জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চুয়েটে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

চুয়েটনিউজ২৪ ডেস্ক:

জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৭ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি, কর্মকর্তা সমিতি ও স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের যৌথ উদ্যোগে অনলাইন মাধ্যম জুমে এ সভার আয়োজন করা হয়। এর আগে সকালে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়।

সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। এতে সভাপতিত্ব করেন চুয়েট শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ। সভায় সঞ্চালকের ভূমিকা পালন করেন শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সম্পাদক মো. সামিউন বাসির।

আলোচনা সভার শুরুতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা বক্তব্য দেন। এরপর বক্তব্য রাখেন চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন, কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম, যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান এবং রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হায়দার।

সভাপতির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক ঘটনাপ্রবাহ, তৎকালীন রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিলাভের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে দিবসটির তাৎপর্য আলোচনা করেন। তিনি বলেন, ৭ নভেম্বর-পরবর্তী সময়ে সিপাহি-জনতার ঐক্য ও সংহতির মধ্য দিয়ে দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্রের যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে জাতীয় ঐক্য ও সংহতির চেতনা ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশকে নতুন অধ্যায়ে প্রবেশের প্রেরণা জুগিয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

তিনি আরও বলেন, ঐক্য ও সংহতির মাধ্যমেই যেকোনো সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও পরস্পরের মতামতের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে জাতীয় স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তিনি। এ সময় চুয়েটের বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থান ও সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

কর্মকর্তা সমিতির সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম চুয়েটের বর্তমান সংকটময় পরিস্থিতিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা, কর্মচারী ও শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ অবস্থানের প্রশংসা করেন। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সংহতি বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে সংকট মোকাবিলার আহ্বান জানান তিনি।

স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, জাতীয় ঐক্যই ৭ নভেম্বরের মূল চেতনা। দেশের যেকোনো সংকটময় পরিস্থিতিতে ছাত্র, শ্রমিক, পেশাজীবীসহ সর্বস্তরের জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা মোকাবিলা করা সম্ভব। দেশ ও প্রতিষ্ঠানের স্বার্থে ভবিষ্যতেও সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মিজানুর রহমান তাঁর বক্তব্যে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের ঐতিহাসিক ভূমিকা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, সংকটময় পরিস্থিতিতে দেশপ্রেমিক জনগণ ঐক্যবদ্ধ থাকলে যেকোনো সংকট থেকে উত্তরণ সম্ভব। ৭ নভেম্বরের ইতিহাস আমাদের সেই শিক্ষাই দেয়। দেশের উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে সবাইকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। একই সঙ্গে চুয়েটের বর্তমান সংকটের দ্রুত ও কার্যকর সমাধানে প্রধানমন্ত্রীর প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ কামনা করেন।

রসায়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. জিয়াউল হায়দার তাঁর বক্তব্যে ৭ নভেম্বরের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট ও তাৎপর্য তুলে ধরেন। পাশাপাশি চুয়েটের চলমান সংকট এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক স্বার্থ বিবেচনায় উত্থাপিত দাবিগুলো পুনর্বিবেচনার জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানান তিনি।

আলোচনা সভায় বক্তারা জাতীয় ঐক্য, সংহতি ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধের চর্চার মাধ্যমে দেশ ও জাতির অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। একই সঙ্গে চুয়েটের চলমান সংকট নিরসনে সংশ্লিষ্ট সবার কার্যকর উদ্যোগ কামনা করেন।

এদিকে দিবসটি উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের উদ্যোগে শিক্ষার্থীদের মাঝে রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়েছে। এছাড়া বাদ আসর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মসজিদে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতের কর্মসূচি আয়োজিত হয়েছে।