৮ম পে-স্কেলে বৈষম্যের প্রতিবাদে দেশের ৩৬টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের মত চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) গতকাল রবিবার শিক্ষকদের পূর্ণদিবস কর্মবিরতি কর্মসূচি পালন করা হয়ছে। একইসাথে সকাল ৮টা থেকে ১টা পর্যন্ত অবস্থান ধর্মঘট কর্মসূচিও পালন করা হয়। এসময় চুয়েট শিক্ষক সমিতির একটি আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে বক্তারা বলেন, ৮ম জাতীয় বেতন স্কেল-এ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের বেতন-মর্যাদার কোনরূপ সুরাহা না হওয়ায় শিক্ষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে। পে-স্কেল নিয়ে অসন্তুষ্টির বিষয়টি এ সম্পর্কিত গঠিত কমিটিকে দেখভাল করার দায়িত্ব দেয়া হলেও এ ব্যাপারে দীর্ঘসূত্রিতার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
জানা যায়, পূর্বের বেতন স্কেল সমূহে টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড এর বিধান থাকায় শিক্ষকবৃন্দ তাদের নির্ধারিত সর্বোচ্চ অধ্যাপক পদ (যা তৃতীয় গ্রেড) থেকে দ্বিতীয় গ্রেড ও প্রথম গ্রেড এ উর্ত্তীণ হতে পারতেন। কিন্তু টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড বাতিল করার ফলে শিক্ষকগণ সর্বোচ্চ তৃতীয় গ্রেড পর্যন্তই নিয়োগ লাভ করতে পারবেন ।
শিক্ষকরা বলেন, শিক্ষকরা যদি আজীবন তৃতীয় গ্রেডে অবস্থান করলে সেক্ষেত্রে শিক্ষকতার মতো মহান পেশার সম্মানটা আর থাকে না। যেখানে সচিব বা সম পদমর্যাদার কর্মচারীরা প্রথম গ্রেডে অবস্থান করবেন এবং আনুষঙ্গিক সুবিধাদি প্রাপ্য হন, সেখানে শিক্ষকদের ক্ষেত্রে তৃতীয় গ্রেডে থেকেই চাকুরী থেকে অবসর নেয়া হবে অত্যন্ত অসম্মানজনক।
চুয়েট শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ড. সুদীপ কুমার পাল সভায় তার বক্তব্যে বলেন, একজন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষককে উচ্চতর পদে নিয়োগের জন্য পিএইচ ডি ডিগ্রী সহ স্বীকৃত জার্নালে প্রকাশনা থাকতে হয় যার গুরুত্ব সবাই অনুধাবন করবেন বলে আমার বিশ্বাস। শিক্ষাকে গুরত্বের সাথে বিবেচনা না করলে এবং মেধাবী ছাত্র-ছাত্রীদের এ পেশাতে অনাগ্রহ তৈরী হলে অদূর ভবিষ্যতে মানুষ তৈরীর কারিগর বিশ্ববিদ্যালয় সমূহ মেধাশূণ্য হয়ে পড়বে। এছাড়াও পার্শ্ববর্তী দেশগুলোর উদাহরণ দেখিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশের পার্শ্ববর্তী দেশসমূহ যেমন ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলংকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের জন্য স্বতন্ত্র স্কেল বিদ্যমান রয়েছে যা উক্ত দেশ সমূহের রাষ্ট্রীয় বেতন স্কেলের চেয়ে অনেক গুন বেশি।
তারিখ: ১৪-০৯-২০১৫
