান থেকে আনন্দ র‌্যালি বের করা হয়। দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে অনুষ্ঠানে যোগ দেন প্রধান অতিথি আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এ সময় চট্টগ্রাম-২ আসনের সংসদ সদস্য সরোয়ার আলমগীর, চট্টগ্রাম-৬ আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরীসহ অন্যান্য অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
দুপুর ১২টা ৩০ মিনিটে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের সঙ্গে জাতীয় পতাকা ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পতাকা উত্তোলন করা হয়। পরে স্মারক বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এবং চট্টগ্রাম ওয়াসার পানি সংযোগ লাইনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়।

দুপুর ১টায় আলহাজ্ব জসিম উদ্দিন ফাউন্ডেশনের উপহার হিসেবে দেওয়া ছয়টি বাসের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আনুষ্ঠানিকভাবে বাসগুলোর চাবি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেন।

দুপুর ১টা ১৫ মিনিটে কেন্দ্রীয় অডিটোরিয়ামে চুয়েটের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে বিশ্ববিদ্যালয় দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এমপি। সম্মানিত অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনের সংসদ সদস্য গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী।আলোচনা সভায় বিশেষ বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালয়েশিয়ার ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি পেট্রোনাসের (ইউটিপি) পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আইআর. ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম। এ সময় চুয়েটের বিভিন্ন অনুষদের ডিন, রেজিস্ট্রার, ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের পরিচালকসহ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “২৪তম বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের আয়োজনে আমাকে অতিথি করায় আমি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। ২৪ বছর একটি দীর্ঘ সময়। এই দীর্ঘ সময়ে চুয়েটের অগ্রগতি কতটুকু হয়েছে, তা পর্যালোচনা করতে হবে। চুয়েটের বর্তমান উপাচার্যের মধ্যে আমি কাজের স্পৃহা লক্ষ্য করেছি, যা অত্যন্ত ইতিবাচক।”

তিনি আরও বলেন, “বিশেষ বক্তা মাওনসারকে আমি জিজ্ঞেস করেছি, এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তিনি কীভাবে মূল্যায়ন করেন। তিনি শিক্ষার্থীদের ভূয়সী প্রশংসা করেছেন। পাশাপাশি চুয়েটের ইনকিউবেটরকে শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনে আরও কার্যকরভাবে কাজে লাগাতে হবে। এখানে তিন ধরনের প্রতিষ্ঠানের অংশীদারত্ব থাকায় কাজের ক্ষেত্রে কিছুটা জটিলতা তৈরি হতে পারে। এ বিষয়ে আমি যথাযথ পদক্ষেপ নেব।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে গিয়াসউদ্দিন কাদের চৌধুরী এমপি বলেন, “আমাদের দেশের শিক্ষার্থীরা দেশ থেকে পড়াশোনা সম্পন্ন করে সিলিকন ভ্যালিতে চাকরি করছেন। তাদের মেধা ও দক্ষতাকে আমাদের দেশের কাজেও লাগাতে হবে। এ জন্য আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও আলোকিত করতে হবে।”

ইউনিভার্সিটি টেকনোলজি পেট্রোনাস (ইউটিপি) মালয়েশিয়ার পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান আইআর. ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার বলেন, “আমি চুয়েট এর অগ্রযাত্রা দেখে আশান্বিত। মালয়েশিয়ার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সাথে চুয়েট এর সমঝোতা স্মারক হতে পারে। আমরা একসাথে কাজ করে শিক্ষা—গবেষণাকে অনেকদূর এগিয়ে নিতে পারি।”

সভাপতির বক্তব্যে চুয়েটের উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়ের র‍্যাংকিং উন্নয়ন করে কমপক্ষে এশিয়া মানে নিয়ে যেতে চাই। আমি বিশ্ববিদ্যালয়ে বিশ্বমানের শিক্ষা—গবেষণা নিশ্চিত করতে চাই। আশার কথা এই যে, আমরা সব উদ্যোগে বর্তমান সরকারসহ সকলের সহযোগিতা ও সমর্থন পাচ্ছি।”

শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে বায়োমেডিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এ.এন.এম. সামিউল আলম বলেন, “আয়োজনটি চুয়েটের একাডেমিক কার্যক্রমের পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সহশিক্ষা ও উদ্ভাবনী কর্মকাণ্ডের একটি চমৎকার প্রদর্শনী। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়, চুয়েটের শিক্ষা শুধু বই-খাতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং হাতে-কলমে প্রকৌশল ও প্রযুক্তিভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ ধরনের আয়োজন শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদেরও অনুপ্রাণিত করবে। ভবিষ্যতে এ ধরনের আয়োজন আরও বাড়বে—এটাই প্রত্যাশা।”

এর আগে সোমবার (৩১ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয় দিবসের প্রথম দিনে ক্লাব ফেস্ট ও জ্বালানি বিষয়ক বক্তৃতার আয়োজন করা হয়। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-৮ আসনের সংসদ সদস্য এরশাদ উল্লাহ। বক্তৃতায় বিষয়ভিত্তিক আলোচক হিসেবে ছিলেন ইউটিপির পেট্রোলিয়াম ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ আজুয়ান বিন মাওনসার। এতে জ্বালানি খাতসংশ্লিষ্ট শিক্ষক, গবেষক, পেশাজীবী ও উদ্যোক্তারা অংশ নেন।

প্রসঙ্গত, ১৯৬৮ সালে ‘চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ’ হিসেবে চুয়েটের শিক্ষা কার্যক্রম শুরু হয়। ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠানটি বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি (বিআইটি), চট্টগ্রামে রূপান্তরিত হয়। পরবর্তীতে ২০০৩ সালের ১ সেপ্টেম্বর ‘চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে প্রতিষ্ঠানটি। প্রতিষ্ঠার পর থেকে শিক্ষা, গবেষণা ও উদ্ভাবনে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে দেশের অন্যতম শীর্ষ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান হিসেবে এগিয়ে চলছে চুয়েট।