প্রায় ৪০ টি ক্লাবের প্রতিনিধিদের সাথে মতবিনিময় করলেন চুয়েট উপাচার্য

জারীন তাসমীন সাবা

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) নবনিযুক্ত উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমের সঙ্গে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনের প্রতিনিধিদের এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। ৪ আগস্ট (মঙ্গলবার) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাডেমিক কাউন্সিল কক্ষে আয়োজিত এ সভায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রায় ৪০টি ক্লাবের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। সভা সঞ্চালনা করেন ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের (ডিএসডব্লিউ) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম।

সভায় শিক্ষার্থীরা ক্লাব পরিচালনার নানা সীমাবদ্ধতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরেন। আলোচনায় স্বাস্থ্যবিমা (হেলথ ইন্স্যুরেন্স) চালুর উদ্যোগ, বাসসংকট নিরসন, সেমিনার কক্ষ ব্যবহারের সুবিধা বৃদ্ধি, বিভিন্ন কর্মসূচিতে চুয়েট বাস ও মাইক্রোবাস ব্যবহারের ফি কমানো, অডিটোরিয়াম ভাড়া হ্রাস এবং ক্লাবগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের বিষয় গুরুত্ব পায়।

সভায় উপস্থিত চুয়েট ফটোগ্রাফিক সোসাইটির সভাপতি শাফীক মাহমুদ বলেন, ভিসি স্যারের উদ্যোগে বিভিন্ন ক্লাবের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনায় বসা, তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনা এবং উত্থাপিত বিষয়গুলো বিবেচনায় নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া নিঃসন্দেহে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। আশা করি, এই শিক্ষার্থীবান্ধব ও অংশগ্রহণমূলক মনোভাব ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে এবং এর মাধ্যমে ক্যাম্পাসের সহশিক্ষা কার্যক্রম, ক্লাব সংস্কৃতি ও শিক্ষার্থীদের সৃজনশীল অংশগ্রহণ আরও সমৃদ্ধ হবে।

অন্যদিকে বসুন্ধরা শুভসংঘ, চুয়েট শাখার সাধারণ সম্পাদক লাইবা তাবাসসুম বলেন, ক্লাবগুলোকে নিয়ে এভাবে আলাদাভাবে মতবিনিময় সভার আয়োজন সত্যিই প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এই সভায় শুধু ক্লাব-সংক্রান্ত বিষয়ই নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ও উঠে এসেছে। ভিসি মহোদয় মনোযোগ সহকারে সব বিষয় নোট করেছেন এবং আমরা আশাবাদী যে খুব শিগগিরই ক্লাবগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হবে। এছাড়া ক্লাবগুলো নিয়ে ভিসি মহোদয়ের সুদূরপ্রসারী ও ইতিবাচক পরিকল্পনা সম্পর্কেও আমরা অবগত হয়েছি। পরিকল্পনাগুলো বাস্তবায়িত হলে চুয়েটিয়ানরা আরও বেশি প্রোডাক্টিভ ও ইফিশিয়েন্টভাবে কাজ করার সুযোগ পাবে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের সামগ্রিক উন্নয়নেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের বক্তব্যের জবাবে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েম বলেন, আমরা চাই চুয়েটের সব কার্যক্রম একটি সুন্দর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থার মধ্যে পরিচালিত হোক। শিক্ষার্থীদের জন্য কীভাবে বিষয়গুলো আরও সহজ করা যায় এবং তাদের যৌক্তিক দাবিগুলো কীভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন করা যায়, সে লক্ষ্যেই আমরা কাজ করছি। বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু সীমাবদ্ধতা অবশ্যই রয়েছে, তবে সেগুলো অতিক্রম করে শিক্ষার্থীদের সর্বোচ্চ সুবিধা নিশ্চিত করতে আমরা আন্তরিকভাবে চেষ্টা করব। সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া সংগঠনগুলো বিশ্ববিদ্যালয়ের ইতিবাচক ভাবমূর্তি গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আমি বিশ্বাস করি।

ছাত্রকল্যাণ অধিদপ্তরের (ডিএসডব্লিউ) পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা সবসময় কাজ করে যাচ্ছি। ক্লাবগুলোর কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে এবং শিক্ষার্থীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধানে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করার চেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

সভার শেষে প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিয়মিত মতবিনিময় অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারী ক্লাব প্রতিনিধিরা মনে করেন, এ ধরনের আলোচনা প্রশাসন ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া বাড়ানোর পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহশিক্ষা কার্যক্রমকে আরও সমৃদ্ধ করবে।