জলবায়ু সহনশীল আবাসনের নকশা খুঁজতে চুয়েটে জাতীয় প্রতিযোগিতা, পুরস্কার ১ লাখ টাকা

জারীন তাসমীন সাবা:

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় কম খরচে নিরাপদ ও টেকসই আবাসনের নকশা খুঁজে বের করতে চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের প্রথম জাতীয় জলবায়ু সহনশীল আবাসন নকশা প্রতিযোগিতা। ‘প্রথম নীড়-জিপি কম খরচের জলবায়ু-সহনশীল আবাসন নকশা ধারণা প্রতিযোগিতা ২০২৬’ শীর্ষক এ আয়োজনে দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অংশ নিতে পারবেন। নেটওয়ার্ক অব ইঞ্জিনিয়ার্স ফর ইমার্জেন্সি রেসপন্সের (নীড়) সহায়তায় এবং চুয়েটের গ্রিন ফর পিসের (জিপি) আয়োজনে এ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।

বাংলাদেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, নদীভাঙন, লবণাক্ততা, বন্যা ও অতিবৃষ্টির কারণে প্রতিবছর ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব এলাকার মানুষের জন্য কম খরচে নিরাপদ আবাসন তৈরির নতুন উপায় খুঁজে বের করাই এ প্রতিযোগিতার মূল লক্ষ্য। স্থানীয়ভাবে সহজলভ্য উপকরণ ও স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জলবায়ু-সহনশীল বাড়ির নকশা তৈরি করা প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান বিষয়।

পুরকৌশল, স্থাপত্য, নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা, পরিবেশবিজ্ঞান, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ভূগোল ও পরিবেশসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিতে পারবেন। ৮ আগস্ট (শনিবার) রাত ৯টা থেকে প্রতিযোগিতার নিবন্ধন শুরু হয়েছে। নিবন্ধন চলবে ২১ আগস্ট (শুক্রবার) সকাল ১০টা পর্যন্ত।

তিন ধাপে অনুষ্ঠিত হবে এ প্রতিযোগিতা। প্রথম ধাপে অংশগ্রহণকারীদের ধারণাপত্র জমা দিতে হবে। সেখান থেকে নির্বাচিত দলগুলো দ্বিতীয় ধাপে বিস্তারিত নকশা ও কারিগরি বিশ্লেষণ উপস্থাপন করবে। চূড়ান্ত ধাপে নির্বাচিত দলগুলো বিচারকদের সামনে নিজেদের প্রকল্প তুলে ধরবে।

২১ আগস্ট (শুক্রবার) রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত আইডিয়া জমা দেওয়া যাবে। প্রাথমিক ফলাফল প্রকাশ করা হবে ২৩ আগস্ট (রবিবার)। দ্বিতীয় ধাপের জন্য নির্বাচিত দলগুলোকে ৩০ আগস্টের মধ্যে বিস্তারিত নকশা জমা দিতে হবে। ১ থেকে ৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে উপস্থাপনা পর্ব। দ্বিতীয় ধাপের ফলাফল প্রকাশ করা হবে ৬ সেপ্টেম্বর। ৭ থেকে ১৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি শেষে ১৫ সেপ্টেম্বর অনুষ্ঠিত হবে প্রতিযোগিতার শেষ পর্ব।

প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন, ১ম রানার্স আপ ও ২য় রানার্স আপের পাশাপাশি সেরা টেকসই নকশা, স্থানীয় উপকরণের সর্বোত্তম ব্যবহার, সেরা উদ্ভাবনী ধারণা ও পিপলস চয়েস অ্যাওয়ার্ডসহ বেশ কয়েকটি ক্যাটাগরিতে পুরস্কার দেওয়া হবে। সব মিলিয়ে বিজয়ীরা পাবেন ১ লাখ টাকা পর্যন্ত পুরস্কার।

গ্রিন ফর পিস, চুয়েটের সভাপতি পুরকৌশল বিভাগের চতুর্থ বর্ষের শিক্ষার্থী নাফিস হাসান নাফি বলেন, "এই আয়োজনের মাধ্যমে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় তরুণ প্রকৌশলী, স্থপতি ও গবেষকদের জন্য একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে। একই সঙ্গে ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে উদ্ভাবনী, পরিবেশবান্ধব ও টেকসই আবাসন নিয়ে কাজ করতে উৎসাহিত করবে। আমরা আশা করছি, দেশের ৩০টির বেশি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ৫০০-এর বেশি শিক্ষার্থী প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন।"

নেটওয়ার্ক অব ইঞ্জিনিয়ার্স ফর ইমার্জেন্সি রেসপন্সের সহ প্রতিষ্ঠাতা এবং আয়োজক কমিটির আহ্বায়ক প্রকৌশলী ইশতিয়াক রায়হান মাহমুদ বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে দেশের উপকূলীয় ও দুর্যোগপ্রবণ এলাকায় নিরাপদ আবাসন নিশ্চিত করা একটি গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ। স্থানীয় উপকরণ ও জ্ঞানকে আধুনিক প্রকৌশল প্রযুক্তির সঙ্গে মিলিয়ে কম খরচে নিরাপদ আবাসনের নকশা তৈরি করা প্রয়োজন।"

সংগঠনটির প্রতিষ্ঠাতা প্রকৌশলী সাহিদুজ্জামান কিরণ বলেন, "জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্বল্পব্যয়ে নিরাপদ ও টেকসই আবাসনের নতুন ধারণা খুঁজে বের করাই এ আয়োজনের মূল লক্ষ্য। নীড় ও জিপি-এর টিম সমন্বিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে। সকলের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এই আয়োজনটি একটি সুশৃঙ্খল, মানসম্মত ও প্রভাবশালী আইডিয়া প্রতিযোগিতা হিসেবে সফল হবে-এটাই আমাদের প্রত্যাশা।"

‘ভাবো, উদ্ভাবন করো, সাড়া দাও’ – এই স্লোগানকে সামনে রেখে নিরাপদ, টেকসই ও জলবায়ু-সহনশীল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যেই প্রতিযোগিতাটির উদ্যোগ নেওয়া বলে জানিয়েছে আয়োজকরা।