চুয়েটনিউজ২৪ডেস্ক:
গত কয়েক দিনের টানা বর্ষণ এবং পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ভয়াবহ বন্যার কবলে পড়েছে। ডলু ও সাঙ্গু নদীর পানি বিপদ সীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এতে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, বাঁশখালী ও চকরিয়া উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।
বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে অসংখ্য বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও সড়ক যোগাযোগের বিভিন্ন অংশ। অসংখ্য পরিবার ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে, আবার অনেকে পানিবন্দি অবস্থায় মানবেতর জীবনযাপন করছেন। দুর্গত এলাকাগুলোতে বিশুদ্ধ পানি, শুকনো খাবার, শিশুখাদ্য এবং জরুরি ওষুধের সংকট দিন দিন প্রকট হয়ে উঠছে।
এমন সংকটময় সময়ে বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) আঞ্চলিক সংগঠন চট্টগ্রাম স্টুডেন্ট ফোরাম (সিএসএফ)। সংগঠনটির উদ্যোগে তিন দফায় সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চকরিয়া উপজেলার প্রায় ২০০টি বন্যাকবলিত পরিবারের মাঝে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বিতরণ করা এসব ত্রাণসামগ্রীর মধ্যে ছিল চাল, ডাল, আলু, পেঁয়াজ, মুড়ি, চিড়া, গুড়, বিস্কুট, বিশুদ্ধ পানি, প্রয়োজনীয় ওষুধ ও খাবার স্যালাইন, মোমবাতি এবং লাইটার। সংগঠনের সদস্যরা দুর্গম এলাকায় পৌঁছে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের হাতে এসব ত্রাণসামগ্রী তুলে দেন।
এ বিষয়ে সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক চুয়েটের পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী পৃথ্বীরাজ চৌধুরী বলেন, “বিপদে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শক্তি আসে সম্মিলিত উদ্যোগ থেকে। আমাদের সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ, চুয়েটের শিক্ষার্থী, শুভানুধ্যায়ী এবং দাতাদের আন্তরিক সহযোগিতায় আমরা বন্যাদুর্গত মানুষের জন্য এই ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে সক্ষম হয়েছি। আমাদের লক্ষ্য শুধু ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া নয়; সংকটের এই সময়ে মানুষের মাঝে সাহস ও আশার বার্তা পৌঁছে দেওয়াও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চকরিয়ার ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আমরা সর্বোচ্চ আন্তরিকতা নিয়ে কাজ করে যাব।”
সভাপতি পানিসম্পদ কৌশল বিভাগের একই বর্ষের শিক্ষার্থী তাহমিদ মো: তা-সীন বলেন, “চট্টগ্রাম স্টুডেন্ট ফোরাম সবসময়ই মানবিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে আসছে এবং ভবিষ্যতেও এই অঙ্গীকারে অটল থাকবে। বর্তমান বন্যা পরিস্থিতিতে আমরা সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চকরিয়ার বন্যাদুর্গত মানুষের কাছে আমাদের উপহারসামগ্রী পৌঁছে দিতে পেরেছি। এই মানবিক উদ্যোগে যারা সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন, তাঁদের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা জানাই। সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই আমরা এই সংকট মোকাবিলা করতে সক্ষম হব।”